মঈন আলীকে ‘জঙ্গি’ বলে তোপের মুখে, টুইট মুছতে বাধ্য হলেন তসলিমা

‘মঈন আলী ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্ত না হলে সিরিয়াতে গিয়ে আইএসে যোগ দিতেন।’ সোমবার টুইটারে এমনটা লিখেছিলেন তসলিমা নাসরিন। তাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ওঠে সমালোচনার ঝড়। তার মন্তব্যকে ভালোভাবে নেয়নি ইংল্যান্ডের ক্রিকেটাররাও। মঙ্গলবার (৬ এপ্রিল) সতীর্থের পাশে দাঁড়িয়ে সরব ভূমিকায় অবতীর্ণ হন পেসার জোফরা আর্চার। স্যাম বিলিংস, বেন ডাকেটরাও দেন তসলিমার কথার জবাব। শেষ পর্যন্ত টুইটটি মুছে ফেলেছেন তসলিমা নাসরিন।

ইংলিশ অল রাউন্ডার মঈন আলী যে ধার্মিক তা সবাই জানেন। ধর্মীয় ভাবাদর্শ মেনে নিজের জার্সিতে তিনি কোনো মদ প্রস্তুতকারক কম্পানির লোগো রাখেন না বা এসব কম্পানির মোটা অংকের স্পনসরের প্রস্তাবও ফিরিয়ে দেন। চেন্নাই সুপার কিংসের হয়ে আইপিএল খেলতে মঈন আলী এখন ভারতে। অন্যদের জার্সিতে একটি মদ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের লোগো থাকলেও তার জার্সিতে নেই। মঈনের ধর্মের প্রতি সম্মান রেখে চেন্নাই কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

কিন্তু মঈনের এই জার্সি নিয়ে বিতর্ক উস্কে দিলেন তসলিমা নাসরিন। বাংলাদেশের বিতর্কিত এই লেখিকা টুইটারে লিখেন, ‘মঈন আলী ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্ত না থাকলে সিরিয়ায় গিয়ে আইসিসে (জঙ্গি সংগঠন) যোগ দিতেন।’ তারকা অল রাউন্ডারকে নিয়ে এমন মন্তব্যের পর সোশ্যাল সাইটে তুমুল সমালোচনার জন্ম হয়েছে। তসলিমার এই কুৎসিত মন্তব্য কেউই ভালোভাবে নিচ্ছেন না। সমালোচনায় যোগ দিয়েছেন মঈনের সতীর্থ ইংলিশ পেস সুপারস্টার জোফরা আর্চার।

তসলিমার টুইটটি রিটুইট করে জোফরা আর্চার লিখেছেন, ‘আপনি ঠিক আছেন তো? আমার মনে হয় আপনি ঠিক নেই’! শুধু আর্চারই নন; অসংখ্য ফেসবুক ব্যবহারকারী তসলিমার সমালোচনা করেছেন। যেমন একজন লিখেছেন, ‘তসলিমা নাসরিনের নামটি যদি মুসলিম না হতো, তবে তিনি নিশ্চিতভাবে আরএসএসে (ভারতের মৌলবাদী সংগঠন) যোগ দিতেন।’ পুরো বিষয়টি নিয়ে এখন পর্যন্ত একটি কথাও বলেননি মঈন আলী। তসলিমার মতো খ্যাতিমান একজন লেখিকা এমন টুইট করতে পারেন কিনা সেটা নিয়েও বিতর্ক হচ্ছে।

 

ক্রিকেটপ্রেমীদের তুমুল সমালোচনার শিকার হচ্ছেন তসলিমা। তবে আর্চার এই লেখিকার ব্যাখ্যাকেও ছেড়ে কথা বলেননি। সেটি রিটুইট করে আর্চার লেখেন, ‘ব্যঙ্গাত্মক? কিন্তু কেউ তো হাসছে না, এমনকি আপনিও নন, এখন অন্তত যে কাজটা আপনি করতে পারেন, তা হলো টুইটটি মুছে ফেলা।

আর্চারের এই রি-টুইটের পর মঈন ও আইএসকে জড়িয়ে করা টুইট মুছে ফেলেছেন তসলিমা।

 

তসলিমা এরপর নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে মঙ্গলবার আরেকটি টুইট করেন। আর্চার সেটিও রিটুইট করে জবাব দেন। বিষয়টি নিয়ে টুইটারে ঝড় ওঠায় এগিয়ে আসেন ইংল্যান্ডের হয়ে ৪ টেস্ট ও ৩ ওয়ানডে খেলা বেন ডাকেট।

 

তসলিমার প্রথম টুইটটি রিটুইট করে তিনি মন্তব্য করেন, ‘এই অ্যাপের এটাই সমস্যা। লোকে এমন কথাও বলতে পারে। বিরক্তিকর। অবস্থার পরিবর্তন হওয়া দরকার। দয়া করে এই অ্যাকাউন্ট রিপোর্ট করুন।’

 

ডাকেট আরেকটি টুইটে মন্তব্য করেন, ‘বিশ্বাসই হচ্ছে না। বিরক্তিকর টুইট। বিরক্তিকর মানুষ।’ তাঁর এই টুইটে ইংল্যান্ডের হয়ে ২২ ওয়ানডে ও ৩০ টি-টোয়েন্টি খেলা উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান স্যাম বিলিংসের মন্তব্য, ‘দয়া করে সবাই তসলিমার অ্যাকাউন্ট রিপোর্ট করুন। বিরক্তিকর!’

 

ইংল্যান্ডের হয়ে ৪ ওয়ানডে ও ৬ টি-টোয়েন্টি খেলা বোলার সাকিব মাহমুদও টুইট করেন। নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে তসলিমার করা দ্বিতীয় টুইটটি রিটুইট করে তিনি মন্তব্য করেন, ‘ব্যঙ্গাত্মক? অসুস্থতার পর্যায়ে আপনার রসিকতার মানসিকতা।’

 

 

জোফরা আর্চার প্রথম মন্তব্যটি করার পর আজ নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে তসলিমা টুইটে লেখেন, ‘নিন্দুকেরা ভালো করেই জানে, মঈন আলীকে নিয়ে করা টুইটটি ব্যঙ্গাত্মক। কিন্তু তারা এটাকে ইস্যু হিসেবে ধরে নিয়ে আমাকে অপদস্থ করছে। কারণ, আমি মুসলিম সমাজকে ধর্মনিরপেক্ষ করার চেষ্টা করি এবং ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধাচরণ করি। মানবজাতির অন্যতম মর্মান্তিক বিষয় হলো, নারীবাদের পক্ষ নেওয়া বামপন্থীরা নারীবাদের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া ইসলামপন্থীদের সমর্থন দেয়।’