বিদেশে অর্থ পাচারকারীদের তথ্য চেয়েছেন হাইকোর্ট

হাইকোর্টের ফাইল ছবি
সাইদুর রহমান মিন্টু
বিজ্ঞাপন

✍ ডেস্ক রিপোর্ট

অর্থ পাচারকারী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, ব্যবসায়ী, ব্যাংকার ও রাজনীতিবিদদের নাম-পরিচয়সহ বিভিন্ন তথ্য চেয়েছেন হাইকোর্ট। আগামী ১৭ ডিসেম্বরের মধ্যে অর্থ সচিব, দুর্নীতি দমন কমিশন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, এনবিআর চেয়ারম্যানকে এসব তথ্য দাখিল করতে বলা হয়েছে। বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ রোববার স্বপ্রণোদিত হয়ে এ আদেশ দেন।

আদালত বলেছেন, অর্থ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে আমরা সম্মিলিতভাবে দেশের জন্য কাজ করতে চাই। অর্থ পাচারকারীরা দেশ ও জাতির শত্রু। তারা জাতীয় বেইমান। এদের ধরতে হবে।

এ ছাড়া অর্থ পাচারের ঘটনায় রুল জারি করা হয়েছে। আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে বিবাদীদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক এবং দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খুরশিদ আলম খান।

আইনজীবী খুরশিদ আলম খান বলেন, ‘গত কয়েকদিন দেশের বিভিন্ন দৈনিকে সংবাদ প্রকাশিত হয়। প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিদেশে টাকা পাচার করে বাড়ি করছেন। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর দুবাইসহ বিদেশে অর্থ পাচার করে নিয়ে যাচ্ছেন। আদালত বলেছেন, দেশপ্রেম না থাকায় এসব ব্যক্তি দেশের টাকায় পড়াশোনা করে বিদেশে অবৈধভাবে টাকা পাচার করে নিয়ে যাচ্ছে। বিষয়টি ‘অ্যালার্মিং’। শুনানিকালে আদালত বলেন, ‘পাচারকারীরা দেশের শত্রু, জাতির শত্রু। দেশের টাকা বিদেশে নিয়ে যাওয়ায় দেশ ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। দেশের টাকা বিদেশে চলে যাচ্ছে।’

এর আগে গত ১৮ নভেম্বর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি-ডিআরইউতে ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন বলেন, ‘রাজনীতিবিদরা নন, বিদেশে বেশি অর্থপাচার করেন সরকারি কর্মচারীরা। আমার ধারণা ছিল রাজনীতিবিদদের সংখ্যা বেশি হবে। কিন্তু আমার কাছে যে তথ্য এসেছে—যদিও এটি সামগ্রিক তথ্য নয়—সেটিতে আমি অবাক হয়েছি। সংখ্যার দিক থেকে আমাদের অনেক সরকারি কর্মচারীর বাড়িঘর সেখানে বেশি আছে এবং তাঁদের ছেলেমেয়েরা সেখানে থাকে। আমার কাছে ২৮টি কেস এসেছে এবং এর মধ্যে রাজনীতিবিদ হলেন চারজন। এ ছাড়া কিছু আছেন আমাদের তৈরি পোশাক শিল্পের ব্যবসায়ী। আমরা আরো তথ্য সংগ্রহ করছি।’

এরপর দেশের বেশ কিছু জাতীয় দৈনিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনের বক্তব্য প্রকাশিত হয়। প্রকাশিত সেসব প্রতিবেদন আমলে নিয়ে অর্থপাচারকারীদের যাবতীয় তথ্য চেয়ে স্বপ্রণোদিত হয়ে আদেশ দিলেন হাইকোর্ট।

googel
বিজ্ঞাপন