আমরা ভয়ঙ্কর অসুস্থ পরিবেশের মধ্যে আছি: রিজভী

Add your HTML code here...

ডেস্ক রিপোর্ট ঃ

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘আমরা একটি ভয়ংকর অসুস্থ পরিবেশের মধ্যে আছি। সুস্থ গণতন্ত্র নেই বলে আমাদের নানাভাবে, নানা কৌশলে কথা বলতে হচ্ছে। কথার মধ্যে যদি কোনো ব্যত্যয় ঘটে, তবে নিস্তার নেই।’ নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচে ছাত্রদলের সাবেক নেত্রী দিলরুবা শওকতের রুহের মাগফিরাত কামনায় আজ শুক্রবার আয়োজিত দোয়া মাহফিলে এ কথা বলেন রিজভী।

এ সময় রুহুল কবির রিজভী আরো বলেন, ‘মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার করা—এটি একটি অস্ত্র, নানা ধরনের গালাগালি—এটি একটি অস্ত্র, ডিজিটাল আইন—এটি একটি অস্ত্র। এরপর আরো বড় অস্ত্র আছে—বিচারবহির্ভূত হত্যা। এগুলো সব সরকারের হাতে। প্রয়োজনে বিরোধীদলের কণ্ঠকে রুদ্ধ করার জন্য, মিছিল বন্ধ করার জন্য, রাজনৈতিক তৎপরতা বন্ধ করার জন্য সরকারের যখন যে অস্ত্র ব্যবহার করা দরকার, সেই অস্ত্র তারা নির্বিঘ্নে ব্যবহার করছে।’

বিএনপির এই নেতা আরো বলেন, “আজ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের বোধোদয় হয়েছে যে কখন কী ঘটে যায়, বলা মুশকিল। তিনি নিজেদের নেতাকর্মীদের বলছেন, ‘সাবধান, বেশি বাড়াবাড়ি কইরেন না। কখন কী করা যায়, বলা যায় না।’ ওবায়দুল কাদের সাহেব, ১২ বছর পার হয়ে গেল, এর মধ্যে বরকতের টাকা পাচার হলো, এর মধ্যে ফরিদপুর ছাত্রলীগের সভাপতির টাকা পাচার হলো, এর মধ্যে করোনা পরীক্ষার নকল সনদ দেওয়া হলো, রিজেন্ট-জেকেজির মতো ভুয়া হাসপাতালে আপনার ভুয়া সনদ দেওয়া হলো, এই কথাগুলো আগে বলেননি কেন? আজ আপনাদের দলের যে সিন্দুক, সেই সিন্দুক খুলে কেন আমরা সম্রাটকে দেখছি, আমরা খালেদকে দেখছি, আমরা শামীমকে দেখছি? তো, এই কথাগুলো যদি আগে বলতেন এবং তা সত্যি সত্যি প্রয়োগ করতেন, তাহলে আজকের এ পরিস্থিতি তৈরি হতো না। আপনার পুলিশ বাহিনী আছে, অস্ত্র আছে, কিন্তু জনগণ আপনার নেই। এই যে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্নতা, এটা কেন হয়েছে?”

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব বলেন, “আপনারা ২০০৯ সালে যখন ক্ষমতায় এসেছিলেন, তখন থেকে এসব কথা বললেই নেতাকর্মীরা অনেকটা সতর্ক থাকতেন। ডিআরইউতে আপনাদের আরেকজন বলেছে, ‘তোমরা নিজেরা নিজেরা মারামারি করো, ছাত্রদল-বিএনপি কর্মীদের সঙ্গে পারো না’। আপনারা হত্যার উসকানি দিয়েছেন এবং আপনাদের সেই উসকানিতে ছাত্রলীগ বিশ্বজিতের মতো একজনকে হত্যা করেছে। সেদিন আপনি ওবায়দুল কাদের সাধারণ সম্পাদক না হন, বড় নেতাই ছিলেন। আপনার বিবেক তখন নাড়া দেয়নি? ইলিয়াস আলীর মতো একজন সাবেক এমপিকে গুম করে দেওয়া হলো, আপনার বিবেক নাড়া দেয়নি? কে গুম করছে, আপনি তো জানেন।”

রিজভী আরো বলেন, ‘কেউ তার নিজের স্বাধীনতা খর্ব করে? কিন্তু নির্বাচন কমিশন সরকারের কাছে স্বেচ্ছায় নিজেদের স্বাধীনতা সমর্পণ করেছেন। কারণ, গণতন্ত্র থাকলে নির্বাচন কমিশন একটি স্বাধীন স্বতন্ত্র সত্তা। আপনারা নিজেরা নিজেদের আত্মসমর্পণ করে আমি বলব, নিজেদের হিজড়ায় পরিণত করেছেন। সংবিধান তাদের নিজস্ব স্বাধীনতা দিয়েছে, আর ১৯৭২ গণপ্রতিনিধি অধ্যাদেশ তাদের সে ক্ষমতা কেড়ে নিয়েছে। অর্থাৎ তার প্রার্থিতা বাতিল করতে হবে, না রাখতে হবে, এটা একটা আলাদা আইন করার জন্য তারা একটি পূর্ণাঙ্গ রেজুলেশন নিয়েছে। এটা এখন পার্লামেন্টে যাবে এবং সেটা পাস হবে। অর্থাৎ, এই নির্বাচন কমিশন প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে তাদের আত্মার মাধুরী মেশানো লোককে বসিয়েও শেখ হাসিনা প্রশান্তি পাচ্ছেন না। এখন নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতাকে আইন করে সরকার নিজের হাতে রাখবে। শেখ হাসিনা হবেন একক ক্ষমতার অধিকারী। কারণ, আইন তো শেখ হাসিনার হাতে। আর সেই আইন শেখ হাসিনার হাতে তুলে দিচ্ছেন বর্তমান প্রধান নির্বাচন কমিশনার। গতকাল দেখলাম টিআইবিও এটার প্রতিবাদ করছে।’

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘বাকশাল মানে একদলীয় শাসন, বাকশাল মানে অন্য কারো কথা বলার স্বাধীনতা থাকবে না, গণতন্ত্র থাকবে না, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা থাকবে না। কেউ সরকারের সমালোচনা করলে তাকে জননিরাপত্তা আইনে আটকে রাখা হবে।’

সংগঠনের সভাপতি বাহাউদ্দিন বাহারের সভাপতিত্বে এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য রমেশ দত্ত, আমিনুল ইসলাম, মৎস্যজীবী দলের সদস্য সচিব আবদুর রহিম, কৃষক দলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য কৃষিবিদ মেহেদী হাসান পলাশ, এম জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ।