রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান প্রতারক সাহেদের অপকর্মের হোতা নাজিম উদ্দিন

ফাইল ছবি

করোনার নমুনা পরীক্ষা নিয়ে ভুয়া রিপোর্ট দেওয়ার মামলায় গ্রেপ্তার রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. সাহেদ ওরফে সাহেদ করিমের অনেক অপকর্মের হোতা নাজিম উদ্দিন বলে জানা গেছে।

দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র জানায়, প্রতারক সাহেদের অপকর্মের হোতা নাজিম উদ্দিন। তিনি রিজেন্ট গ্রুপের ট্রান্সপোর্ট শাখার জিএম ছিলেন। মূলত রিজেন্ট গ্রুপের জন্য প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাসসহ অন্যান্য যানবাহন সরবরাহ করতেন তিনি। অনেকের কাছ থেকে ভাড়ায় গাড়ি এনে তা আর ফেরত না দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে নাজিমের বিরুদ্ধে। এ ছাড়া সাহেদের প্রভাবে অন্যান্য অপরাধে জড়িয়ে পড়েছিলেন নাজিম।

জানা যায়, উত্তরায় রেইনবো নামে একটি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র রয়েছে। মাদকসেবী হিসেবে সেখানে চিকিৎসা নিতেন নাজিম। এরপর ওই প্রতিষ্ঠানের এক প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সাহেদকে সেখানে নিয়ে যান তিনি। পরে যৌথ মালিকানাধীন রেইনবো থেকে একজন মালিককে কৌশলে সরিয়ে ওই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম মালিক বনে যান নাজিম। এ ছাড়া একজন ব্যাংক কর্মকর্তার মামলায় নাজিম একবার ডিবি পুলিশের হাতেও গ্রেপ্তার হন। ওই সময় তাকে সহায়তা করেন সাহেদ। তবে সাহেদ এবার ধরা পড়ায় নিজেকে বাঁচানোর জন্য পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন নাজিম। সাহেদের মাধ্যমে তিনিও ভুক্তভোগী বলে দাবি করেন।

সাহেদের অপকর্মের তথ্য জানতে র‌্যাব যে হটলাইন চালু করেছে সেখানে মঙ্গলবার পর্যন্ত ১৫০টি অভিযোগ জমা পড়েছে। তার মধ্যে ১৩০টি অভিযোগ এসেছে টেলিফোনে। আর বাকি ২০টি ই-মেইলে।

এ দিকে রিজেন্ট হাসপাতালে অভিযানের পর ১৭ জনকে আসামি করে দায়ের করা মামলার তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছে র‌্যাব।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লে. কর্নেল আশিক বিল্লাহ সমকালকে বলেন, সাহেদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়ার পর ভুক্তভোগীদের আইনি পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

গত ৬ জুলাই রিজেন্ট হাসপাতালে অভিযানের পর গা-ঢাকা দেওয়া সাহেদকে গত ১৫ জুলাই সাতক্ষীরার সীমান্ত এলাকা থেকে একটি অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। র‌্যাব কর্মকর্তারা জানান, ধরা পড়ার মুহূর্তে সাহেদ নিজেকে একজন গণ্যমান্য ব্যক্তি বলে দাবি করেছিলেন।