নোয়াখালীতে গৃহবধূ নির্যাতনের ঘটনার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

সাইদুর রহমান মিন্টু
বিজ্ঞাপন

বেঁধে রেখে গৃহবধূকে নিজ ঘরে বিবস্ত্র করে নির্যাতন ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার ঘটনার প্রধান আসামি বাদলকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১১। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

বাদলকে ঢাকা ও দেলোয়ারকে নারায়ণগঞ্জ থেকে অস্ত্রসহ সোমবার (৫ অক্টোবর) ভোর রাতে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর আগে রোববার রাতে আরও দুই আসামিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তারা হলো- একলাশপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের জয়কৃষ্ণপুর গ্রামের শেখ আহম্মদ দুলালের ছেলে মো. আব্দুর রহিম (২০) ও মৃত আব্দুর রহিমের ছেলে মো. রহমত উল্যাহ (৩১)। এই নিয়ে এ ঘটনায় মোট চারজনকে গ্রেফতার করা হয়।

সোমবার (৫ অক্টোবর) ভোরে তাকে নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করা হয়। এর আগে ঘটনার ৩৩ দিন পর নয়জনকে আসামি করে ধর্ষণচেষ্টার দুটি মামলা করেন নির্যাতিতা নারী। এরপর পুলিশ অভিযান চালিয়ে উপজেলায় দুই যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

তারা হলেন- একলাশপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের জয়কৃঞ্চপুর গ্রামের শেখ আহম্মদ দুলালের ছেলে মো. আব্দুর রহিম (২০) ও মৃত আব্দুর রহিমের ছেলে মো. রহমত উল্যাহ (৩১)।

বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হারুন উর রশীদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, পুলিশের ৫টি ইউনিট ৭ ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে। পুলিশ অভিযুক্ত অপর আসামিদের গ্রেফতারে জোর তৎপরতা চালাচ্ছে। গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিচারিক আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হবে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২ সেপ্টেম্বর রাত ৯টার দিকে উপজেলার একলাশপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের খালপাড় এলাকার নূর ইসলাম মিয়ার বাড়িতে গৃহবধূর বসতঘরে ঢুকে তার স্বামীকে পাশের কক্ষে বেঁধে রাখে স্থানীয় বাদল ও তার সহযোগীরা। এরপর গৃহবধূকে ধর্ষণের চেষ্টা করে তারা। এ সময় গৃহবধূ বাধা দিলে তাকে বিবস্ত্র করে বেধড়ক মারধর করে মোবাইলে ভিডিও চিত্র ধারণ করে।

নোয়াখালীর পুলিশ সুপার মো. আলমগীর হোসেন জানান, গৃহবধূকে নির্যাতনের ঘটনায় জড়িত কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। অভিযুক্তদের গ্রেফতারে এবং নির্যাতিতা পরিবারকে আইনি সহযোগিতা দিতে জেলা পুলিশের ৫টি ইউনিট মাঠে কাজ করছে।

ভুক্তভোগী গৃহবধূর বাবা জানান, আমরা নিরীহ লোক। সন্ত্রাসীদের ভয়ে কোনো কথা বলার সাহস পাই না। আমি শুধু আল্লাহর কাছে বিচার চাই।

এদিকে স্থানীয়রা জানিয়েছে, গৃহবধূকে নির্যাতনের ঘটনায় জড়িতরা সবাই ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মী এবং এলাকার প্রভাবশালী বিধায় লোকজন তাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করতে পারছে না।

googel
বিজ্ঞাপন