দেশে ফেসবুক পার্টনারের বিরুদ্ধে মামলা

বাংলাদেশের জন্য অনুমোদিত সেলস পার্টনার হিসেবে এইচটিটিপুল বাংলাদেশ লিমিটেড’কে নিযুক্ত করেছিলো ফেসবুক। সেই এইচটিটিপুলের বিরুদ্ধে ৯৩ লাখ টাকা ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগে মামলা করেছে ভ্যাট গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। আজ বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) এই মামলা করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এ ব্যাপারে অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মইনুল খান বলেন, প্রতিষ্ঠানটির কর্মকাণ্ড রহস্যজনক। তাদের অফিস খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। যার নামে প্রতিষ্ঠানটির লাইসেন্স নেয়া হয়েছিলো, তিনি বলছেন এখন তিনি আর ওই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত নেই।

যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তরের (আরজেএসসি) তথ্য অনুযায়ী, এইচটিটিপুল বাংলাদেশের নিবন্ধন নেয়া হয়েছে হাফিজুর রহমান খানের (পিতা মোকাদ্দেস খান) নামে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটির ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছে, শাহ আলী টাওয়ার, ১১ তলা, ৩৩ কাওরানবাজার, ঢাকা। চলতি বছরের মে মাসে ভ্যাট নিবন্ধন গ্রহণ করে ফেসবুকের এজেন্ট এইচটিটিপুল। যার নম্বর- ০০২৮৪৮৮৩৬৭০২০৩।

এর আগে গত ২২ জুন সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিলো, বাংলাদেশে ফেসবুকের জন্য অনুমোদিত সেলস পার্টনার হিসেবে এইচটিটিপুলকে নিযুক্ত করা হয়েছে। এইচটিটিপুল এখন থেকে স্থানীয় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও এজেন্সিগুলোকে দক্ষতার সঙ্গে সহায়তা এবং স্থানীয় মুদ্রায় লেনদেনের সুযোগ তৈরি করে দেবে।

সেই বিজ্ঞপ্তিতে ফেসবুকের এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের ইমার্জিং মার্কেট ডিরেক্টর জর্ডি ফরনিসকে উদ্বৃত করে বলা হয়, দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ ফেসবুকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলোর একটি। তাই এ দেশের মানুষ ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আরও বেশি সংযুক্ত হওয়া আমাদের কাছে প্রাধান্য পায়। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সফলভাবে আমাদের সেলস প্রতিনিধিদের কার্যক্রম সম্প্রসারণের পর এইচটিটিপুলকে বাংলাদেশে ফেসবুকের অনুমোদিত সেলস পার্টনার হিসেবে আনতে পেরে আমরা আনন্দিত।

বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, স্থানীয় ও আঞ্চলিক বাজারের ওপর এইচটিটিপুলের যে ব্যাপক ধারণা ও দক্ষতা রয়েছে তার মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশের স্থানীয় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও এজেন্সিগুলোকে এ সংকটময় পরিস্থিতিতে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠতে এবং তাদের সম্ভাব্য বিস্তৃতিকে আরও ত্বরান্বিত করতে সহায়তা করতে পারবো।

এদিকে এইচটিটিপুল বাংলাদেশ লিমিটেড প্রতিষ্ঠানটির ঠিকানায় গিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ভ্যাট গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা দেখতে পান, এইচটিটিপুল নামে প্রতিষ্ঠান বা এর কোনো কার্যক্রমেরও অস্তিত্ব ওখানে নেই। তবে সেখান থেকে জানানো হয় অফিসটি বনানীতে স্থানান্তর করা হয়েছে। কিন্তু তাদের দেয়া বনানীর ঠিকানায় গিয়েও ওই অফিসের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি।

অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মইনুল খান বলেন, প্রতিষ্ঠানটি তিন মাস আগে নিবন্ধন নিলেও এখন পর্যন্ত কোনো ভ্যাট রিটার্ন দাখিল করেনি। ভ্যাট আইন অনুসারে প্রতি মাসে রিটার্ন দাখিল করা বাধ্যতামূলক। এইচটিটিপুল প্রতি মাসে রিটার্ন দাখিল না করায় প্রতিষ্ঠানটি কর্তৃক কর্তনকৃত ভ্যাট সরকারি কোষাগারে জমা হয়নি।

তিনি আরো বলেন, ভ্যাট গোয়েন্দাদের অনুসন্ধান অনুযায়ী এইচটিটিপুল ইতোমধ্যে ৩১টি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ১৯৮টি চালানে ৬ কোটি ২২ লাখ টাকার বিজ্ঞাপন সংগ্রহ করেছে। এতে তারা ১৫ শতাংশ হারে ৯৩ লাখ ৩২ হাজার টাকার ভ্যাট কর্তন করেছে।

তিনি বলেন, ফেসবুক এজেন্টের ঠিকানা সঠিকভাবে ব্যবহার না করায় এবং মাসিক রিটার্ন জমা না করায় তাদের হাতে থাকা সরকারের ৯৩ লাখ ৩২ হাজার টাকা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। টাকা ঝুঁকি, মাসিক রিটার্ন দাখিল না করায় এবং অনুমোদন ব্যতিরেকে অস্তিত্বহীন হওয়ায় মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। সূত্র:বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

আরো খবর