মার্চ পর্যন্ত জামিনে খালেদা জিয়া,

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির মেয়াদ আরও ছয় মাস বাড়ানো হয়েছে। অর্থাৎ আগামী বছরের মার্চ পর্যন্ত তিনি জামিনে থাকবেন। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) খালেদা জিয়ার দণ্ড স্থগিত করে জামিনের মেয়াদ বাড়ানোর প্রজ্ঞাপন জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের মো. মনিরুজ্জামানের সই করা ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে দাখিলকৃত আবেদন এবং আইন ও বিচার বিভাগের আইনগত মতামতের আলোকে The Code of Criminal Procedure, (Act No. V of 1898)- এর ধারা ৪০১ (১) এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে হাইকোর্ট বিভাগের ক্রিমিনাল আপিল নম্বর-১৬৭৬১৮ (বিশেষ আদালত নম্বর-৫, ঢাকার বিশেষ মামলা নম্বর-১৭/২০১৭ থেকে উদ্ভূত) এবং বিশেষ আদালত নম্বর-৫, ঢাকার বিশেষ মামলা নম্বর-১৮/২০১৭-এ প্রদত্ত বেগম খালেদা জিয়ার দণ্ডাদেশ নিম্নবর্ণিত শর্ত সাপেক্ষে ২৫-০৯-২০২০ খ্রি. তারিখ হতে পরবর্তী ৬ (ছয়) মাসের জন্য নির্দেশক্রমে স্থগিত করা হলো।

প্রজ্ঞাপনের শর্তে বলা হয়েছে, এই ছয় মাসে খালেদা জিয়া ঢাকার নিজ বাসায় থেকে চিকিৎসা গ্রহণ করবেন। এছাড়া এই সময়ে তিনি দেশের বাইরে যেতে পারবেন না।

উল্লেখ্য, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেন বকশীবাজার আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত বিশেষ আদালত। রায় ঘোষণার পর তাকে নাজিমুদ্দিন রোডে পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়। এরপর গত ৩০ অক্টোবর এই মামলার আপিলে তার আরও পাঁচ বছরের সাজা বাড়িয়ে ১০ বছর করেন হাইকোর্ট।

একই বছরের ২৯ অক্টোবর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াকে ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন একই আদালত। রায়ে অনাদায়ে ৬ মাসের কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। পরে কারাগারে থাকা অবস্থায় তাকে চিকিৎসার জন্য বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। এখানে কয়েকদফা চিকিৎসা চলে তার। তার মুক্তির জন্য বিএনপি নেতারা লাগাতার দাবি জানিয়ে আসছিলেন এবং আইনি লড়াই চালাচ্ছিলেন।

শেষ পর্যন্ত দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধি পেতে থাকলে তার পরিবারের পক্ষ থেকে মুক্তির আবেদন করা হয়। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত মার্চে দণ্ড স্থগিত করে ছয় মাসের মুক্তি দেওয়া হয় খালেদা জিয়াকে, যার মেয়াদ আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর শেষ হচ্ছে। প্রথম দফা মেয়াদ শেষ হলে এলে গত ২৫ আগস্ট খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে তাকে স্থায়ী মুক্তি দিতে পরিবার থেকে আবেদন করা হয়। যার পরিপ্রেক্ষিতে তার মুক্তির মেয়াদ আরও ছয় মাস বাড়ানো হলো।