মিয়ানমার সীমান্তরক্ষীর গুলিতে বাংলাদেশি নিহত

সাইদুর রহমান মিন্টু
বিজ্ঞাপন

✍ ডেস্ক রিপোর্ট

মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বর্ডার গার্ড পুলিশের গুলিতে এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছে। নাফনদীতে নৌকায় মাছ ধরার সময় মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিজিপি) ছোঁড়া গুলিতে এক বাংলাদেশি জেলে নিহত হন।

রবিবার সন্ধ্যায় গুলিবিদ্ধ জেলে গভীর রাতে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। নিহত জেলে মোহাম্মদ ইসলাম (৩৫) টেকনাফ সদর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বরইতলী এলাকার গুরা মিয়ার ছেলে। টেকনাফ সদর ইউপি সদস্য নজির আহমদ বলেন, শনিবার সন্ধ্যায় তিন জেলে কাঠের নৌকা নিয়ে মাছ শিকারে নামে নাফনদীতে।

কিছুক্ষণ পর মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বিজিপি তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়ে। সেখানে মোহাম্মদ ইসলামের পেটে গুলি লেগে আহত হলে তার সঙ্গে থাকা অন্য জেলেরা রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে তাকে টেকনাফ হাসপাতালে নিয়ে আসেন। সেখানে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
টেকনাফ উপজেলা স্থাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, রাতে স্থানীয় লোকজন গুলিবিদ্ধ এক ব্যক্তিকে নিয়ে আসেন। তার পেটের ডান পাশে গুলির আঘাত রয়েছে। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

টেকনাফ ২ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ ফয়সল হাসান খান বলেন, খবর পেয়েছি বিজিপির গুলিতে বাংলাদেশি এক যুবক আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। নিষেধ থাকার পরেও রাতের আঁধারে কয়েকজন জেলে নৌকা নিয়ে নাফ নদীতে নেমে মিয়ানমার জলসীমায় ঢুকে যায়।

এরপর বিজিপি তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালালে একজন বিদ্ধ হয় এবং পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
এটি নিশ্চিত নয় যে তারা আসলে মাছ শিকারে নাকি অন্য কোনো উদ্দেশ্যে সেখানে গেছে। এরপরও বিজিবির পক্ষ থেকে একটি প্রতিবাদলিপি পাঠানো হয়েছে। ভবিষ্যতে এভাবে অকারণে যেন গুলি করে বাংলাদেশিকে হত্যা করা না হয়। বিজিপি জানিয়েছে, তাদের সীমানায় নৌকায় সন্ত্রাসী মনে করে গুলি করেছে।

টেকনাফ মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল আলিম বলেন, গুলিবিদ্ধ হয়ে এক ব্যক্তি আহত হওয়ার খবর শুনেছিলাম। মারা যাওয়ার বিষয়টি কেউ জানায়নি। এ বিষয়ে খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে।

googel
বিজ্ঞাপন