কারাবাখের অভ্যন্তরে ঢুকে পড়েছে আজারবাইজানের বাহিনী

✍ আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিতর্কিত নাগার্নো-করাবাখ নিয়ে চলা অষ্টম দিনের মত রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে আর্মেনিয়ার দখলে থাকা এই অঞ্চলের বেশ অভ্যন্তরে ঢুকে পড়েছে আজারবাইজানের বাহিনী। ইতোমধ্যে তারা এখানকার গ্রামের দখল আর কারাবাখের প্রধান শহরে হামলা চালিয়েছে বলে খবর দিয়েছে এএফপি।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্ধাত্ত আহ্বানের পরও রবিবার দক্ষিণ ককেশাসে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে অষ্টম দিনের মতো সামরিক সংঘাত চলছে। কয়েকদিন আগে আর্মেনিয়া যুদ্ধের ইতি টানতে চাইলেও রবিবার আবার হামলা চালায় আজারবাইজানের বেশ কয়েকটি শহরে। জবাবে পাল্টা হামলা চালালো আজারবাইজান।

স্থানীয় কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, কারাবাখ অঞ্চলের শহর খানকেন্ডিতে বেশ কয়েকটি বড় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। বাকুর দাবি, বড় রকমের সংঘর্ষের পর কারাবাখ এলাকায় তারা সাতটি গ্রাম দখল করেছে।

আজারবাইজান কর্তৃপক্ষ বলেছে, আর্মেনিয়া সমর্থিত সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে রকেট হামলার পর তারা খানকেন্ডি শহরে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। এই শহরটিকে আর্মেনীয়রা স্টেপানাকার্ত বলে থাকে। আজারবাইজান আরো জানিয়েছে, তাদের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর গানজা-তে আর্মেনীয় বাহিনী হামলা চালিয়েছে। এ শহরটি কারাবাখ অঞ্চল থেকে অনেক দূরে এবং আর্মেনিয়া সীমান্তে অবস্থিত।

আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলীয়েভ গতকাল বলেছিলেন, তার দেশের সামরিক বাহিনী কারাবাখ অঞ্চলের সাতটি গ্রাম দখলে নিয়েছে। আজারবাইজানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ বক্তব্য সমর্থন করে রোববার বলেছে, তাদের সামরিক বাহিনী আরো বেশ কিছু নতুন এলাকা দখল করেছে।

আর্মেনিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইয়েরেভান সমর্থিত সেনারা কারাবাখ অঞ্চলে আজারবাইজানের একটি বড় ধরনের হামলা প্রতিহত করেছে। ওই হামলা প্রতিহত করার সময় দুপক্ষে ভয়াবহ সংঘর্ষ হয় এবং বহু হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। আর্মেনিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, কারাবাখ অঞ্চলে আজারবাইজানের হামলা প্রতিহত করার জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেবে তারা। আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ান বলেছেন, তারা বিজয় ছাড়া অন্য কিছু ভাবছেন না।

গত ২৭ সেপ্টেম্বর সকালে হঠাৎ শুরু হওয়া এই যুদ্ধে বড়ো বড়ো কামান, ট্যাঙ্ক, ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে। সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত শতাধিক বেসামরিক নাগরিক এবং আর্মেনিয়ার বেশ কয়েকজন যোদ্ধা নিহত হয়েছে। আজারবাইজানের সামরিক খাতে কতো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে সে বিষয়ে বাকুর পক্ষ থেকে এখনও কিছু বলা হয়নি। তবে ধারণা করা যেতে পারে তাদেরও প্রচুর ক্ষতি হয়েছে। সূত্র-আল জাজিরা।