পেশাদার সাংবাদিকদের প্রাণের সংগঠন ‘ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিট (ডিআরইউ)’-কে একটি ব্যতিক্রমধর্মী সংগঠন হিসেবে আখ্যা দিয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘বর্তমান প্রেক্ষাপটে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি একটি ব্যতিক্রমধর্মী সংগঠন। এখন পর্যন্ত এই সংগঠনটি কোনো রাজনৈতিক বিভাজনের ডুব দেয়নি।’

বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) চত্বরে ‘শোভাযাত্রা’ উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন। ‘ডিআরইউ’র রজত জয়ন্তী উপলক্ষে এ শোভাযাত্রা আয়োজন করা হয়।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘একটা পেশাদার সংগঠন হিসেবে গত ২৫ বছর ধরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি তাদের ঐক্য ধরে রাখতে পেরেছে। এই জন্য আমি তাদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। তারা আরও বেশি প্রশংসার দাবিদার এই জন্য যে, বর্তমানে বাংলাদেশে যে ধরনের চিন্তা-ভাবনা, যে ধরনের সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, যার কুফল শুধু রাজনীতিতে নয়, সর্বক্ষেত্রে আমরা দেখতে পাচ্ছি— সেখান থেকে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি নিজেদেরকে মুক্ত রাখতে পেরেছে।’

বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, ‘আজ সমাজ বিভক্ত হয়ে যাচ্ছে, মানুষ বিভক্ত হয়ে যাচ্ছে। এটা আমাদের জন্য খুব বেশি সুখকর বিষয় নয়, আমাদের ভবিষ্যতের জন্য তা খুব আনন্দের বিষয় নয়। এক্ষেত্রে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি এখন পর্যন্ত তাদের কার্যক্রম যেভাবে পরিচালনা করছে, সেটি নিঃসন্দেহে আশার আলো দেখায়।’

‘আমরা বিশ্বাস করি, গণমাধ্যম হচ্ছে গণতন্ত্রের জন্যে, একটি দেশের উন্নয়নের জন্যে সামগ্রীক, সামাজিক এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য সব চাইতে বড় ভূমিকা রাখে। যে দেশের গণমাধ্যম যত স্বাধীন, যত শক্তিশালী, সেই দেশে গণতন্ত্র ততবেশি শক্তিশালী’— বলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, ‘কিন্তু দুর্ভাগ্য আমাদের। আজকে সারাবিশ্বে গণমাধ্যম কর্মীদের ওপর চাপ সৃষ্টি শুরু হয়েছে। বাংলাদেশে সেই চাপ অনেক বেশি আমরা লক্ষ্য করছি। আমরা এখানে দেখেছি যে, শুধুমাত্র রাজনৈতিক কারণে অনেক সংবাদকর্মীকে নিগৃহীত হতে হয়েছে, অনেককে প্রাণ দিতে হয়েছে এবং তাদেরকে অনেক সময় কারাগারে যেতে হয়েছে। সংবাদপ্রতিষ্ঠানগুলো অনেক সময় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য যে আইনগুলো তৈরি করা হয়েছে, সেটি গণমাধ্যমের স্বাধীনভাবে কাজ করার জন্য উপযোগী নয়।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা দুঃখের সঙ্গে লক্ষ্য করেছি বাংলাদেশে মত প্রকাশের স্বাধীনতা, ভিন্ন মতকে সহ্য করার যে সহনশীলতা, তা ধীরে ধীরে একেবারেই নিচিহ্ন হয়ে যাচ্ছে। আজকে খুব লজ্জার সঙ্গে একটা খবর লক্ষ্য করলাম- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের দশজন সদস্য তাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে চিঠি লিখেছে যে, বাংলাদেশে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে প্রায় চার শ’ মানুষ বিনা বিচারে নিহত হয়েছেন। বাংলাদেশের এই বিষয়গুলো আজকে বিশ্বের কাছে যাচ্ছে, বিদেশের কাছে যাচ্ছে এবং বিশ্বসভার কাছে যাচ্ছে, যা আমাদের জন্য সুখকর নয়।’

বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, ‘আমরা সব সময় বলে আসছি যে, বাংলাদেশে গণতন্ত্র এখন প্রায় অনুপস্থিত। এখানে মানুষের স্বাধীনতাকে নিশ্চিত করতে হবে। সংবাদপত্রের স্বাধীনতাকে নিশ্চিত করতে হবে। আমরা সব সময় সংসদীয় গণন্ত্র এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে আসছি।’

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ‘আমরা ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই। তারা এই দুঃসময়, যখন কোভিড-১৯ করোনাভাইরাস সারা বিশ্বকে গ্রাস করে ফেলছে, মানব সভ্যতাকে ম্লান করে দিচ্ছে, সেই সময় তারা বাংলাদেশে অত্যন্ত দায়িত্বের সঙ্গে এই সংগ্রামে এই যুদ্ধে ফ্রন্টলাইনার হিসেবে কাজ করছেন। অনেকেই মৃত্যুবরণও করেছেন।’

বিজ্ঞাপন
এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি রফিকুল ইসলাম আজাদ, সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ চৌধুরী ও সাংবাদিক নেতা কাদের গণি চৌধুরীসহ অনেকে।