করোনার নামে লকডাউন দিয়ে,মসজিদ-মাদ্রাসা বন্ধ করা যাবে না: হেফাজত

✍ ডেস্ক রিপোর্ট ,                                                              

 করোনা মহামারি নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকার যে সর্বাত্মক লকডাউনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে তখনও মসজিদ-মাদ্রাসায় কোনো বিধিনিষেধ আরোপ না করার দাবি জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। এছাড়া রমজানে তারাবি, জুমা, ইতেকাফসহ সব আমল স্বাভাবিকভাবে অব্যাহত রাখতে মসজিদ খোলা রাখার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

রবিবার বিকালে হাটহাজারী মাদ্রাসায় সংবাদ সম্মেলনে জুনায়েদ বাবুনগরী এই দাবি জানান। এ সময় হেফাজতের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে হেফাজতের কেন্দ্রীয় কমিটির জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বাবুনগরী সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘লকডাউন দিয়ে আমাদের মসজিদ-মাদ্রাসা বন্ধ করা যাবে না। নুরানি, দীনি, কওমি, যেখানে হাদিস-কুরআন পড়ানো হয়, সেগুলো বন্ধ করা যাবে না। আমরা নুরানি-হেফজখানা চালু রাখছি। যেখানে কুরআন-হাদিস পড়ানো হয়, এর বরকতে করোনা আসবে না। আল্লাহর রহমতে মাদ্রাসার কোনো ছাত্র করোনায় আক্রান্ত হননি। যারা বেশি করোনা থেকে বাঁচতে চায় তাদের করোনা ধরে।’

বাবুনগরী বলেন, ‘করোনার নামে লকডাউন দিয়ে মাদ্রাসা বন্ধ করা যাবে না। জামাত, ইতেকাফ বন্ধ করা যাবে না। তারাবির নামাজ চলবে। জুমা চলবে। দশজন, পাঁচজন মুসল্লির উপস্থিতি এগুলো শরিয়ত পরিপন্থী। জুমার নামাজের জন্য ইজনে আম বা ব্যাপক অনুমতি থাকতে হয়। এটা ছাড়া জুমা হবে না। যারা পড়বে তাদের নামাজও হবে না।’ দেশ যেন করোনামুক্ত হয় সেজন্য সবসময় দোয়া করছেন বলেও জানান হেফাজত আমির।

দুই বছর ধরে রমজান এলেই সরকার লকডাউন দেয় বলে অভিযোগ করেন হেফাজত আমির। তিনি দাবি করেন, রমজানে কওমি মাদ্রাসাগুলো কালেকশন করে, এজন্য উদ্দেশ্যমূলকভাবে এটা করা হয়। তার মতে, কওমি মাদ্রাসা না থাকলে এদেশে ইসলাম থাকবে না, এজন্য যেকোনো মূল্যে কওমি মাদ্রাসা বাঁচিয়ে রাখতে হবে।

সম্প্রতি হেফাজত কর্মীদের সঙ্গে দেশের বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংঘর্ষের ঘটনা উল্লেখ করে বাবুনগরী বলেন, ‘গত ২৬ মার্চ হেফাজতে ইসলামের কোনো কর্মসূচি ছিল না। আমি মাদ্রাসায় ছিলাম না। অনেক দূরে ছিলাম। কিছু মানুষ মিছিল বের করেছে। তারা বলছে আমরা শান্তিপূর্ণ মিছিল বের করেছি। কিন্তু পুলিশ বাহিনী তাদের ওপর আক্রমণ করে। আহত ও নিহত করে। আমি জানি না তারা কে ছিল। পুলিশ গুলি করেছে তাদের বুকে। পুলিশের দরকার ছিল, উত্তেজনা কমাতে হাঁটুর নিচে গুলি করবে। আগুন জ্বলে ওঠলে আগুন নেভাতে হয়। কিন্তু পুলিশ আগুন বাড়িয়ে দিলো। এগুলো কোন আইনে আছে।’

এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, সারাদেশে র‌্যাব-পুলিশ হেফাজত কর্মীদের হয়রানি করছে। তিনি অবিলম্বে তা বন্ধের দাবি নানান। অন্যথায় আবার উত্তেজনা সৃষ্টি হবে জানিয়ে, এর দায় দায়িত্ব সরকারকে নিতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন হেফাজত আমির।

বাবুনগরী সরকারের উদ্দেশে বলেন, ‘আমরা সরকারের সঙ্গে যুদ্ধ করবো না। সরকার পতন আমাদের উদ্দেশ্য নয়। আমরা ঈমান আকিদাভিত্তিক একটি সংগঠন। মাননীয় সরকার, আরও একশ বছর থাকুন, আরও দুশো বছর থাকুন, আমার কোনো আপত্তি নেই, কিন্তু ইসলামের বিরুদ্ধে কোনো কিছু চলবে না। এটা আমাদের দাবি।’

হেফাজতে ইসলামের প্রধান পৃষ্ঠপোষক আল্লামা মহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন মাওলানা সালাহউদ্দিন নানুপুরী, আজিজুল হক ইসলামাবাদী, মুফতি আবদুল আওয়াল, মাওলানা খুরশিদ আলম কাসেমী, মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন রাজি, মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব, মুফতি জাকারিয়া নোমান ফয়জী প্রমুখ।