জানাযা শেষে ,চিরনিদ্রায় অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম

স্বজন-সহকর্মী ও মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। সকল আনুষ্ঠানিকতা এবং জানাজা শেষে তাকে মিরপুর বুদ্ধিজীবী করবস্থানে দাফন করা হয়। তার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সোমবার বন্ধ রাখা হয় সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের সকল কার্যক্রম।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে দীর্ঘদীনের কর্মস্থলে কফিন-বন্দি হয়ে আসে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের মরদেহ। এরপর সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গনে তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন প্রধান বিচারপতি, সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের বিচারপতি, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, আইনজীবীরাসহ তার দীর্ঘ কর্মময় জীবনের সহকর্মী-শুভাকাঙ্ক্ষীরা।

জানাযা শেষে বিশিষ্টজনরা বলেন, মাহবুবে আলম ছিলেন সততার প্রতীক। দায়িত্ব পালন করেছেন নিষ্ঠার সাথে।

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, উনি অনেক কিছু শিক্ষণীয় দেখিয়েছেন, করে গেছেন এবং বলেছেন। সেই ক্ষেত্রে আমি অনুরোধ করবো, যারা ওনাকে দেখে নাই, যারা ওনার সম্পর্কে জানে না, তার আদর্শগুলো জেনে তা ফলো করার চেষ্টা করে।

এক আইনজীবী জানান, উনি ছিলেন আপসহীন। কোন কোর্টে, কোথাও কোন দুর্নীতি হলে উনি তার বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন।

আইনের শাসন এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় মাহবুবে আলমের অবদান অপরিসীম বলেও উল্লেখ করেন তারা।

জানাযায় অংশগ্রহণকারীরা বলেন, সততা ও নিষ্ঠার সাথে তিনি পেশাগত জীবনে কর্ম সম্পাদন করেছেন। এটি আমাদের সকলের জন্যই অনুকরণীয়। তিনি একজন সৎ ও সততানির্ভরযোগ্য একজন অ্যাটর্নি জেনারেল, যিনি তার দায়িত্ববোধ থেকে কখনও ব্যর্থতার পরিচয় দেননি।

জানাজার পর মাহবুবে আলমের কফিনে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। এছাড়া শ্রদ্ধা জানান প্রধান বিচারপতি, আইনমন্ত্রী, ল’রিপোর্টার্স ফোরামসহ বিভিন্ন সংগঠন।

আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাকে মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম গতকাল রোববার সন্ধ্যায় রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।