সিলেটে ছাত্রাবাসে গণধর্ষণ: ৮জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট

সাইদুর রহমান মিন্টু
বিজ্ঞাপন

সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে গণধর্ষণের ঘটনার মামলায় আট ছাত্রলীগ কর্মীকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র)  দিয়েছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকালে সিলেটের মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে আলোচিত এ মামলার চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহপরান পরিদর্শক তদন্ত ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য। পুলিশ জানিয়েছে, আলোচিত এ ঘটনায় প্রধান আসামি সাইফুর রহমানসহ ৬ জনকে ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত করা হয়েছে। ছাত্রলীগ কর্মী সাইফুর রহমান, তারেক, শাহ রনী, অর্জূন লস্কর, আইনুদ্দিন ও রাজন সরাসরি ধর্ষণের ঘটনায় সম্পৃক্ত ছিলো। আর তাদের সহায়তা করেছে ছাত্রলীগ কর্মী রবিউল ও মাহফুজ। আজ সকালে সিলেটের আদালতে চার্জশিট প্রদান শেষে দুপুরে নিজ কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিং করে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ। এতে উপ পুলিশ কমিশনার (দক্ষিন) সোহেল রেজা জানান- তদন্ত কর্মকর্তার অনুসন্ধান ও ডিএনএ রিপোর্টে এসব তথ্য নিশ্চিত হয়েই পুলিশ চার্জশিট দিয়েছে। আজ আদালতে চার্জশিটের ওপর শুনানী অনুষ্টিত হওয়ার কথা রয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনজীবিরা।

চার্জশিটে অভিযুক্ত আসামিরা হলেন, মামলার এজাহারনামীয় আসামি সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার উমেদনগরের রফিকুল ইসলামের ছেলে তারেকুল ইসলাম তারেক (২৮), হবিগঞ্জ সদরের বাগুনীপাড়ার মো. জাহাঙ্গীর মিয়ার ছেলে শাহ মো. মাহবুবুর রহমান রনি (২৫), জকিগঞ্জের আটগ্রামের কানু লস্করের ছেলে অর্জুন লস্কর (২৫), দিরাই উপজেলার বড়নগদীপুর (জগদল) গ্রামের বাসিন্দা ও মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ এমসি কলেজ শাখার সভাপতি রবিউল ইসলাম (২৫), কানাইঘাটের গাছবাড়ি গ্রামের মাহফুজুর রহমান মাসুম (২৫), মিসবাহ উর রহমান রাজন ও আইনুদ্দিন।

এর মধ্যে রাজন ও আইনুদ্দিন ছাড়া অপর ছয়জন মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।

গত ২৫শে সেপ্টেম্বর রাত পৌনে ৮টার দিকে সিলেট এমসি কলেজের ছাত্রাবাসের ভেতরে একটি রাস্তায় প্রাইভেট কারের মধ্যেই গৃহবধূকে গণধর্ষণ করেন ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী। অভিযুক্ত এসব কর্মীরা সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট রণজিৎ সরকারের অনুসারী বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় ৬ জনকে আসামি করে ওইদিন রাতেই মহানগর পুলিশের শাহপরাণ (রহ.) থানায় নির্যাতিতা নারীর স্বামী বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় আরও ২/৩ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়।

googel
বিজ্ঞাপন