চট্টগ্রামে জশনে জুলুসের র‌্যালীতে লাখো ভক্তের সমাগম

ডেস্ক রিপোর্ট,

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষ্যে চট্টগ্রামে আনজুমানে রাহমানিয়া আহমাদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনায় এবার সীমিত পরিসরের কথা থাকলেও লাখো ভক্তের ঢল নেমেছে জশনে জুলুসে। শুধু তা নয় কারী,সায়েরদের কণ্ঠ ধ্বনিত হচ্ছে ‘তৌহিদেররই মুর্শিদ আমার মোহাম্মদের নাম।’

৩০ অক্টোবর শুক্রবার সকাল ৮ টায় নগরীর ষোলশহর জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়াম মাদ্রাসা সংলগ্ন আলমগীর খানকা থেকে জশনে জুলুসের র‌্যালী শুরু করে মুরাদপুর হয়ে ২ নং গেইটে থেকে আবার জামেয়ার মাঠে ফিরে আসে। এসময় চারদিকে সায়ের,কারীদের কোকিল কন্ঠে ধ্বনিত হয়….

‘ত্রিভুবনের প্রিয় মোহাম্মদ এল রে দুনিয়ায় আয়রে সাগর আকাশ বাতাস দেখবি যদি আয়।’ ‘মুহাম্মদের নাম জপেছিলি বুলবুলি তুই আগে, তাই কি রে তোর কণ্ঠেরই গান এমন মধুর লাগে।’

এসময় জুলুসে নেতৃত্ব দেন আনজুমানের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মহসিন, সেক্রেটারি মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, গাউসিয়া কমিটির চেয়ারম্যান পেয়ার মোহাম্মদ, জামেয়ার অধ্যক্ষ মুফতি অছিউর রহমান আলকাদেরি প্রমুখ।

‘মুহাম্মদ বোল রে মন নাম আহমদ বোল।’ ‘তৌহিদেররই মুর্শিদ আমার মোহাম্মদের নাম।’ ‘তোমার নামে একি নেশা হে প্রিয় হযরত।’ ‘এ কোন মধুর শারাব দিলে আল-আরাবী সাকি।’ ‘মোহাম্মদ নাম যতই জপি ততই মধুর লাগে।’ ‘ইয়া মুহাম্মদ বেহেশত হতে খোদায় পাওয়ার পথ দেখাও’ ইত্যাদি ইত্যাদি হামদ আর নাতে রাসূলে (স:) ধ্বনিতে মুখরিত চট্টগ্রাম নগরী।

মহামারী করোনা ভাইরাসের মাঝেও হাটহাজারী থেকে আসা শাহাদাৎ, রাউজান থেকে আসা আরাফাতসহ অনেকেই এবার জুলুসে অংশ গ্রহণ করতে পেরে খুব খুশি হয়েছেন বলে জানান। তারা আরো বলেন, মনে করেছি এবার করোনার জন্য তেমন আশেক ভক্তরা আসবেন না কিন্তু এসেই দেখলাম লাখ লাখ মানুষ। এত মানুষ হবে তা কল্পনাও করিনি। কারণ বিগত সময় আমাদের এলাকা থেকে কয়েক হুজুর কেবলাকে দেখার জন্য ৩/৪ বাস মানুষ আসতো। এবার কিন্তু এক বাসও মানুষ আসেনি তারপরও এত মানুষ হল সত্যিই খুব খুশি লাগল।

‘আসিয়াছেন হাবিবে খোদা, আরশ পাকে তাই ওঠেছে শোর; চাঁদ পিয়াসে ছুটে আসে আকাশ পানে যেমন চকোর।’

প্রসঙ্গত:১৯৭৪ সাল থেকে প্রতিবছর ১২ রবিউল আউয়াল আনজুমানে রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনায় এ জুলুস হয়ে আসছে। ওই বছর নগরের বলুয়ার দীঘি খানকাহ থেকে আল্লামা তৈয়্যব শাহ (রা.) এ জুলুসের প্রচলন করেন।করোনা ভাইরাস সংক্রমনের কারনে অন্যান্য বারের ন্যায় এবার আওলাদে রাসূল আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ তাহের শাহ আল্লামা সৈয়্যদ হামেদ শাহ ও মুহাম্মদ কাসেম শাহ জুলুসে উপস্থিত ছিলেন না।

জুলুসে মিলাদ, কেয়াম, জিকির, জুমার নামাজ আদায় ও আখেরি মোনাজাতে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর জন্য শান্তি কামনার মাধ্যেমে জুলুস সমাপ্ত হবে।