মহানবীকে নিয়ে কার্টুন গর্হিত অপরাধ: বিএনপি

✍ ডেস্ক রিপোর্ট

সব ধর্মের মানুষের ধর্মবিশ্বাসের প্রতি বিএনপি শ্রদ্ধাশীল- এমন মন্তব্য করে দলটি মহানবী সা.কে নিয়ে ফ্রান্সে ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশের ঘটনায় মুসলিম বিশ্বের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ার সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছে।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার নামে কোনো ধর্মনেতার অবমাননা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য হতে পারে না। রাসুল সা.-এর কার্টুন প্রকাশকে বিএনপি একটি গর্হিত অপরাধ বলে গণ্য করে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।

রবিবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলের পক্ষ থেকে এই প্রতিক্রিয়া জানান।

দলের চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে ফখরুল বলেন, ‘পবিত্র ধর্ম ইসলাম এবং মহানবী হযরত মুহাম্মদ সা.-এর ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশ ও তার পক্ষে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের অবস্থান গ্রহণকে কেন্দ্র করে সারা বিশ্বের ২০০ কোটিরও বেশি মুসলমানসহ সকল ধর্ম-বর্ণের কোটি কোটি যুক্তিবাদী ধর্মপ্রাণ মানুষ এবং বিভিন্ন রাষ্ট্র যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে চলেছে-বিএনপি তার সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করছে।’

শনিবার দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে জাতীয় স্থায়ী কমিটির এক ভার্চুয়াল বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয় বলে জানান তিনি।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘ধর্মীয় সহিষ্ণুতায় বিশ্বাসী বিএনপি মনে করে যে, মহানবী সা.-এর কার্টুন প্রকাশ ও তা সমর্থন করা যেমন ধর্মবিদ্বেষকে উসকে দেয়ার মতো অপরাধ তেমনি প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে মানুষ হত্যাও গ্রহণযোগ্য নয়। বিশ্বের শান্তি প্রতিষ্ঠার মহান ব্রত নিয়ে যিনি মানবতার ধর্ম ইসলাম প্রচার করেছেন সেই মহানবী সা.-এর দীক্ষাই হোক আমাদের নির্দেশক।’

ফখরুল বলেন, ‘বিএনপি আরও মনে করে যে, পবিত্র ইসলাম ও মহানবী সা.-এর অনুসারীদের আবেগকে আহত করে বিশ্বব্যাপী যে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে তার গোটা মানবজাতির ঐক্য ও মিলনের জন্য এক অনতিক্রমনীয় হুমকিতে পরিণত হয়েছে। এই সংকট থেকে বেরিয়ে আসার এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা ও মূল্যবোধকে স্বীকৃতি দেয়ার মতো মানবিক ও গণতান্ত্রিক দায়িত্ব পালনের জন্য ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টকে উদ্যোগী হতে হবে। কারণ ঘৃণা ও সন্ত্রাস কোনোটাই বিশ্ববাসীর কাম্য নয়।’

এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের অবস্থান নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকার কোনটাতে প্রতিবাদ জানায় আর কোনটাতে জানায় না- এটা বলা দুরূহ। কারণ আপনারা লক্ষ্য করে দেখেছেন যে, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব যেখানে প্রশ্নের সম্মুখীন হয়, সীমান্তে গুলি করে মারা হয় আমাদের নাগরিকদেরকে, সে বিষয়ে কিন্তু আমাদের সরকার কোনো প্রতিবাদ জানান না বা প্রতিবাদ করেন না। আজ পর্যন্ত বাংলাদেশের জনগণের যে ইচ্ছা বা আকাঙ্ক্ষা বা তাদের যে সমস্ত চিন্তা-ভাবনা সেগুলোকে লক্ষ্য করে বা সেগুলোকে কেন্দ্র করে সরকার কখনো সেই ধরনের স্ট্যান্ড নেয়নি।’

ফখরুল বলেন, ‘আমার মনে হয়, সেই কারণে হয়ত তারা (সরকার) এখন পর্যন্ত কোনো রি-অ্যাকশন দেয়নি। সেটাতে তাদের যে চরিত্র তা পরিষ্কার হয়ে উঠে।’

এসময় তিনি নির্বাচন কমিশন কর্তৃক প্রস্তাবিত স্থানীয় সরকার নির্বাচন আইন-২০২০ এর কড়া সমালোচনা করেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন যে আইন সংশোধন করতে যাচ্ছে বা প্রস্তাব করেছে, সেগুলো করলে তা গণতন্ত্রের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। সব দলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন বেশ কঠিন হয়ে পড়বে।’

ফখরুল জানান, নির্বাচন কমিশন কর্তৃক প্রস্তাবিত স্থানীয় সরকার নির্বাচন আইন-২০২০ বিষয়ে নজরুল ইসলাম খানের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি বিস্তারিত পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন তৈরি করেছে, যা গতকাল স্থায়ী কমিটির বৈঠকে গৃহীত হয়। আজ বিকালে বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল এই সংক্রান্ত সুপারিশ ও চিঠি ইসিতে দিয়ে আসবে।’

শনিবারের বৈঠকে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে ১১৫ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন দিয়েছে বিএনপি।

এছাড়া আগামী ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ যথাযোগ্য মর্যাদার সঙ্গে পালনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।