পুলিশ হেফাজতে রায়হানের মৃত্যু : ছেলে হত্যার বিচার চেয়ে হাইকোর্টে রায়হানের মা

সাইদুর রহমান মিন্টু
বিজ্ঞাপন

✍ ডেস্ক রিপোর্ট

সিলেটে পুলিশ হেফাজতে রায়হান আহমেদের মৃত্যুর ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন নিহত রায়হানের মা সালমা বেগম। তিনি রবিবার হাইকোর্টে আবেদন দিয়ে বলেছেন, তার ছেলেকে পুলিশী হেফাজতে হত্যার ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়ে যে রিট আবেদন করা হয়েছে তাতে তিনি একজন আবেদনকারী(পক্ষভূক্ত) হতে চান।
সোমবার বিচারপতি জেবিএম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চে এ আবেদনের ওপর শুনানি হবে বলে জানিয়েছেন সালমা বেগমের আইনজীবী ব্যারিস্টার ফয়েজ উদ্দিন আহমদ।

পুলিশ হেফাজতে রায়হান আহমেদের মৃত্যুর ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়ে গত ১২ অক্টোবর হাইকোর্টে রিট আবেদন(রিট নম্বর-৭১৩২/২০২০) করেন ব্যারিস্টার ফয়েজ উদ্দিন আহমদ। এই রিট আবেদনে নিজেকে আবেদনকারী হিসেবে বিবেচনা করতেই (পক্ষভূক্ত) হাইকোর্টে আবেদন দিয়েছেন রায়হানের মা সালমা বেগম। আদালত এ বিষয়ে সোমবার শুনানির জন্য দিন ধার্য করেছেন বলে জানিয়েছেন আইনজীবী। রায়হানের মৃত্যু নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন সংযুক্ত করে ওই রিট আবেদন করা হয়।

গত ১১ অক্টোবর বিকেলে সিলেট নগরের আখালিয়া নেহারিপাড়া এলাকার বাসিন্দা রায়হান আহমেদের(৩৫) মরদেহ পাওয়া যায় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা সেখানে ছুটে যান। তারা রায়হানের শরীরে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার তান্নি বাদী হয়ে ওইদিনই সিলেট কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, সিলেটের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে রায়হান আহমেদকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। যদিও পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ছিনতাইকালে গণপিটুনিতে মারা গেছে রায়হান।

রায়হানের মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠায় তা তদন্তের জন্য সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (উত্তর) শাহরিয়ার আলম মামুনের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি পুলিশী নির্যাতনের অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে। এ ঘটনায় বন্দরবাজার ফাঁড়ি ইনচার্জ আকবর হোসেন ভুঁইয়াসহ চার পুলিশকে সাময়িক বরখাস্ত এবং তিনজনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এরইমধ্যে মূল অভিযুক্ত আকবর হোসেন ভুইয়া পালিয়ে গেছেন।

পরিবারের দাবি, গত ১০ অক্টোবর রাতে রায়হানকে বন্দরবাজার ফাঁড়িতে ধরে নিয়ে ১০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করে পুলিশের কয়েকজন সদস্য। ফোনে পরিবারের সদস্যদের টাকা নিয়ে আসতে বলেন রায়হান। গত ১১ অক্টোবর সকালে ৫ হাজার টাকা নিয়ে পরিবারের সদস্যরা থানায় গিয়ে জানতে পারেন, অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে যেয়ে তারা জানতে পারেন, রায়হান মারা গেছেন।

googel
বিজ্ঞাপন