বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন,প্রতিমন্ত্রী পলক

ডেস্ক রিপোর্ট,
আত্রাই নদীর পানি বাড়ায় নাটোরের সিংড়ায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। প্রতিদিনই তলিয়ে যাচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। বিপাকে থাকা মানুষের পাশে তাই ছুটে গেলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকাল থেকে সন্ধ্যা, সিংড়া উপজেলার বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন। এসময় দলীয় নেতাকর্মীরা তার সঙ্গে ছিলেন। চলনবিলের ডুবন্ত সড়ক দিয়ে মোটরসাইকেল চালিয়ে বন্যাদুর্গত এলাকা ঘুরে দেখেন। এসময় কখনও কখনও কোমর পানিতে নেমে হেঁটে দুর্গতদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং নিজ হাতে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেন পলক।
এসময় জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, ‘চলনবিলের কোন মানুষ না খেয়ে থাকবেন না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেভাবে বৈশ্বিক মহামারি মোকাবেলা করে চলেছেন, তেমনি এই বন্যায়ও আপনাদের কোন কষ্ট পেতে দেবেন না। তিনি সব ব্যবস্থা করে রেখেছেন। আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন আপনাদের সেবা করতে, পাশে থাকতে। সবসময় আপনাদের পাশেই থাকবো।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘দেশব্যাপী করোনা সংক্রমণে কর্মহীন সাধারণ মানুষ যখন দিশেহারা, ঠিক সেই মুহূর্তে বন্যায় মানুষের দুর্ভোগ চরমে। সিংড়া উপজেলার ১২টির মধ্যে ইতোমধ্যে ৮টি ইউনিয়ন এবং পৌরসভার লক্ষাধিক মানুষ বন্যাকবলিত। দুর্দশাগ্রস্ত ও পানিবন্দি মানুষের আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে আসতে ও তাদের কাছে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিতে স্থানীয় আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগসহ সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। শুধু তাই নয়, বন্যার কারণে উপজেলার যেখানেই কোনও সমস্যার কথা জানা যাচ্ছে, সঙ্গে সঙ্গে সেই ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’
পলক বলেন, ‘বন্যার পানির স্রোতের টানে উপজেলার বিলহালতি ত্রিমোহনী কলেজের সামনের রাস্তা ভেঙে যাতায়াত বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় তা রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে।’
এরআগে, সিংড়া উপজেলার লালোর ইউনিয়নের জনসাধারণের চলাচলের সুবিধার্থে ১৩টি নৌকা বিতরণ করেন পলক। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন জেলা প্রশাসক মো. শাহরিয়াজ, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক গোলাম রাব্বী,সিংড়া ইউএনও নাসরিস বানু,পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী গোলাম মোস্তফাসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতরা।
এসময় আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, ‘বানের পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চলনবিলেন দুর্গম কয়েক গ্রামের মানুষ এখন পানিবন্দি। তাদের চলাচলের একমাত্র বাহন এখন নৌকা।’ পরে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে চাল,ডাল ও শুকনো খাবার সহ পানি বিশুদ্ধ করন ট্যাবলেট বিতরণ করা হয়