যে কারণে বন্ধ হচ্ছে স্বাস্থ্য অধিদফতরের বুলেটিন

সারা দেশে নভেল করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত, মৃত্যু ও সুস্থের সংখ্যা এবং এ সংক্রান্ত আপডেট তথ্য নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রতিদিনের অনলাইন বুলেটিন আজ থেকে বন্ধ হচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের সিদ্ধান্ত মোতাবেক, গতকাল মঙ্গলবারই শেষ অনলাইন ব্রিফিং প্রচারিত হয়েছে। আজ থেকে আর ব্রিফিং হবে না। তবে করোনা সংক্রান্ত নানা তথ্য নিয়মিত গণমাধ্যমে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানাবে স্বাস্থ্য অধিদফতর।

এ বিষয়ে গত সোমবার রাতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. জাহিদ মালেক বলেছেন, ‘আগামী বুধবার থেকে দুপুর আড়াইটায় নিয়মিত এই বুলেটিন আর হবে না।’

স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা করোনাকালীন নিয়মিত বুলেটিন প্রচার করে থাকেন।

গতকাল তিনি নিয়মিত বুলেটিনে সংযুক্ত হয়ে বলেন, ‘বুধবার থেকে দুপুর আড়াইটায় এ ব্রিফিং আর হবে না। তবে করোনার আপডেট তথ্য সংবাদ বিজ্ঞপ্তি আকারে জানানো হবে। তথ্য প্রবাহে কোনও বিঘ্ন হবে না।’

গত ৮ ফেব্রুয়ারি দেশে করোনা ভাইরাস নিয়ে প্রথম ব্রিফিং আয়োজন করে সরকারের জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)। শুরুর দিকে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা ব্রিফিং করতেন। পরবর্তীতে গেল কয়েক মাস নিয়মিত ব্রিফিং দেন ডা. নাসিমা সুলতানা।

দেশে প্রতিদিনই যখন তিন হাজারের কাছাকাছি লোক নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হচ্ছে, মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘতর হচ্ছে, ঠিক তখন কেন বন্ধ করা হচ্ছে করোনার বুলেটিন? এমন প্রশ্নে স্বাস্থ্য অধিদফতরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মো. খুরশীদ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা বিরতিহীনভাবে চার মাস ধরে নিয়মিতভাবে স্বাস্থ্য বুলেটিনে অংশ নিয়ে এবং প্রতিদিন মৃত্যু সংবাদ দিতে দিতে তিনি ক্লান্ত। উনি আর পারছেন না। প্রেসারের ওষুধ খাচ্ছেন নিয়মিত। তাই বুলেটিনে অংশ না নিতে তিনি আমাকে চিঠি লিখেছিলেন।’

এ প্রসঙ্গে খুরশীদ আলম আরও বলেন, ‘নাসিমা সুলতানার ওই চিঠির কথা আমি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে জানানোর পর মন্ত্রণালয় লাইভ বুলেটিন সাময়িক বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সব সময়ের নির্দেশনা ছিল, যেন সিনিয়র কর্মকর্তাকে দিয়ে স্বাস্থ্য বুলেটিন পরিচালনা করা হয়। সে হিসেবে স্বাস্থ্যের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট) ডা. সানিয়া তাহমিনা ঝোরাকে দিয়ে বুলেটিন চালানোর পরিকল্পনা ছিল আমাদের। কিন্তু তিনি এখন আইসোলেশনে আছেন।’

তিনি বলেন, ‘তাই নাসিমা সুলতানার জন্য মানবিক কারণে এই বুলেটিন বন্ধ করা হয়েছে। আগামীতে যদি আবারও করোনার প্রকোপ বাড়ে, তখন পুনরায় স্বাস্থ্য বুলেটিন পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

তবে চিঠিতে অসুস্থতার কথা অস্বীকার করে অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমি একটি চিঠি দিয়েছি, সেটা ঠিক। কিন্তু আমি কোথাও আমার অসুস্থতার কথা বলিনি। আমি চিঠিতে বলেছি, মানুষ নিয়মিত মৃত্যুর খবর নিতে নিতে ক্লান্ত। অনেককে বাজে মন্তব্য করতেও শোনা যায়। সেজন্য লাইভ বুলেটিন না করে প্রেস রিলিজের মাধ্যমে করোনা সংক্রান্ত তথ্য সরবরাহ করা যায় কিনা- আমি সেটি বলেছি। এ বিষয়টি কিন্তু আরও আগে থেকেই আলোচনায় ছিল