করোনায় বিপর্যস্ত অসংখ্য প্রবাসীর পরিবার

প্রবাসী কর্মীদের জন্য হটলাইন চালু
প্রবাসী কর্মীদের জন্য হটলাইন চালু

দেশের উন্নয়নের অন্যতম অংশীদার প্রবাসীরা, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে দেশ গঠনে এবং দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখার কারিগর হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে সারা বিশ্বের ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা প্রবাসীরা। যার প্রমাণ আমরা প্রতিনিয়ত দেখতে পাচ্ছি। কিন্তু কোভিড ১৯ বা করোনা পরিস্থিতি প্রবাসীদের জীবনে কতটা প্রভাব বিস্তার করেছে সেটা শুধু প্রবাসীদের পরিবার ছাড়া আর কেউ অনুভব করতে পারবে না।

সারা বিশ্বের অসংখ্য প্রবাসীরা কর্মহীন হয়েছে, নষ্ট হয়েছে প্রবাসীদের নিজেদের এবং পরিবারের জীবনমান, করোনার প্রভাবে অর্থিক সংকটে থাকলেও কমেনি প্রবাসীদের পরিবারের খরচ বা চাহিদা। প্রবাসীদের সন্তাদের পড়াশোনা বা স্কুল বন্ধ থাকলেও স্কুলের বেতন ঠিকই চালিয়ে যেতে হচ্ছে। কিন্তু প্রবাসীদের আয় বন্ধই রয়েছে, অনেক প্রবাসীই সন্তাদের ভালোভাবে মানুষ করা এবং সুশিক্ষিত করার লক্ষে পরিবার নিয়ে শহরে বসবাস করতেন কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতে অর্থিক সংকটের কারণে ছাড়তে হয়েছে শহরের বাসা-বাড়ি। বাধ্য হয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে গ্রামে।

প্রবাসীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, পরিবারের চাহিদা মেটাতে না পারায় অনেককে বিচ্ছিন্ন হতে হচ্ছে পরিবার থেকে। কেউ হারাচ্ছে নিজ স্ত্রী-সন্তান। এই করোনাভাইরাস বহু প্রবাসীর পরিবারকে করেছে নিঃস্ব। অনেকেই নিজের পরিবারের শেষ সম্বলটুকু দিয়ে করোনা ছড়িয়ে পড়ার আগে বিভিন্ন দেশে পাড়ি জামিয়েছিলেন ভাগ্যবদলের আশায়। কিন্তু করোনার ভয়াল থাবায় ভাগ্য আর পরিবর্তন হয়ে উঠেনি। ব্যাংক ঋণের কারণে হারাতে হচ্ছে নিজের শেষ সম্বলটুকু। জীবনের সাথে যুদ্ধ করে না পেরে উঠায় অনেকে বেছে নিয়েছেন আত্মহত্যার পথ। এমনটাই ঘটেছে এই করোনা পরিস্থিতিতে।
দেশের জিডিপিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা এই মানুষগুলো বরাবরই অবহেলিত প্রবাসে। যাত্রার শুরু থেকে আবার দেশে ফিরে আসা পর্যন্ত প্রতিটি পদক্ষেপে হয়রানির শিকার হতে হয়। প্রবাসে অবস্থান করা অবস্থায় হাইকমিশনগুলোতে টাকা দিয়েও সঠিক সেবাটা পায় না রের্কড সংখ্যা অর্থপ্রেরণ করা প্রবাসীরা। যারা জিডিপিতে এই করোনা পরিস্থিতিতেও দেশে রেমিট্যান্স পাঠিয়ে অতীতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করেছে সেই সকল রেমিট্যান্স যোদ্ধার তো এমন পরিস্থিতি বা হয়রানি অবহেলা হওয়ার কথা না। এই দায় কার কে নেবে, এই সব রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের দায়িত্ব? অবশ্যই দেশের সরকার এবং প্রবাসী মন্ত্রণালয়ের এ দায়িত্ব নিতে হবে।

প্রতি বছর বাজেটে প্রবাসীদের জন্য কি পরিমাণ বাজেট হয়, কোথায় ব্যবহৃত হয় সেই অর্থ? প্রবাসীদের কল্যাণ নিশ্চিতে মন্ত্রণালগুলোর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে সরকারকে। প্রবাসীদের প্রতি সরকারের নজর এবং বাজেট বৃদ্ধি নিয়ে কাজ করতে হবে। প্রবাসীদের সেবা নিশ্চিত করতে না পারলে দেশে রেমিট্যান্স প্রেরণে আগ্রহ হারাবে প্রবাসীরা। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে দেশের অর্থনীতি।

যে সব দেশে প্রবাসীরা মানবতর জীবনযাপন করছে হাইকমিশনের পক্ষ থেকে তাদের পাশে দাঁড়ানো উচিত। প্রবাসীদের জন্য এমন কিছু পরিকল্পনা করা প্রয়োজন যেন কোনো প্রবাসী কর্মহীন হয়ে পড়লেও দেশে ফিরে পরিবার নিয়ে চলতে পারে, কাগজে কলমে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে অনেক কাজই দেখা যায় কিন্তু বাস্তবে প্রবাসীরা সুফল পাচ্ছে না। তাই আমাদের সরকারের উচিত রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের উপর গুরুত্ব দিয়ে যুগোপযোগী পরিকল্পনা করা এবং সেটার বাস্তবায়ন করে তোলা।

লেখক: সিঙ্গাপুর প্রবাসী