জিয়ার নাম বীর মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায়

মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ বুদ্ধিজীবীদের নামের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করেছে সরকার। ঘোষিত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রথম পর্যায়ের তালিকায় নাম রয়েছে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও খন্দকার মোশতাক আহমেদের। সেক্টর কমান্ডার হিসেবে জিয়াউর রহমান ও মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রী হিসেবে মোশতাকের নাম রয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৫ মার্চ) বিকাল ৪টায় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে সংবাদ সম্মেলনে একথা জানান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।

তবে মন্ত্রী জানিয়েছেন, তালিকায় তাদের নামের পাশে মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী অপকর্ম সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য লেখা থাকবে। সেই হিসেবে ডান দিকে লেখা থাকবে বঙ্গবন্ধুর খুনি হিসেবে অভিযুক্ত ছিল, তার বিরুদ্ধে চার্জশিটও হয়েছে। বিচার হয়নি, কারণ, তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন।

আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, আমরা বীর মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় সব বিভ্রান্তি দূর করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। যার জন্য এই সময় নিয়ে এ তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। আমরা শতভাগ নির্ভুল করার জন্য এই সময় নিয়েছি।

তিনি আরো বলেন, আমরা ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমে (এমআইএস) এন্ট্রি করেছি ১ লাখ ৮২ হাজার ৮৩৪ জন বীর মুক্তিযোদ্ধার নাম। তবে প্রায় ৩৫ হাজার জনের বেসামরিক গেজেট জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের অনুমোদন না থাকায় এ তালিকার বাইরে রাখা হয়েছে। ইতোমধ্যে এসব গেজেট নিয়মিতকরণের লক্ষ্যে আমরা ৪৩৪ উপজেলার প্রতিবেদন পেয়েছি। সেগুলো যাচাই-বাছাই এবং আপিল শুনানি শেষে ৩০ জুনের মধ্যে যাচাই-বাছাইধীন বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নাম চূড়ান্ত তালিকায় প্রকাশ পাবে।

রাজাকারের তালিকা প্রকাশ করার বিষয়ে তিনি বলেন, রাজাকারের তালিকা প্রকাশ করার জন্য কোনো কর্তৃপক্ষ ছিল না। আমরা জামুকার আইন সংশোধন করে রাজাকারের তালিকা প্রণয়নের কাজ করছি। আশা করছি, আগামী সংসদ অধিবেশনে আইনটি পাস হলে আমরা রাজাকারের তালিকা প্রকাশ করতে পারবো।

এক লাখ ৪৭ হাজার ৫৩৭ জনের বীর মুক্তিযোদ্ধা তালিকার মধ্যে বরিশালের ১২ হাজার ৫৬৩ জন, চট্টগ্রামের ৩০ হাজার ৫৩ জন, ঢাকার ৩৭ হাজার ৩৮৭ জন, ময়মনসিংহের ১০ হাজার ৫৮৮ জন, খুলনার ১৭ হাজার ৬৩০ জন, রাজশাহীর ১৩ হাজার ৮৮৯ জন, রংপুরের ১৫ হাজার ১৫৮ জন এবং সিলেট বিভাগের ১০ হাজার ২৬৪ জন রয়েছেন।