মরদেহ প্রেরণ ও পরিবারকে আর্থিক সহায়তা করল প্রবাসী অধিকার পরিষদ

DSLR Cameras/ https://amzn.to/2P4hlHWCanon EOS Rebel T7 DSLR Camera with 18-55mm Lens | Built-in Wi-Fi|24.1 MP CMOS Sensor | |DIGIC 4+ Image Processor and Full HD Videos$359.99এই ক্যামেরা টি কিন্তে এখানে কিল্ক করুন

ডেস্ক রিপোর্ট,

মালয়েশিয়া থেকে আরো ১টি মরদেহ প্রেরণ ও পরিবারকে আর্থিক সহায়তা করল বাংলাদেশ প্রবাসী অধিকার পরিষদ।

পরিবার-পরিজন ছেড়ে দূর-প্রবাসে রেমিটেন্স যোদ্ধারা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও এই প্রবাসীরা এয়ারপোর্টে ভোগান্তি, জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট ইস্যুসহ বিভিন্ন কাজে হয়রানির শিকার হন, এমনকি একজন রেমিটেন্স যোদ্ধা প্রবাসে মারা যাওয়ার পর তার মরদেহটি দেশে পাঠাতে গুণতে হয় বিপুল পরিমাণ অর্থ। এই অর্থের অভাবে অনেক প্রবাসীর সমাধি হয় বিদেশ বিভূঁইয়ে।

দীর্ঘ ১ মাস চিকিৎসাধীন শেষে মৃত্যুবরন করা মালয়েশিয়া প্রবাসী মোঃ রবিন মুসল্লী’র সমাধি ও হয়তো প্রবাসেই হতো যদি বাংলাদেশ প্রবাসী অধিকার পরিষদ ঠিক সময়ে মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে এগিয়ে না আসতো।

গত ১৮ ই আগস্ট বাংলাদেশ প্রবাসী অধিকার পরিষদ,মালয়েশিয়া এর সমন্বয়ক এস.এম সাফায়েত হোসাইন, মোঃ ইসমাইল হোসাইন ও মোঃ তারিকুর রহমান এর কাছে মৃত মোঃ রবিন মুসল্লীর মরদেহ দেশে প্রেরনের জন্য মানবিক আবেদন আসে। উক্ত আবেদনের প্রেক্ষিতে তারা বাংলাদেশ প্রবাসী অধিকার পরিষদ, মালয়েশিয়ায় সকল সদস্যকে নিয়ে এক জরুরি মিটিংয়ে বিষয়টি উপস্থাপন করার পর মালয়েশিয়া শাখার সকল সদস্য স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে মোঃ রবিন মুসল্লীর মরদেহ দেশে পাঠানোর বিষয়ে ঐক্যমতে পৌঁছে। এবং ২৪ই আগস্ট মৃত রবিনের ফুফাতো ভাই মালয়েশিয়া প্রবাসী মোঃ সেলিম এর হাতে মরদেহ প্রেরনের জন্য সহায়তা তুলে দেয়। এই সময় উপস্থিত ছিলেন,সমন্বয়ক এস.এম সাফায়েত হোসাইন,সমন্বয়ক ইসমাইল হোসাইন,সমন্বয়ক তারিকুর রহমান,বিভাগীয় সমন্বয়ক সালাউদ্দীন ও সদস্য মোঃ জাহিদ। যার ফলে গত ২৬ই আগস্ট তাঁর মরদেহ বাংলাদেশে পৌঁছে। মৃত মোঃ রবিন মুসল্লী ছিলেন মুন্সিগঞ্জ জেলার অন্তর্গত লোহজং উপজেলার বালিগাঁও ইউনিয়নের বাসুদিয়া গ্রামের মোঃ আব্দুল আক্কাস মুসল্লীর ছেলে।

পরবর্তীতে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ এর তত্ত্বাবধানে প্রবাসী অধিকার পরিষদ, মালেশিয়া শাখার সহযোগিতায় মৃত প্রবাসী ভাইয়ের পরিবারকেও নগদ পনের হাজার টাকা (১৫০০০৳) আর্থিক সাহায্য প্রদান করা হয়। যাহা বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ এর মুন্সিগঞ্জ জেলার সভাপতি -মাজহারুল ইসলাম
সহ-সভাপতি- আরাফাত ইসলাম প্রিতম
সাধারাণ সম্পাদক – ফারুক হোসাইন সাব্বির শোকার্ত পরিবারের হাতে তুলে দেন।

বাংলাদেশ প্রবাসী অধিকার পরিষদ এর প্রধান সমন্বয়ক জনাব মো: কবীর হোসেন জানান, এই মানব সেবা মূলক নিউজ দেয়ার মূল উদ্দেশ্য হলো: রেমিট্যান্স যোদ্ধা প্রবাসীদের এই দূর্দশার চিত্র দেখে যেন সকল প্রবাসী তার অধিকারের বিষয়ে সচেতন হয়।তিনি আরো বলেন,বাংলাদেশের অর্থনীতির সমৃদ্ধি, একটি সুন্দর বাংলাদেশ বিনির্মাণ আর একজন প্রবাসীর স্বপ্ন একই সুতোয় বাঁধা থাকলেও প্রবাসীরা নিজেদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। যেন দেখার কেউ নেই।প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা দেখার জন্য রয়েছে একটি মন্ত্রণালয়, সেইসঙ্গে আর্থিক সেবা দিতে রয়েছে একটি ব্যাংক ও। নিজস্ব মন্ত্রণালয় ও ব্যাংক থাকার পরেও কতটুকু উপকৃত হচ্ছেন এই প্রবাসীরা, এই প্রশ্ন আজ সকল প্রবাসী রেমিটেন্স যোদ্ধাদের।

একজন প্রবাসী যতক্ষণ জীবিত থেকে দেশের অর্থনীতির চালিকা শক্তিতে অসামান্য ভূমিকা রাখছেন ততক্ষণ তাকে সূর্য সন্তান, রেমিটেন্স যোদ্ধা আরো কতো নামে ডাকা হয় আর যখন একজন প্রবাসী মারা যায় তখন পড়ে তার মরদেহ দেশে প্রেরনের ক্ষেত্রে সরকার থেকে তেমন কোন সাপোর্ট পায় না।এটাকে তিনি প্রবাসীদের সঙ্গে প্রতারণা বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

প্রবাসীদের এহেন দূরাবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য তিনি সরকার তথা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। প্রবাসীদের সঙ্গে এহেন অমানবিক ও অগ্রহণযোগ্য আচরণ বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা বাস্তবায়নে প্রতিবন্ধকতার প্রধান উপাদান হতে পারে, তাই কোনো রকম কালক্ষেপণ ছাড়াই দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীর সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

সূত্র, স্টার বার্তা