যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন রাজ্যে ট্রাম্প সমর্থকদের সশস্ত্র মহড়া

মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়াদের একেবারে শেষ সময়ে এসে দেশটির বিভিন্ন রাজ্যে সশস্ত্র মহড়া চালিয়েছে তার উগ্রপন্থী সমর্থকরা। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্টেট হাউজ বা রাজ্য আইনসভার সামনে বিক্ষোভকারীদের ছোট ছোট দল দেখা গেছে, যাদের কেউ কেউ ছিল সশস্ত্র। ওয়াশিংটন ডিসি-র ক্যাপিটল ভবনে সহিংস হামলার পর জো বাইডেনের অভিষেক অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র নতুন করে সহিংসতার শঙ্কার মধ্যেই এসব বিক্ষোভ বা মহড়ার ঘটনা ঘটে।

 

টেক্সাস, ওরেগন, মিশিগান, ওহাইও এবং অন্যান্য কিছু রাজ্যের স্থানীয় ক্যাপিটল ভবনের বাইরে বিক্ষোভ হয়েছে। কিন্তু নিরাপত্তা কড়াকড়ি আরোপের ফলে বহু সরকারি ভবনেই রবিবার দিনটি মোটামুটি নিরুত্তাপ কেটেছে। এফবিআই সতর্ক করে বলেছে, বুধবার নতুন প্রেসিডেন্টের অভিষেককে সামনে রেখে ফের সশস্ত্র বিক্ষোভ হতে পারে।

২০২০ সালের ৬ জানুয়ারি ট্রাম্প সমর্থকরা ওয়াশিংটন ডিসি-র ক্যাপিটল ভবনে তাণ্ডব চালানোর দুই সপ্তাহ পর প্রেসিডেন্ট হিসেবে অভিষিক্ত হতে যাচ্ছেন জো বাইডেন। ওই ঘটনায় একজন পুলিশ কর্মকর্তাসহ পাঁচ জন নিহত হন।

সম্ভাব্য সহিংসতার আশঙ্কায় এরইমধ্যে বিভিন্ন শহরে নিরাপত্তা প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। শহরগুলোতে ব্যারিকেড বসানো হয়েছে। মোতায়েন করা হয়েছে ন্যাশনাল গার্ডের হাজার হাজার সদস্য।

ট্রাম্প সমর্থক এবং কট্টর ডানপন্থীদের অনলাইন নেটওয়ার্কগুলোতে রবিবার সশস্ত্র বিক্ষোভের আহ্বান জানিয়ে পোস্ট করা হয়। যদিও কিছু মিলিশিয়া তাদের সমর্থকদের এই বিক্ষোভে যোগ না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল এই যুক্তিতে যে, নিরাপত্তা কড়াকড়ির মধ্যে এসব বিক্ষোভে যোগ দেওয়া হবে ফাঁদে পা দেওয়ার শামিল। তারপরও কয়েকটি শহরে অল্প কিছু বিক্ষোভকারীর ছোট জমায়েত দেখা গেছে।

নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, ওহাইও অঙ্গরাজ্যের কলাম্বাসের স্টেট হাউজের সামনে বুগালু বয়েজ আন্দোলনের ২৫ জনের মতো সদস্য জড়ো হয়। তারা ভারী অস্ত্রে সজ্জিত ছিল। তবে মার্কিন সরকারকে উৎখাত করতে চাওয়া এই চরমপন্থী গোষ্ঠীটি বলছে, তাদের এই জমায়েত ছিল আগ্নেয়াস্ত্রের অধিকারের পক্ষে অনেক আগে পরিকল্পনা করা একটি সমাবেশ।

মিশিগানে ২০ থেকে ২৫ জনকে দেখা যায় ল্যানসিংয়ের স্টেট হাউজের সামনে প্রতিবাদ করতে। এদের কয়েকজনের হাতে রাইফেল ছিল। একজন বিক্ষোভকারী বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘আমি এখানে সহিংস হতে আসিনি। আশা করি কেউই সহিংসতা দেখাবে না।’ ডজনখানেক বিক্ষোভকারীর একটি ছোট দল জড়ো হয়েছিল অস্টিন শহরে টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ক্যাপিটলের সামনে। এদেরও কয়েকজনের হাতে রাইফেল ছিল।

বাইডেনের অভিষেক যেদিন হবে, সেই বুধবার আরও বিক্ষোভের আশঙ্কা করা হচ্ছে। ওয়াশিংটনের নিরাপত্তার জন্য ২৫ হাজারের বেশি ন্যাশনাল গার্ড সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সম্ভাব্য অশান্ত পরিস্থিতি নিয়ে কর্মকর্তারা কতটা চিন্তিত তা বোঝার জন্য এই একটি তথ্যই যথেষ্ট।

আর্মি সেক্রেটারি রায়ান ম্যাককার্থি সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে রবিবার বলেছেন, অভ্যন্তরীণ হুমকির আশঙ্কায় প্রত্যেক ন্যাশনাল গার্ড সদস্যের অতীত পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে। রবিবারই নিউ মেক্সিকোর একজন কাউন্টি কর্মকর্তাকে ওয়াশিংটনে গ্রেফতার করা হয় ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল ভবনে তাণ্ডবের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে। কাউ বয়েজ ফর ট্রাম্প নামে একটি গোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা কুই গ্রিফিন প্রতিজ্ঞা করেছেন যে, তিনি বাইডেনের অভিষেকের দিন আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ফিরে আসবেন।

এদিকে হোয়াইট হাউজে অভিষেকের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ট্রাম্প প্রশাসনের কিছু নীতি পরিবর্তন করবেন জো বাইডেন। শনিবার বাইডেন প্রশাসনের সম্ভব্য চিফ অব স্টাফ রন ক্লেইন এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, জো বাইডেন ক্ষমতা গ্রহণের প্রথম কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নির্বাহী আদেশে বিদায়ী প্রেসিডেন্টের বিতর্কিত কতগুলো সিদ্ধান্ত বদলে দেবেন। তিনি ট্রাম্পের কথিত মুসলিম নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবেন। প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে পুনরায় যোগ দেওয়ার ঘোষণা দেবেন। সরকারি অফিসে এবং বিভিন্ন রাজ্যে চলাচলের ক্ষেত্রে মাস্ক পরিধান বাধ্যতামূলক করবেন।

নতুন প্রশাসনের অভিষেকের আগে ওয়াশিংটন ডিসি-র অধিকাংশ এলাকা লকডাউন করে রাখা হয়েছে। অভিষেকের দিন সাধারণত ন্যাশনাল ম্যালে বহু মানুষের সমাগম ঘটে, তবে সিক্রেট সার্ভিসের অনুরোধে এবার তা বন্ধ রাখা হয়েছে। বাইডেনের কর্মকর্তারা এরইমধ্যে আমেরিকানদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যে, মহামারির কারণে তারা যেন অভিষেকে অংশ নিতে ওয়াশিংটনে না যান। স্থানীয় কর্মকর্তারা বলছেন, মানুষের উচিত হবে দূর থেকে এই অনুষ্ঠান উপভোগ করা। সূত্র: বিবিসি।