সৌদির সাথে মিল রেখে মালদ্বীপে ঈদ উদযাপন

0
75
সৌদির সাথে মিল রেখে মালদ্বীপে ঈদ উদযাপন

মালদ্বীপ প্রতিনিধি: আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশের মতো শতভাগ মুসলিম দেশ মালদ্বীপেও আনন্দ-উৎসব আর ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়েছে ঈদুল আযাহ (কোরবানীর ঈদ) যাতে সামিল হয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরাও। শনিবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৭টায় মালদ্বীপের বিভিন্ন দ্বীপে ছড়িয়ে থাকা মসজিদগুলোতে একাধিক জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

রাজধানী মালেতে ঈদের সবচেয়ে বড় জামাত অনুষ্ঠিত হয় মাফানু স্টেডিয়ামে সকাল সাড়ে ৭টায়। মালদ্বীপের জাতীয় মসজিদ মসজিদুল আল-সুলতান (গ্রান্ড মস্ক) জাতীয় মসজিদ ও মসজিদুল আল-সালমান মসজিদে ঈদের নামাজের জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল সাড়ে ৭টায়। এছাড়াও ঈদের জামাতে অংশ নিতে প্রবাসী বাংলাদেশিরা মালদ্বীপের নূরু মিসকিন, ইব্রাহিম মিসকিন, হুকুরু মিসকিন (মসজিদে) যান।

মুসলমানদের ধর্মীয় রিতি অনুযায়ী ঈদুল আযাহার নামাজের পরে পশু জবাই করে কোরবানী দিতে হয় । মালদ্বীপে গবাদিপশু না থাকার কারনে এই দেশের মুসলমানরা রেডিমেট আমদানী করা গরু, মুরগী, খাশী, মাংস রান্না করে থাকেন। এবার প্রথমে এই দেশে সামান্য সংখ্যক জীবিত ছাগল আমদানী করে কোরবানী দিয়েছন স্থানীয় মালদ্বীভিয়ানরা। এই ছাগল কোরবানীতে যুক্ত হয়েছেন, মালদ্বীপে বিবাহিত প্রবাসী ব্যবসায়ী মো: বাবুল হোসেন ও ব্যবসায়ী মো: দুলাল হোসেন এবং ব্যবসায়ী হাদিউল ইসলাম।

এদিকে ঈদুল আযাহকে কেন্দ্র করে মালদ্বীপে বাংলাদেশি মালিকানাধীন রেস্তোঁরাগুলোতে বিভিন্ন ধরনের দেশীয় খাবারের আয়োজন করা হয়। দেশীয় ঐতিহ্যবাহী পায়জামা-পাঞ্জাবিতে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দলবদ্ধভাবে রাজধানী ও পাশ্ববর্তী দ্বীপ হোলেমালে ঘুরে ঈদের আনন্দ উপভোগ করছেন।

মালদ্বীপ প্রবাসী বাংলাদেশিদের ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন সেখানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত রিয়ার এডমিরাল এসএম আবুল কালাম আজাদ সহ সি.আই.পি. আলহাজ্ব মো: সোহেল রানা এবং বাংলাদেশি কমিউনিটি, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, ডক্টর’স প্রতিনিধি ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতারা ।
রাজধানী মালের আইকেয়ার কর্মরত বাংলাদেশি মেডিকেল অফিসার আব্দুর ডাক্তার মোক্তার আলী লস্কর বলেন, “ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল পেশার মানুষ সরকারি ছুটি উপভোগ করলেও ডাক্তার এবং নার্স এই দুই পেশার মানুষদের কোনও ছুটি নাই। ছুটির দিনগুলোতে পরিবার-পরিজন রেখে প্রবাসে ডিউটিতে যাওয়া যে কতটুকু কষ্টের তা বোঝানোর কোনও ভাষা নেই।”
সামাজীক সংগঠন আলোকিত চাদঁপুর প্রবাসী মালদ্বীপ এর সভাপতি মোহাম্মদ হোসেন সুমন বলেন, বাবা-মা কে দেশের মটিতে রেখে প্রবাসে ঈদ উদযাপন করা কষ্টের মাঝে শান্তি খুজে পাই যখন দেখি পরিবার সুখে আছে।

পেশাজীবি মো: হায়দার আলী সাবু বলেন, বলেন প্রবাসের মাটিতে একত্রিত হয়ে ঈদের নামাজ আদায়ের মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশের ঈদের আনন্দের অনুভূতির প্রকাশ পাই। প্রবাসী ব্যবসায়ী মো: হাদিউল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের পন্য এইদেশে আমদানী করে প্রবাসের মাটিতে দেশের পন্য তাদের হাতে তুলে দিতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করি। যার ফলে দেশের সুনাম এবং দেশের কালচার উপভোগ করতে পারি। প্রবাসী ব্যবসায়ী মো: আলতাব হোসেন বলেন, আমরা প্রবাসীরা সত্য ও আর্দশ বুকে ধারন করে কাজ করি তাহলে নিজের এবং দেশের সুনাম বয়ে আনতে পারবো। এবারের ঈদ করোনা মহামারি ধশ নামিয়ে কিছুটা হলো আশার আলো দেখতে পাই।