ট্রাম্প বিজয়ী হলে আমেরিকা ছেড়ে যাবেন যেসব তারকা

আজ ৩ নভেম্বর। বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর রাষ্ট্র আমেরিকায় আজ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ৫৯তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। এর মধ্য দিয়ে নির্বাচিত হবে দেশটির ৪৬তম প্রেসিডেন্ট।

আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরই শুরু হতে যাচ্ছে এই নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আজ গোটা দুনিয়া তাকিয়ে আছে আমেরিকার দিকে। বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবারও নির্বাচনে প্রার্থী। তার প্রতীক ‘হাতি’।  নির্বাচনে এবার ট্রাম্পের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেন। তার প্রতীক ‘গাধা’। বিভিন্ন সমীক্ষায় এবার ট্রাম্পের থেকে এগিয়ে রয়েছেন বাইডেন।

কিন্তু কে হতে চলেছেন আমেরিকার ৪৬তম রাষ্ট্রপতি, এ নিয়ে শুধু আমেরিকায়ই নয়, গোটা বিশ্বেই চলছে তুমুল জল্পনা।

 

নানা ধরনের বক্তব্য ও মন্তব্যের মাধ্যমে বছরজুড়েই সংবাদের শিরোনামে থাকা সেই ডোনাল্ড ট্রাম্পই কি আবার হাল ধরছেন আমেরিকার, নাকি ক্ষমতার মসনদ ছিনিয়ে নেবেন জো বাইডেন? এই প্রশ্নের উত্তরের জন্য আর বেশি অপেক্ষা করতে হবে না বিশ্ববাসীকে।

তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও র্নির্বাচিত হলে অনেকেই যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে যাবেন বলে ইতোমধ্যেই ঘোষণা দিয়ে রেখেছেন। এর মধ্যে যেমন সাধারণ মানুষ রয়েছেন, তেমনি রয়েছেন তারকারাও। তারকাদের কাছ থেকে এর আগেও এ ধরনের প্রতিশ্রুতি এসেছিল।

২০১৬ সালের নির্বাচনের আগে লিনা ডানহাম, জন স্টুয়ার্ট, স্যামুয়েল এল জ্যাকসনের মতো তারকারা বলেছিলেন, নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্প বিজয়ী হলে তারা আমেরিকা ছেড়ে চলে যাবেন। এবারও এ ধরনের ঘোষণা দিয়েছেন বেশ কিছু তারকা।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজ এ নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

এসব তারকার তালিকায় রয়েছেন ব্রুস স্প্রিংস্টিন, টমি লি, রিকি মার্টিন, জন লিজেন্ড ও ক্রিসি টিজেন।

কিন্তু কেন তারা আমেরিকা ছেড়ে যাবেন? আসুন জেনে নেওয়া যাক তাদের বক্তব্য।

ব্রুস স্প্রিংস্টিন
ব্রুস স্প্রিংস্টিন আমেরিকার বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একজন কঠোর সমালোচক হিসেবে পরিচিত। ট্রাম্পের মেয়াদের পুরো চার বছরইতার কড়া সমালোচনা করেছেন ৭১ বছর বয়সী এই রক তারকা।

এ সমালোচনার কাজে তিনি নিজের ই স্ট্রিট রেডিও প্রোগ্রামকে কাজে লাগিয়েছেন। সম্প্রতি তিনি অস্ট্রেলিয়ান প্রেসকে বলেছেন, ট্রাম্প আবারও র্নির্বাচিত হলে তিনি আমেরিকা ছেড়ে অস্ট্রেলিয়ায় চলে যাবেন।

ব্রিটিশ পত্রিকা ডেইলি টেলিগ্রাফ ও ডেইলি মেইলকেও একই ধরনের ইঙ্গিত দেন তিনি। তিনি বলেন, যদিও ট্রাম্পের বিজয়ের তেমন কোনও সম্ভাবনা না নেই। কিন্তু কোনওভাবে যদি শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প জিতে যান, তাহলে পরের ফ্লাইট ধরেই তিনি অস্ট্রেলিয়া চলে যাবেন।

টমি লি
ট্রাম্প বিজয়ী হলে আমেরিকা ছাড়বে বলে ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন হ্যাভিমেটাল ব্যান্ড মোটলি ক্রুয়ের ড্রামার টমি লিও। তার মতে, ট্রাম্প প্রশাসন আমেরিকাকে বিশ্বের কাছে অনেক ছোট করেছে। ভীষণ অস্বস্তিতে ফেলেছে দেশকে। আর কারণেই তিনি ট্রাম্প পুনরায় নির্বাচিত হলে আমেরিকা ছেড়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।

স্থানীয় বিনোদন পত্রিকা ‘দ্য বিগ ইস্যু’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, নির্বাচনে ট্রাম্প বিজয়ী হলে তিনি আমেরিকা ছেড়ে তার জন্মস্থান গ্রিসে ফিরে যাবেন।

তবে তার আগে লন্ডন যাবেন বলেও জানিয়েছিলেন টমি লি। তখন বলেছিলেন, “বন্ধুরা এটা যদি হয়ই, তবে আমি যুক্তরাজ্যে তোমাদের কাছে যাব আগে। আমি আমার মাতৃভূমিতে ফিরে যাব। গ্রিসের কোনও এক দ্বীপে বাড়ি কিনে থাকব।”

রিকি মার্টিন
ট্রাম্প জয়ী হলে আমেরিকা ছেড়ে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়া তারকার মধ্যে রয়েছেন রিকি মার্টিনও।

রিকি মার্টিন একজন লাতিন পপতারকা। ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর ভীষণভাবে বিরক্ত তিনি। একই সঙ্গে তিনি ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেনের প্রকাশ্য সমর্থক। মায়ামিতে বাইডেনের নির্বাচনী প্রচার সমাবেশেও অংশ নিয়েছিলেন রিকি মার্টিন।

আমেরিকার জনপ্রিয় এই শিল্পী সরাসরি বলেছেন, “আমি বাইডেনের সব সময়ের সমর্থক।”

এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “আমার মতে আমাদের হাতে থাকা একমাত্র বিকল্প তিনি (বাইডেন)। তিনি দারুণ। পুরো জীবনই তিনি রাজনীতিতে কাটিয়ে দিয়েছেন।”

এ সময় তিনি বলেন, ট্রাম্প বিজয়ী হলে তিনি ও তার জীবনসঙ্গী শিল্পী জোয়ান ইয়োসেফ আমেরিকা ছেড়ে অন্যত্র চলে যাওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছেন।

জন লিজেন্ড ও ক্রিসি টিজেন
জন লিজেন্ড ও ক্রিসি টিজেনও এই তালিকায় রয়েছেন। তারা ২০১৯ সালেই ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প বিজয়ী হলে আমেরিকা ছেড়ে যাবেন।

সে সময় তারা বলেন, “আমরা ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর এতটাই বিরক্ত যে আমেরিকা ছেড়ে চলে অন্যত্র যাওয়ার কথা ভাবতে হচ্ছে।”

লিজেন্ড বলেন, “আমাদের পুরো পরিবারের জন্ম ও বেড়ে ওঠা এখানেই। ফলে এমন একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া আমাদের জন্য খুবই কঠিন। কিন্তু এখানকার পরিস্থিতি এমনই। একজন নেতা যখন পুরো দেশ ও গণতন্ত্রকে ধ্বংসের কাজে মেতে ওঠেন, তখন এছাড়া আর কী করার থাকতে পারে, তা আমার জানা নেই।”

তবে এই ঘোষণাই শেষ নয়। গত নির্বাচনের আগেও এমন ঘোষণা দিয়েছিলেন বহু তারকা। তাদের মধ্যে ছিলেন মাইলি সাইরাস, স্যামুয়েল এল জ্যাকসন, স্নুপ ডগ, লিনা ডানহাম, ব্রায়ান ক্র্যানস্টন, অ্যামি শুমার, র‌্যাভেন সায়মন, জর্জ লোপেজ। কিন্তু তাদের কেউই শেষ পর্যন্ত আমেরিকা ছেড়ে যাননি। এবারও যে তারকারা ট্রাম্পের বিজয়ে আমেরিকা ছেড়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন, তারা শেষ পর্যন্ত কথা রাখেন কিনা, তা দেখতে অপেক্ষা করতে হবে বিশ্ববাসীকে।