বিএনপি হেফাজতকে উস্কে দিচ্ছে : হানিফ

ডেস্ক রিপোর্ট।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুলসহ দলটির দায়িত্বশীল নেতারা বক্তব্যের মাধ্যমে হেফাজতে ইসলামকে উস্কে দিচ্ছেন বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ।

হানিফ বলেছেন, ‘মার্চ মাসের শুরু থেকেই স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় অতিথি ছিলেন। মোদি আসার আগেই তারা বললেন, ‘উনাকে আসতে দেওয়া ঠিক হবে না, বাধা দেবে। এসব বক্তব্য যেসব ধর্ম ব্যবসায়ী দল দিয়েছে তাদের উস্কে দিচ্ছে বিএনপি। গতকালও মির্জা ফখরুল সাহেব বলেছেন, ‘২০২১ সালের মধ্যে সরকারের পতন হয়ে যাবে। তারা যে সরকারের পতন হয়ে যাবে আশা প্রকাশ করছেন, কোন আশায়-কিসে ওপর ভিত্তি করে?’

বুধবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন স্থান দেখে প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন আওয়ামী লীগের এই নেতা।

হানিফ বলেন, ‘বিএনপি নিজেদের এমন কোনো সাংগঠনিক তৎপরতা নেই, যার ওপর ভিত্তি করে সরকারকে অস্থিতিশীল করতে পারে। তাহলে তারা ভাবছে কেন সরকারের পতন হবে? নিজেদের সক্ষমতা নেই তারা এখন ধর্ম ব্যবসায়ী হেফাজত ও জামাতিদের মাথায় ভর করছে। তারা ভর করছে বলেই এ ধরণের কথা বলছে।’

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, গান পাউডার হেফাজতিদের কাছে থাকার কথা না। সাধারণ মানুষের কাছে থাকার কথা না। এই গান পাউডার ৭১ সালে রাজাকার-আলবদর ও জামাতের বিভিন্ন নাশকতামূলক কার্যক্রমে ব্যবহার করতে দেখেছি। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নাশকতায় গান পাউডারের ব্যবহার দেখে এটা পরিষ্কার হয়ে গেছে। হেফাজতের কাধে ভর করেছে জামায়াত-বিএনপি। পরিকল্পিতভাবে বিএনপি, হেফাজত ও জামায়াত মিলিতভাবে এই নাশকতা করেছে।’

হানিফ বলেন, গত ১২ বছরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার যে উন্নয়ন করেছে, তা এখন দৃশ্যমান হয়েছে। দেশ উন্নয়নশীল রাষ্ট্রের স্বীকৃতি পেয়েছে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানে জন্মশতবর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে যে কর্মসূচি ঘোষণা করেছে, বিশেষ করে ১৭ মার্চ থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত যে কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে তাতে ৬৫টি দেশের রাষ্ট্র প্রধান প্রধানমন্ত্রীর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। বাংলাদেশ এক সময় মিসকিন রাষ্ট্র ছিল, ব্যর্থ রাষ্ট্র ছিল সেই রাষ্ট্র আজ সকলের কাছে অনুকরণীয়। সাংবাদিকরা সমাজের দর্পন। আপনারা দেখেছেন প্রতিটি দেশের সরকার প্রধান কি বার্তা দিয়েছে, কি প্রশংসা করে। এসব স্বাধীনতাবিরোধী ও তাদের প্রেতাত্মাদের পছন্দ হয়নি। এই বিষয়গুলো নিয়ে তারা সমাজে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চাচ্ছে।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও হাটহাজারীতে যে তাণ্ডব হয়েছে তাতে হেফাজতে ইসলামের লোকজনই যে শুধু আছে তা নয়, এর পেছনে বিএনপি ও জামায়াত সম্পৃক্ত ছিল তা প্রমাণিত। ছাত্রদলের ক্যাডাররা বোমা ফাটিয়েছে। তাদের এর মধ্যে সংশ্লিষ্টতা কেন?

হানিফ আরও বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন শেষে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমরা এই বিস্তারিত জানাব। বিএনপি, জামায়াত বা হেফাজত যেই হোকে না কেন তাদের শাস্তি নিশ্চিত করে জানাতে হবে স্বাধীন রাষ্ট্রে এ ধরণের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড করা যাবে না।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, অর্থবিষয়ক সম্পাদক ওয়াসিকা আয়েশা খান এমপি, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদ, স্থানীয় সাংসদ র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকার প্রমুখ।