সংগঠনে ভাঙন নিয়ে যা বললেন নুর

সাইদুর রহমান মিন্টু
বিজ্ঞাপন

✍ ডেস্ক রিপোর্ট

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় গড়ে ওঠা সংগঠন, ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের একদল নেতা নিজেদের সংগঠনটির নেতা হিসেবে ঘোষণা করেছেন। একই সঙ্গে তারা ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক ও পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়কদের একজন, মুহাম্মদ রাশেদ খাঁনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন।

বৃহস্পতিবার ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে তারা সংগঠনটির একটি কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করেছেন- যাতে আহ্বায়ক হিসেবে রাখা হয়েছে ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক এপিএম সোহেলকে।

সোহেল বিবিসি বাংলাকে বলছেন, তারা সংগঠন ভাঙেননি, বরং অন্যায়কারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে সংগঠনকে রাজনীতিকিকরণের হাত থেকে রক্ষা করেছেন।

কোটা সংস্কার আন্দোলন ও পরবর্তী সময়ে ডাকসুর ভিপি হওয়ার পর ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের একচ্ছত্র নেতায় পরিণত হওয়া নুরুল হক নুর বলছেন, ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ কোটা সংস্কার আন্দোলনের মাধ্যমে গড়ে উঠেছিল এবং তাতে ছাত্রলীগ, ছাত্রদলসহ বিভিন্ন সংগঠন থেকেও অনেকে এসেছিলেন।

‘সম্প্রতি আমরা যখন রাজনৈতিক দল গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করেছি তখন ছাত্র অধিকার পরিষদ, যুব অধিকার পরিষদের মতো সংগঠন করেছি। আর ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নামে যারা নতুন কমিটি ঘোষণা করেছে তারা বেশিরভাগই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্ত। কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় তাদের সম্পৃক্ত করেছিলাম। এখন সরকার তাদেরকে ব্যবহার করছে আমাদের হেয় করার জন্য। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতাতেই কখনো মামলা হচ্ছে বা কখনো আমাদের অবাঞ্ছিত করছে’, বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন তিনি।

নূর জানান তারা শিগগিরই নাগরিক প্ল্যাটফর্ম, বাংলাদেশ গণঅধিকার পরিষদ গঠন করবেন এবং এটা জেনেই সরকার তাদের নানা ভাবে দমানোর চেষ্টা করছে।

‘কারণ বাংলাদেশে এখন অগণতান্ত্রিক শাসন চলছে ও রাজনৈতিক দলগুলো কথা বলতে পারছে না। সেখানে বাধা অতিক্রম করে আমরা একের পর এক সফল ছাত্র আন্দোলন করেছি। সরকার এসব কারণেই এখন কোটা সংস্কার আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন এমন কয়েকজনকে ব্যবহার করছে। তারাই আজ সংবাদ সম্মেলন করেছে আমাদের বিরুদ্ধে,’ বলছিলেন তিনি।

তবে সরকারের সাথে তাদের যোগসাজশের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক হিসেবে আজ যার নাম ঘোষণা করা হয়েছে সেই এপিএম সোহেল।

বিবিসি বাংলাকে তিনি বলছেন, সংগঠনটিতে অন্যায় নিয়ে কিছু বললেই এসব ট্যাগ দেয়া হতো তাদের (নূর-রাশেদের) পক্ষ থেকে।

সংবাদ সম্মেলনে আংশিক কমিটি ঘোষণা দিয়ে লিখিত বক্তৃতায় বলা হয়েছে, ‘নুরের একক সিদ্ধান্তে রাজনীতি করার প্রক্রিয়া শুরু হয় যা একপ্রকার স্বৈরতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত এবং সেই সাথে চরম বিরোধ সৃষ্টি করে সংগঠনের অভ্যন্তরে।’

এতে বলা হয়, ‘গুটিকয়েক নেতার অহমিকা, অহংকার, একরোখা সিদ্ধান্তের কারণে সাংগঠনিক অবক্ষয়ের দিকে ধাবিত হচ্ছে আমাদের হাজারো ত্যাগের বিনিময়ে গড়ে ওঠা সংগঠন। এরই ফলশ্রুতিতে একে একে বিভিন্ন কেলেঙ্কারি বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশ পাচ্ছে যা আমাদের জন্য খুবই লজ্জার এবং দুঃখজনক।’

প্রসঙ্গত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রলীগের প্রার্থীকে হারিয়ে নুরুল হক নুর ভিপি নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং তারপর থেকেই তিনি সরকারের কঠোর সমালোচনা করে আসছেন।

সম্প্রতি তিনিসহ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে ধর্ষনের অভিযোগে মামলা করেছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী।

পরে তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনেও মামলা করেছেন ওই শিক্ষার্থী।

নুর তখন বিবিসিকে বলেছিলেন যে, ‘সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় আমাদের রাজনীতিকে নষ্ট করার জন্য, আমাদের হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য তিনি এই কাজগুলো করছেন। যে মামলাগুলো করছেন, আমি মনে করি, কোনটার আইনগত ভিত্তি নেই। তাই মামলাগুলো আইনগতভাবে মোকাবেলা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

মামলাগুলোকে ‘রাজনৈতিক’ আখ্যায়িত করে তিনি সেগুলোকে রাজনৈতিকভাবেই মোকাবেলা করবেন বলে জানিয়েছিলেন তখন।
আবার নূরসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলার বাদী ক্যাম্পাসে এখনো তার কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন। -বিবিসি বাংলা

googel
বিজ্ঞাপন