অপরাধী যদি দলের লোকও হয় তাকে ছাড়ি না, এটা আমার নীতি: শেখ হাসিনা

Add your HTML code here...

✍ ডেস্ক রিপোর্ট,

সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আমি আগেই বলেছি, অপরাধী আমার চোখে অপরাধী। যেকোনো দল, কে কি, আমি কিন্তু সেটা বিচার করি না। সেটা আপনারা দেখেছেন। সেখানে যদি আমার দলেরও লোক হয়, সমর্থক হয় তাকেও আমি ছাড়ি না, ছাড়ব না। এটা হল আমার নীতি এবং সেই নীতি নিয়ে আমি চলছি।’

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) একাদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে সংসদ নেতা একথা বলেন। বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ সম্পূরক প্রশ্ন করেন।

প্রশ্নকারীকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তিনি বলছেন, অতীত নিয়ে টেনে কথা বলি কেন? অতীত থেকে শিক্ষা নিয়েই আগামী দিনের চলার পথ নির্দিষ্ট করতে হয়। তা না হলে শিক্ষা হয় না। যেকারণেই অতীততে স্মরণ করতে হয়। এখানে অতীত নিয়ে কথা না, ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ের কথা আমি বলেছি। সেই ঘূর্ণিঝড়ের তিক্ত অভিজ্ঞতা তো আমরা দেখেছি। কত অবহেলার শিকার ছিল এদেশের মানুষ। ঠিক সত্তরে ঘূর্ণঝড় হওয়ার পর মানুষ যেরকম মানুষ অবহেলিত ছিল। সেই সময়ে আমরাই আগে সেই দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলাম। তারপর তাদের সরকার গিয়েছিল। সরকার তো ঘুমাচ্ছিল। আর এই সংসদে বলেছিল। যত মানুষ মরার কথা ছিল, তত মানুষ মরে নাই। এটা ছিল বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার বক্তব্য ছিল। এটা হল দুর্ভাগ্য। আমি এটাই বলবো, অতীতকে স্মরণ করতে হবে তো, সেখান থেকে শিক্ষা নিতে হবে।‘

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘ইতোমধ্যে ইউএনও’র যে ঘটনা ঘটে গেছে সেটা কিন্তু তদন্ত করে দোষীদের কিন্তু গ্রেফতার করাও হয়েছে, গ্রেফতার করা হচ্ছে এবং সেটা আরও খতিয়ে দেখা হচ্ছে যে, আসলে বিষয়টা কি?’

‘শুধু চুরি না, এর সঙ্গে আরও কি কি ঘটনা থাকতে পারে। সেগুলো কিন্তু যথাযথভাবে দেখা হচ্ছে এবং তাকে হেলিকপ্টারে করে সাথে সাথে নিয়ে আসা, তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা, সব ধরনের ব্যবস্থা কিন্তু আমরা করেছি। সেই সাথে আমি আগেই বলেছি, অপরাধী আমার চোখে অপরাধী। যে কোনো দল, কে কি, আমি কিন্তু সেটা বিচার করি না। সেটা আপনারা দেখেছেন।‘

‘প্রথম কথা আমি অপরাধীকে অপরাধী হিসাবেই দেখি। সেখানে যদি আমার দলেরও লোক হয়, সমর্থক হয় তাকেও আমি ছাড়ি না, ছাড়ব না। এটা হল আমার নীতি এবং সেই নীতি নিয়ে আমি চলছি। আমি অপরাধীকে অপরাধী হিসাবে বিবেচনা করি।’

তিনি আরও বলেন, ‘ইতোমধ্যে যারা ধরা পড়েছে, তাদের ব্যাপারে তদন্ত করা হচ্ছে। পাশাপাশি আরও তদন্ত করা হচ্ছে যে এই ঘটনার মূলে কি আছে? কেন এই ধরনের একটা ঘটনা ঘটল?’

‘করোনাভাইরাসের সময় আমাদের প্রশাসনের কর্মকর্তা, কর্মচারী, প্রশাসন সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ আনসার ভিডিপি এবং আমাদের দলের নেতাকর্মী; প্রত্যেকেই আন্তরিকতার সাথে মাঠে কাজ করেছে। আমাদেরও তো বহু নেতাকর্মী করোনা আক্রান্ত হয়ে গিয়েছে, অনেকে মারা গেছে। কিন্তু তারা রাত দিন পরিশ্রম করেছে, মানুষের ঘরে ঘরে খাবার পৌঁছানোর।’

‘আমাদের একটার পর একটা ধাক্কা আসল। করোনাভাইরাস এই ধাক্কা সামলাতে না সামলাতে সেই ঘূর্ণিঝড় আম্পান। ঘূর্ণিঝড় আম্পানে ২৪ লাখ লোক সরিয়ে আমরা তাদের জীবন বাঁচানোর চেষ্টা করেছি। আম্পানের ধাক্কা না কাটতেই আসল বন্যা। সেই বন্যা মোকাবিলা এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে মানুষের পাশে দাঁড়ানো, তাদের ত্রাণ দেওয়া, তাদের সাহায্য করা এটা কিন্তু সকলে মিলে সম্মিলিতভাবে করেছে। করার ফলে আমরা সেখান থেকে মুক্তি পেয়েছি। আজকে করোনাভাইরাস থেকেও আমরা আস্তে আস্তে নিশ্চয়ই এখান থেকেও মুক্তি পাব। এটা বিশ্বব্যাপী সমস্যা, এখানেই না। যারা এত আন্তরিকার সঙ্গে কাজ করেছে, তাদেরকে এইভাবে আঘাত করা এটা তো কখনো গ্রহণযোগ্য না।’

সংসদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আমরা কিন্তু ইতোমধ্যে অপরাধী শনাক্ত করা বা যাদেরকে ধরা হয়েছে এবং এর পিছনে তাদের সঙ্গে আরও কারা কারা আছে, কাদের মদদ করেছে, সেটাও কিন্তু তদন্ত করা হচ্ছে। এটা খুব ভালোভাবেই তদন্ত হচ্ছে, তদন্তে কোনো ঘাটতি নেই এবং ঘাটতি হবে না। অপরাধী ঠিকই শাস্তি পাবে, সে ব্যবস্থা করবো। অন্তত এইটুকু বলতে পারি।’

শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘আমি এটাও বলবো যে, আমাদের কেউ যেন, আপানারা মাননীয় সংসদ সদস্যরাও, যারা সদস্য আছেন, সংসদ সদস্যদের কাছে আমার অনুরোধ থাকবে—মাননীয় সংসদ সদস্যরাও যেন এই ধরনের অপরাধীদের কখনো রক্ষা করার চেষ্টা না করেন। অপরাধ যে করে, আর অপরাধীদের রক্ষা করে সমানভাবেই তারা দোষী।’