বুড়িচংয়ে প্রতিদিনেই পদ্মবিলে ভিড় করছে অসংখ্য দর্শনার্থী,ধ্বংস হচ্ছে সৌন্দর্য

পদ্মবিলে দর্শনার্থী
Add your HTML code here...

আক্কাস আল মাহমুদ হৃদয়ঃ

আমাদের দেশে বর্ষা ও শরৎকালে বিলে-ঝিলে শোভাবর্ধন করে ফুটে মনোহারি পদ্মফুল।প্রকৃতি বৈরিতায় আগের মতো বিল-ঝিলের জৌলুস হারিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি পদ্মফুলসহ আরও অনেক জলজ উদ্ভিদ আজ প্রায় বিলুপ্ত হতে চলেছে।

পদ্ম সৌন্দর্য, বিশুদ্ধতার প্রতীক। প্রাচীনকাল থেকে বিভিন্ন আচার অনুষ্ঠানে অনেক ফুল ব্যবহৃত হয়ে আসছে, তার মধ্যে পদ্মফুলও অন্যতম।

পদ্ম বিলের পদ্ম ফুল

সারা বাংলাদেশে গুটিকয়েক পদ্ম ফুলের মাঝে অন্যতম কুমিল্লা জেলার বুড়িচং উপজেলার দক্ষিন গ্রামের পদ্মবিল। এখানে অন্তত দশ একর জমিতে ফুটে আছে পদ্মফুল। নীল, সাদা ও হলুদ রংয়ের পদ্মফুল ফুটে আছে বিলজুড়ে।

শরতের নীল আকাশের সাথে বিলে পদ্মের হাসিতে স্বর্গীয় আবেশ তৈরী হয়েছে। এ কারনে দর্শনার্থীদের তুমুল আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিনত হয়েছে বুড়িচং উপজেলার দক্ষিন গ্রামের পদ্মবিল।

দর্শনার্থীরা নৌকা ভাড়া করে পরিবার পরিজন নিয়ে পদ্মবিলে ঘুরছেন ও সৌন্দর্য উপভোগ করছেন। পদ্মফুলের পাশাপাশি রয়েছে সাদা নীল শাপলা। পদ্মবিলের মাঝে নানান প্রজাতির পাখি দেখা মিলে, যেমন- ডাহুক, সারস, বালিহাস।

পদ্ম বিল

বিশ্বের প্রথম হলুদ পদ্ম ফুটেছে এই বিলের জলাশয়ে।যা দেখে বিমোহিত সবাই।সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,পদ্মবিল ঘিরে অসংখ্য মানুষের সমাগম। পদ্মবিল বিল উপভোগ করতে এখানে রয়েছে প্রায় ৮-১০টি নৌকা। সকাল থেকে সন্ধ্যায় পর্যন্ত এই নৌকা দিয়ে দর্শনার্থী উপভোগ করে থাকে। দেখা গেছে যারা ঘুরতে যায় তারাই আবার ফুলগুলো ছিড়ে নিয়ে আসে। যার ফলে ধ্বংস হচ্ছে সৌন্দর্য।

স্থানীয়রা জানায়,প্রতিদিনেই এই দূর দূরান্ত থেকে পদ্মবিলে অসংখ্য মানুষ আসে। তারা প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পদ্মবিল দেখতে এসে ফুলগুলো নিয়ে যায়। যার ফলে প্রায় ধ্বংসের পথে এ পদ্মবিল।

এই পদ্মবিল রক্ষার জন্য প্রশাসনের ভূমিকা ও গুরুত্ব বাড়িয়ে দিতে হবে না হয় অচিরেই ধ্বংস হয়ে যাবে।দর্শনার্থী ও বুড়িচং বাজারের ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলাম বাবু জানান,অতিরিক্ত মানুষের চাপে অবশ্যই পদ্মবিলের ক্ষতি হচ্ছে।

মানুষ কোন নিয়মশৃঙ্খলাই মানছে না, নেই কোন সামাজিক দুরত্ব। তাছাড়া অসংখ্য মানুষ পদ্মফুল ছিড়ে বিলের সৌন্দর্য নষ্ট এবং ধ্বংস করছে। নৌকার ভাড়াও অতিরিক্ত নিচ্ছে।  সকল অনিয়মের জন্য প্রশাসনের তদারকি খুব জরুরী প্রয়োজন মনে করছি।না হয় বুড়িচংয়ের এই প্রকৃতিক সৌন্দর্যের লিলাভুমি অচিরেই হারিয়ে যাবে।

পদ্মবিলে দর্শনার্থী

স্থানীয় ইউপি সদস্য শাহীন বলেন ,এই পদ্মবিল ঘিরে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ আসছে। আমরা প্রশাসনের নির্দেশ মোতাবেক পদ্মবিল সৌন্দর্য রক্ষার চেষ্টা করছি। কিন্তু কিছু দর্শনার্থী নিয়ম ভঙ্গ করে ফুল ছিড়ে নিচ্ছে।

তিনি আরো জানান,পদ্ম ফুলের সেই ভালোলাগা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে হলুদ পদ্ম।সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিশ্বে প্রথমবারের মতো হলুদ পদ্ম ফুটেছে বাংলাদেশে। ঠিক হলুদ নয়, তবে অনেকটাই হলুদাভ। অফহোয়াইটও বলা যেতে পারে।এ যেন অসংখ্য পাপড়ির একটি তোড়া সবুজ পাতা ভেদ করে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। পূর্ণ ফোটা হলুদ পদ্মের পাশে ফুটেছে একটি গোলাপি পদ্মও। যদিও পাপড়ির দৈর্ঘ্য গোলাপি পদ্মের চেয়ে একটু বড়।

নৌকাতে দর্শনার্থী
নৌকাতে দর্শনার্থী

এ বিষয়ে বুড়িচং উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বলেন, হলুদ পদ্ম ফুটেছে এমন খবরে অনেকে ভিড় করছেন এ ফুল দেখতে। বিশ্বে মূলত দুই ধরনের পদ্ম ফুল দেখা যায়। এশিয়ান ও আমেরিকান পদ্ম।

আমেরিকান পদ্মে একটি ফুলে পাপড়ি থাকে ১২ থেকে ১৮টি। সেখানে বুড়িচং দক্ষিণ গ্রাম বিলে এই হলুদ পদ্মে পাপড়ি সংখ্যা ৬০টি বেশি। ভিতরের পাপড়ি পুংকেশরের সঙ্গে যুক্ত থাকে। এই ফুলে পুংকেশরের সংখ্যাও প্রায় ৩০০।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগ ও বেঙ্গল প্লান্ট রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট যৌথভাবে নতুন জাতের হলুদ পদ্ম নিয়ে গবেষণা চালিয়েছে।

ফুল গবেষক ড. আসলাম খানের মতে, হলুদ পদ্ম ফুল পদ্মের নতুন এক জাত। উদ্ভিদবিজ্ঞানে হলুদ পদ্ম হচ্ছে অনন্য সংযোজন।নতুন এই জাতের পদ্মের ছবিসহ কিছু তথ্য-উপাত্ত যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ ও প্রাণী প্রজাতির নামকরণ বিভাগ এবং বিশ্বের সবচেয়ে বড় হারবেরিয়ান জাদুঘর ইংল্যান্ডের কিউ গার্ডেনে পাঠানোর প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। শিগগিরই পাঠানো হতে পারে। আন্তর্জাতিক পরীক্ষা-নিরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে উদ্ভিদবিজ্ঞানে হলুদ পদ্ম হবে অনন্য সংযোজন। এমনকি এর আলাদা নামকরণও হবে।