বৈরুত বিস্ফোরণে শান্তিরক্ষা মিশনের জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত

লেবাননের রাজধানী বৈরুতের বন্দর এলাকায় গতকাল মঙ্গলবার ভয়াবহ দুটি বিস্ফোরণে অন্তত ৭৮ জন নিহত ও চার হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার পর ওই বিস্ফোরণে জাতিসংঘ শান্তি মিশনের একটি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত এবং জাহাজের কয়েকজন নাবিক আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে লেবাননে অবস্থানরত জাতিসংঘের অন্তর্বর্তীকালীন শান্তিরক্ষা বাহিনী কর্তৃপক্ষ (ইউএনআইএফআইএল)। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানানো হয়েছে।

ইউএনআইএফআইএল এক বিবৃতিতে গতকাল জানিয়েছে, ‘আজ সন্ধ্যায় বৈরুত বন্দরে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটেছে। এর জেরে বন্দরে অবস্থানরত ইউএনআইএফআইএলের টাস্কফোর্সের একটি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইউএনআইএফআইএলের বেশ কয়েকজন নৌ শান্তিরক্ষী আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের আঘাত গুরুতর।’

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ইউএনআইএফআইএল আরো জানায়, তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠিয়েছে।

ইউএনআইএফআইএল মিশনের প্রধান ও ফোর্স কমান্ডার মেজর জেনারেল দেল কোল বলেন, ‘এ কঠিন সময়ে আমরা লেবাননের জনগণ ও সরকারের পাশে রয়েছি। যেকোনো ধরনের সাহায্য-সহযোগিতা দিতে আমরা প্রস্তুত আছি।’

লেবাননের রাজধানী বৈরুতে গতকাল মঙ্গলবার ভয়াবহ দুটি বিস্ফোরণে অন্তত ৭৮ জনের মৃত্যুর খবর দিয়েছেন দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, বিস্ফোরণে চার হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছে এবং বহু ঘরবাড়ি ও গাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। লেবাননের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাবিষয়ক প্রধান জানিয়েছেন, অত্যন্ত বিস্ফোরক রাসায়নিক পদার্থের গুদামে এ বিস্ফোরণ ঘটেছে। সংবাদমাধ্যম বিবিসি ও দ্য গার্ডিয়ান এ খবর জানিয়েছে।

বৈরুতের কর্মকর্তারা বলছেন, এ বিস্ফোরণ একটি দুর্ঘটনা। পরিকল্পিতভাবে এ বিস্ফোরণ ঘটানো হয়নি। তাঁরা বলছেন, গুদামে ছয় বছর ধরে মজুদ রাখা অত্যন্ত বিপজ্জনক বিস্ফোরক থেকে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।

লেবাননের প্রধানমন্ত্রী হাসান দিয়াব এ বিস্ফোরণের ঘটনাকে বিপর্যয় বলে মন্তব্য করেছেন এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথা জানিয়েছেন।

এ ছাড়া লেবাননের প্রেসিডেন্ট মিশেল আউন এক টু্‌ইট বার্তায় বলেছেন, কোনো গুদামে দুই হাজার ৭৫০ টন অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটের মতো বিস্ফোরক অনিরাপদভাবে মজুদ রাখার বিষয়টি ‘অগ্রহণযোগ্য’।

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চল থেকে ইসরায়েলি দখলদারিত্বের অবসান নিশ্চিত করে বৈরুতের হাতে নিয়ন্ত্রণ তুলে দিতে ১৯৭৮ সালের মার্চে আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা বাহিনী মোতায়েন করা হয়। লেবাননে এখনো বিভিন্ন দেশের ১০ হাজারের কিছু বেশি ইউএনআইএফআইএল সেনা রয়েছে।