চীনের ভ্যাকসিন ট্রায়ালে বাংলাদেশের সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়া উচিত

DSLR Cameras/ https://amzn.to/2P4hlHWCanon EOS Rebel T7 DSLR Camera with 18-55mm Lens | Built-in Wi-Fi|24.1 MP CMOS Sensor | |DIGIC 4+ Image Processor and Full HD Videos$359.99এই ক্যামেরা টি কিন্তে এখানে কিল্ক করুন

✍ডেস্ক রিপোর্ট

চীন উদ্ভাবিত করোনা ভ্যাকসিনের (টিকা) ট্রায়াল বাংলাদেশে করার অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিল (বিএমআরসি)। তবে হঠাৎ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সেটা বন্ধ করে দিচ্ছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে চক্রান্তকারীদের প্রবেশ ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। তিনি বলছেন, ‘আমাদের উচিত হবে চীনের গবেষণায় সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়া।’

শনিবার (২৫ জুলাই) ‘জনস্বাস্থ্য কনভেনশন ২০২০’ এর উদ্বোধনী বক্তা হিসেবে এসব কথা বলেন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

তিনি বলেন, ‘আজ যেভাবে আমাদের দেশে করোনা রোগের বিস্তার হচ্ছে, তার সাথে সাথে আন্তর্জাতিক চক্রান্তটাও মনে রাখতে হবে। আমরা সবাই সম্প্রতি লক্ষ করেছি, চীন একটা ভ্যাকসিন ট্রায়াল চায় বাংলাদেশে, অনুমতি পেয়েছে। বাংলাদেশে যেকোনো গবেষণা করার অনুমতি দেয়ার মালিক হচ্ছে বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিল (বিএমআরসি)। তাদের অনুমতিক্রমে আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশে (আইসিডিডিআরবি) এই গবেষণা শুরু করার কথা। এখানেই চক্রান্তটা। আজ পুঁজিবাদ চাইছে তৃতীয় বিশ্বকে এমনভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে, যাতে আমাদের অধিকারটা কাগজে-কলমে থাকে। আমরা নিজেদের বিষয় নিজেরা নিয়ন্ত্রণ করি না। একটা ভ্যাকসিন রিসার্চ হবে, তাতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এত মাথাব্যথা কেন? স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে ভূতের প্রবেশ ঘটেছে। চক্রান্তকারীদের প্রবেশ ঘটেছে। ঠিক যেভাবে দীর্ঘদিন আন্তর্জাতিক ওষুধ কোম্পানিসহ পুঁজিবাদীর ধারকরা তৃতীয় বিশ্বের কণ্ঠস্বর বন্ধ করে রেখেছেন।’

ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, ‘আইসিডিডিআরবির এই ধরনের গবেষণা নতুন না। তারা ইউরোপের কোম্পানির পক্ষে অতীতে ভ্যাকসিন গবেষণা করেছে, তখন তো আপত্তি উঠে নাই। আজ (চীনের ক্ষেত্রে) আপত্তি কেন? কারণ এখানে ট্রিলিয়ন ডলারের ব্যবসা আছে, জনগণের স্বাস্থ্যের ব্যাপার আছে। আজ এটি যদি সফল হয়, ভ্যাকসিনে সফল হয়, তাহলে আমাদের এখানে বিরাট অর্থ সাশ্রয় হবে।’

ভ্যাকসিন গবেষণা সময়সাপেক্ষ উল্লেখ করে জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘ভ্যাকসিন গবেষণা অনেক সময়সাপেক্ষ। অর্থ ব্যয় করতে হয়। কিন্তু গবেষণার সুফলের উৎপাদন মূল্য খুবই কম। আজ আমাদের উচিত হবে, চীনের এই গবেষণায় সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়া। এতে যদি আমরা সফল হই, চীনের সাথে একটা চুক্তি থাকতে পারে। এর সফলতার ৫০ শতাংশের মালিক হবে বাংলাদেশ। জনগণের স্বার্থ রক্ষিত হবে।’

‘এই চক্রান্ত নিয়ে আমাদের গবেষণার প্রয়োজন, আলোচনা প্রয়োজন। আমি আশা করি, আপনারা এই বিষয়টা ব্যাপকভাবে আলোচনা করবেন। আমি আগেই বলেছি, গবেষণা করান। গবেষণা করার অনুমতি দেয়ার মালিক বিএমআরসি, বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিল। তারা অনুমতি দিয়েছে। হঠাৎ, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সেটা বন্ধ করে দিচ্ছে। এ থেকে প্রমাণ হয়, কী রকম চক্রান্তের দিকে আমরা যাচ্ছি। এখানে বিভিন্নভাবে তাদের চর-দালালরা অনুপ্রবেশ করেছে। যা তৃতীয় বিশ্বের, বাংলাদেশের তো অবশ্যই, স্বার্থবিরোধী’, যোগ করেন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

বাংলাদেশে করোনা পরিস্থিতি

বাংলাদেশে করোনাভাইরাস প্রথম শনাক্ত হয় গত ৮ মার্চ। আর এতে প্রথম মৃত্যু হয় ১৮ মার্চ। দেশে করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে ভাইরাসটিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল দুই হাজার ৮৭৪ জনে। একই সময়ে করোনায় আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন আরও দুই হাজার ৫২০ জন। ফলে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল দুই লাখ ২১ হাজার ১৭৮ জনে।

শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনাভাইরাস বিষয়ক বুলেটিনে এ তথ্য জানান অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।

বৈশ্বিক পরিস্থিতি

গোটা বিশ্বকে এখন মৃত্যুপুরীতে পরিণত করেছে করোনাভাইরাস। গত ডিসেম্বরে চীনের উহান শহর থেকে ছড়ানোর পর বিশ্বজুড়ে এ ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা এখন এক কোটি ৫৯ লাখ ৫৫ হাজার ছাড়িয়েছে। মৃতের সংখ্যা ছয় লাখ ৪৩ হাজারের বেশি। তবে সুস্থ হয়েছেন সাড়ে ৯৭ লাখের মতো রোগী।