জেলহত্যা দিবসে ৪ জাতীয় নেতার প্রতি শ্রদ্ধা

জেলহত্যা দিবস উপলক্ষে জাতীয় চার নেতার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, এর সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠনের নেতারা। আজ মঙ্গলবার সকালে রাজধানী ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়।

আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানান দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এরপর তিনি সাংবাদিকদের বলেন ‘জেলহত্যাকাণ্ডের ‌অনেক রহস্য উন্মোচিত হয়নি। ইতিহাসে সত্যের স্বার্থে ও নতুন প্রজন্মকে জানাতে এ বিষয়টি উদঘাটন করা দরকার। অভিভাবকশূন্য করতে বঙ্গবন্ধু হত্যা আর নেতৃত্বশূন্য করতেই ৭১-এর পরাজিত শক্তি জেলহত্যা সংঘটিত করেছিল।’

এরপর শ্রদ্ধা জানান আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ। স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ ও সাধারণ সম্পাদক আফজালুর রহমান বাবুর নেতৃত্বে নেতারা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ও বনানী কবরস্থানে শহীদদের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর দ্বিতীয় কলঙ্কজনক অধ্যায় শোকাবহ এই দিন।’

জেলহত্যা দিবস উপলক্ষে ধানমণ্ডির ৩২ ও বনানী কবরস্থানে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক আলহাজ মাইনুল হোসেন খান নিখিল।

এরপর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও জাতীয় চার নেতার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে ছাত্রলীগ। ছাত্রলীগের সভাপতি আল-নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে জাতির পিতার প্রতিকৃতি ও বনানী কবরস্থানে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন সংগঠনটির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ছাত্রলীগ সভাপতি আল-নাহিয়ান খান জয় বলেন, ‘জাতির পিতা ও তাঁর সুযোগ্য চার ঘনিষ্ঠ সহচরের বর্ণাঢ্য ঘটনাবহুল জীবন প্রতিটি রাজনৈতিক কর্মী ও তরুণ প্রজন্মের কাছে রাজনীতি শেখার এক অমূল্য পান্ডুলিপি। তাঁরা আমাদের চলার পথের অনুপ্রেরণা ও শক্তি।’

ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য জাতীয় চার নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, ‘নৃশংসতা কোন পর্যায়ে পৌঁছালে, বন্দি অবস্থায় বহিরাগতরা জেলে ঢুকে কাউকে হত্যা করতে পারে? ষড়যন্ত্রকারীরা সুপরিকল্পিতভাবে জাতির পিতার মতোই নির্মমভাবে হত্যা করেছিল বাংলাদেশের চার সূর্য সন্তানকে।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সভাপতি ইব্রাহিম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান রিদয়, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান, সাধারণ সম্পাদক জুবায়ের আহমেদ প্রমুখ।

এরপর জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানায় বাংলাদেশ যুব মহিলা লীগ ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক লীগ।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর জাতির ইতিহাসে দ্বিতীয় কলঙ্কজনক অধ্যায় হলো ৩ নভেম্বর জেল হত্যা দিবস। ১৫ আগস্টের নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর তিন মাসেরও কম সময়ের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম বীর সেনানী ও চার জাতীয় নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমেদ, এ এইচ এম কামারুজ্জামান এবং ক্যাপ্টেন মনসুর আলীকে এই দিনে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের অভ্যন্তরে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।