বৈরুতের গুদামে ছিল অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটের মজুদ, তাতেই বিস্ফোরণ

লেবাননের রাজধানী বৈরুতের বন্দর এলাকায় ভয়ংকর জোড়া বিস্ফোরণের পরপর ধারণা করা হচ্ছিল, এটা পরিকল্পিত কোনো নাশকতার ঘটনা। ধারণা করা হচ্ছিল, বড় ধরনের হামলা চালানো হয়েছে বৈরুত শহরে। কিন্তু বিস্ফোরণের কয়েক ঘণ্টা পর লেবাননের প্রধানমন্ত্রী হাসান দিয়াব জানিয়ে দেন, বন্দর এলাকার একটি গুদামে মজুদ বিপুল পরিমাণ অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটের মজুদে এ বিস্ফোরণ ঘটেছে। অত্যন্ত দাহ্য অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট সাধারণত কৃষিকাজে সার হিসেবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

লেবাননের প্রধানমন্ত্রী হাসান দিয়াব, ‘বৈরুতে বন্দরের কাছে একটি গুদামে দুই হাজার ৭৫০ টন অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট মজুদ করা ছিল। রাসায়নিক পদার্থের গুদামটি ২০১৪ সাল থেকে ওখানে রয়েছে। এ বিস্ফোরণের কারণ ও এ-সংশ্লিষ্ট তথ্য সবাইকে জানানো হবে। দোষীদের কোনোভাবে ছাড় দেওয়া হবে না।’

হাসান দিয়াব আরো বলেন, ‘এ ভয়াবহ বিপর্যয়ের জন্য যারা দায়ী, তাদের এর মূল্য চুকাতে হবে। বিস্ফোরণে শহীদ ও আহতদের কাছে এটা আমার প্রতিশ্রুতি এবং জাতীয় অঙ্গীকার।’

এ ছাড়া লেবাননের প্রেসিডেন্ট মিশেল আউন এক টু্‌ইট বার্তায় বলেছেন, কোনো গুদামে দুই হাজার ৭৫০ টন অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটের মতো বিস্ফোরক অনিরাপদভাবে মজুদ রাখার বিষয়টি ‘অগ্রহণযোগ্য’।

লেবাননের নিরাপত্তাপ্রধান আব্বাস ইব্রাহিমও দেশটির প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্যকে সমর্থন করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ওই গুদামে বিস্ফোরক পদার্থ মজুদ করে রাখা হয়েছিল। কয়েক বছর আগে তা মজুদ করে রাখা হয়। সেখানেই ওই বিস্ফোরণ হয়েছে। সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা এ খবর জানিয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় রাত ৯টার পর দুটি বিস্ফোরণে তছনছ হয়ে গেছে বৈরুতের বন্দর এলাকা। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিস্ফোরণের ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৭৮ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন চার হাজারের বেশি। নিহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কারণ, হাসপাতালে ভর্তি করা আহতদের অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এ ছাড়া অনেকে এখনো ভবনের নিচে আটকা পড়ে রয়েছেন বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। উদ্ধারকাজ চলছে।

বৈরুত শহরের বন্দর এলাকায় বিস্ফোরণের কয়েক মুহূর্ত পরেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে একাধিক ছবি-ভিডিও। তাতে দেখা গেছে, বন্দর এলাকায় অনেক বহুতল ভবনের কাচ ভেঙে পড়েছে। অনেক ঘরবাড়ি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বৈরুত সমুদ্রবন্দরের আশপাশের এলাকায় বিস্ফোরণ ঘটলেও এর তীব্রতা ছড়িয়েছে বহুদূর। কয়েক কিলোমিটার দূর পর্যন্ত ঘরবাড়ির কাচ ভেঙে গেছে। আশপাশের সব দোকানপাট ধ্বংস হয়েছে। এ ছাড়া ২৪০ কিলোমিটার দূরে ভূমধ্যসাগরের দ্বীপরাষ্ট্র সাইপ্রাস পর্যন্ত শোনা গেছে বিস্ফোরণের শব্দ।

ইসরায়েল-লেবানন সীমান্তে কয়েক দিন ধরেই চলছিল হিজবুল্লাহ জঙ্গিগোষ্ঠীর সঙ্গে ইসরায়েলের সেনাদের সংঘর্ষ। যদিও হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, পুরো বিষয়টিই ইসরায়েলের চক্রান্ত। গত সোমবার রাত থেকে সীমান্তে লড়াইও শুরু হয়। গতকাল মঙ্গলবারের বিস্ফোরণের পর কয়েকটি সূত্র এ ঘটনার জন্য ইসরায়েলের দিকে আঙুল তোলে। কিন্তু সব দাবি উড়িয়ে বিস্ফোরণের আসল কারণ জানিয়ে দিলেন লেবাননের প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী।