আত্মসমর্পণ করে জামিন পেলেন সঙ্গীতশিল্পী মিলা

সাবেক স্বামী পাইলট এস এম পারভেজ সানজারিকে অ্যাসিড ছুড়ে মারার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সঙ্গীতশিল্পী মিলার জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত। বুধবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) মিলা তার আইনজীবীর মাধ্যমে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। এরপর ঢাকার অ্যাসিড অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক দিদারা চদ্রনা এ আদেশ দেন।

এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি হাজির না হওয়ায় ট্রাইব্যুনালের বিচারক মিলা ও তার সহযোগী কিম জন পিটার হালদারের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর উত্তরা পশ্চিম থানার মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা মিলা ও তার সহযোগীর বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন।

এরপর চলতি বছরের ২৪ জানুয়ারি ম্যাজিস্ট্রেট আদালত চার্জশিট গ্রহণ করে সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালে বদলির আদেশ দেন। ২০১৯ সালের ৪ জুন মিলার সাবেক স্বামী পারভেজ সানজারির বাবা এস এম নাসির উদ্দিন সংগীতশিল্পী মিলা এবং কিম জন পিটার হালদারের বিরুদ্ধে উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, সংগীতশিল্পী মিলার সাবেক স্বামী এস এম পারভেজ সানজারির ওপর অ্যাসিড ছুড়ে মারার সঙ্গে আসামি কিম জন পিটার জড়িত আছেন বলে যথেষ্ট সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। ঘটনার আগে ২৬ মে আসামি কিম মিরপুর ডিওএইচএস সরকার মার্কেটের হার্ডওয়্যারের দোকান থেকে অ্যাসিড কেনেন। পরে মামলার অপর আসামি সংগীতশিল্পী মিলার সঙ্গে পরামর্শ করে ২৭ মে অ্যাসিডসহ এস এম পারভেজ সানজারির বাসার সামনে যান কিম। কিন্তু সেদিন বাসার সামনে সানজারিকে না পেয়ে ফিরে আসেন। আসামি মিলার কথামতো অজ্ঞাত আসামিকে সঙ্গে নিয়ে ২ জুন সন্ধ্যা ৭টা ৫০ মিনিটে সানজারির বাসার সামনে যান কিম। সানজারির মোটরসাইকেলের সামনে আসে কিম। তখন কিম সানজারিকে বলেন, ‘আমাকে বাঁচান, আমাকে মেরে ফেলবে।’ কিন্তু সানজারি কিম জনকে চিনে ফেলেন। সানজারি বাসার দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলে কিম অ্যাসিড ছুড়ে পালিয়ে যান। অ্যাসিডে সানজারির শরীরের ৮ থেকে ১০ শতাংশ পুড়ে যায় বলে জানান ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের আবাসিক চিকিৎসক।

এর আগে মিলা ২০১৭ সালের অক্টোবরে সাবেক স্বামী পারভেজ সানজারির বিরুদ্ধে উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন। যৌতুক ও নির্যাতন চালানোর অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে এ মামলা করা হয়। মামলার পর পারভেজ সানজারি ২০১৭ সালের ৬ অক্টোবর গ্রেপ্তারও হন।  ২০১৭ সালের ১২ মে মিলা ও সানজারি বিয়ে করেন। ২০১৮ সালের ৩১ জানুয়ারি তাদের বিচ্ছেদ হয়।