সাইদুর রহমান মিন্টু
বিজ্ঞাপন

✍ ডেস্ক রিপোর্ট

২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর দেশের মোট পৌরসভার প্রায় ৭৫ শতাংশের নির্বাচন এক দিনে হলেও এবার তা হচ্ছে না। বিষয়টি নিয়ে এখনো নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত না হলেও দুজন নির্বাচন কমিশনার ব্যক্তিগত মত হিসেবে জানান, এবার বিভিন্ন দিনে পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠানের পক্ষে তাঁরা। ২০১৫ সালের আগে ২০১১ সালের ১২-১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত চার ধাপে ২৬৯টি পৌরসভার নির্বাচন হয়েছিল। এবারও সেভাবে হতে পারে।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম গত রবিবার বলেন, ‘এবার একই দিনে নির্বাচন অনুষ্ঠানে নানা সমস্যা রয়েছে। গতবার একই দিনে অনেক পৌরসভার নির্বাচন হলেও নির্বাচিতদের প্রথম সভা সব পৌরসভায় একসঙ্গে হয়নি। নির্বাচনের ফল প্রকাশের তিন মাস পর সভা হয়েছে—এমন ঘটনাও আছে। সে কারণে আগামী মার্চের মধ্যে যেসব পৌরসভার মেয়াদ শেষ হচ্ছে, সেসব পৌরসভার নির্বাচন মার্চের আগে মেয়াদভেদে বিভিন্ন দিনে করা যেতে পারে।’

নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘আমার ব্যক্তিগত মত হচ্ছে, জানুয়ারি থেকে এ নির্বাচন শুরু করা যেতে পারে। করোনা পরিস্থিতি যা-ই হোক, নির্বাচন যথাসময়ে সম্পন্ন করতে হবে। যেহেতু এবার এ নির্বাচনে ইভিএম (ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন) ব্যবহারের প্রস্তুতি রয়েছে, সে কারণে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য এক দিনে নির্বাচন না করে বিভিন্ন দিনে নির্বাচন করা দরকার।’

২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর একই দিনে দেশের প্রায় ২৩৪টি পৌরসভায় ভোটগ্রহণ হয়। এ নির্বাচন ছিল দেশে প্রথমবারের মতো পৌরসভার মেয়র পদে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন। এই পৌরসভাগুলোতে ভোটকেন্দ্র ছিল তিন হাজার ৫৮২টি। গড়ে প্রতিটি পৌরসভায় ভোটকেন্দ্র ছিল ১৫টি। নির্বাচন কর্মকর্তারা বলছেন, এবারের নির্বাচন একাধিক দিনে হলে সব পৌরসভায় ইভিএম ব্যবহারে সমস্যা হবে না। এ ছাড়া পৌরসভার নির্বাচন যেহেতু শহর এলাকায়, সে ক্ষেত্রে এর ব্যবহারে প্রতিকূলতাও কম।

এর আগে গত ১ ফেব্রুয়ারি ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনে দুই হাজার ৪৮৬টি কেন্দ্রের সব কেন্দ্রে ইভিএমে ভোটগ্রহণ হয়েছিল। দেশে ভোটার শনাক্তকরণ পদ্ধতির বর্তমান ইভিএম ব্যবহারের ক্ষেত্রে ঢাকার দুই সিটির ওই নির্বাচনে ব্যাপকভাবে ইভিএম ব্যবহার করা হয়। তার আগে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ছয়টি আসনের সব কেন্দ্রে এ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদের কয়েকটি আসনের উপনির্বাচন এবং স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের কয়েকটি নির্বাচনেও ইভিএম ব্যবহার করা হয়েছে।

এদিকে স্থানীয় সরকার বিভাগ এরই মধ্যে দেশের নির্বাচন উপযোগী পৌরসভার তথ্য নির্বাচন কমিশন সচিবালয়কে জানিয়েছে। সে তথ্য অনুসারে দেশের মোট ৩২৯টি পৌরসভার মধ্যে আগামী মার্চেই মেয়াদ শেষ হবে ২৬১টির। এর মধ্যে ২৬টি পৌরসভায় মামলা ও সীমানা পরিবর্তনসংক্রান্ত জটিলতায় নির্বাচন করা সম্ভব হবে না। যথাসময়ে বা মার্চের আগে নির্বাচন করতে হবে ২৩৫টি পৌরসভার। এ ছাড়া আগামী এপ্রিল বা তার পরে মেয়াদ শেষ হবে ৬৮টি পৌরসভার। এর মধ্যে আইনগত জটিলতায় ১২টি পৌরসভায় নির্বাচন অনুষ্ঠানে বাধা রয়েছে। পৌরসভা আইন অনুযায়ী, পৌরসভার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের ৯০ দিনের মধ্যে ভোটগ্রহণের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

এদিকে এবারের পৌরসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ এখনো ঠিক না হলেও সম্ভাব্য প্রার্থীরা নানাভাবে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন। দলীয় সমর্থন পেতে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সিনিয়র নেতাদের আস্থাভাজন হওয়ারও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন প্রার্থীরা।

googel
বিজ্ঞাপন