নেপালে ওলির গদি রক্ষায় তৎপর বেইজিং, চীনা রাষ্ট্রদূতকে নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে

✍ আন্তর্জাতিক ডেস্ক

দলের ভেতরে ও বাইরে তার বিরোধী হাওয়া। ক্রমশ কোণঠাসা হতে হতে প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলির গদি টলোমলো করছে। এমন সময়ে তার গদি রক্ষায় তৎপর বেইজিং। বলা ভালো, কূটনৈতিক রীতি-নীতি ভুলে ওলিকে বাঁচাতে আসরে নেমেছেন কাঠমাণ্ডুতে চীনের রাষ্ট্রদূত হোউ ইয়ানকি।

নেপালের শাসক দলে ওলি-বিরোধী শিবিরের পাশাপাশি প্রেসিডেন্ট বিদ্যাদেবী ভান্ডারির সঙ্গেও বৈঠক করেছেন চীনা রাষ্ট্রদূত। যা নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে নেপালের রাজনীতির অন্দরমহলে।

আর পাঁচজন রাষ্ট্রদূতের থেকে আলাদা এই ইয়ানকি। সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয় এই নারী প্রায়ই নেপালি তরুণীর সাজে নিজের ছবি পোস্ট করেন। একইসঙ্গে দুনিয়ার কাছে কাঠমাণ্ডু ভ্রমণের আর্জিও জানান। গত দু’বছর ধরে নেপালে রয়েছেন এই চীনা কূটনীতিক। দূতাবাসে নারী দিবসের এক অনুষ্ঠানে সোনার গয়না আর লেহেঙ্গা চোলি পরে, জনপ্রিয় নেপালি গানে নাচতে দেখা গিয়েছিল রাষ্ট্রদূতকে। যার প্রশংসা করেছিলেন খোদ প্রধানমন্ত্রী ওলি।
প্রসঙ্গত, এর আগে পাকিস্তানের চীনা দূতাবাসে ছিলেন হোউ ইয়ানকি। ইয়ানকিকে নিয়ে কার্যত ক্ষুব্ধ নেপালের কূটনৈতিক মহল। দেশটির একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেপালের এক কূটনীতিক জানান, ইয়ানকির আচরণ কূটনৈতিক রীতি লঙ্ঘন করছে। ঘরোয়া রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করছেন উনি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি ছাড়াই রাষ্ট্রপতি বা রাজনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক করছেন তিনি।

নেপালের কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য তথা তিন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী পুষ্পকমল দহল, মাধব নেপাল এবং ঝালনাথ খানাল দলের অন্দরে ওলির বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। তাদের অভিযোগ, ইচ্ছাকৃতভাবে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কে কূটনৈতিক বিপর্যয় তৈরি করছেন প্রধানমন্ত্রী। দলের নীতি-নির্ধারক স্থায়ী কমিটির বৈঠকে ৪৫ জন সদস্যের মধ্য়্য ৩০ জনই ওলির ইস্তফা চেয়েছেন বলে খবর।

এমন পরিস্থিতিতে মাধব নেপাল ও ঝালনাথ খানালের বাড়ি গিয়ে ঘণ্টাখানেক বৈঠক করেছেন চীনা রাষ্ট্রদূত হোউ। প্রধানমন্ত্রী ওলির ভবিষ্যৎ নিয়ে নেপালের কমিউনিস্ট পার্টির বৈঠক এই নিয়ে পাঁচবার ভেস্তে গেছে। আগামীকাল ফের বৈঠকে বসবে পার্টি।

পররাষ্ট্র বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, গত বছর নেপাল সফরে গিয়েছিলেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। আর তারপর থেকেই কাঠমাণ্ডুতে অত্যন্ত প্রভাবশালী হয়ে উঠেছেন চীনা রাষ্ট্রদূত। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে কাঠমাণ্ডু পোস্টের সম্পাদকের বিরুদ্ধে ‘চীন-বিরোধিতার’ অভিযোগ এনেছিলেন রাষ্ট্রদূত ইয়ানকি। নেপাল বিষয়ক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, ভারতের তিনটি এলাকা লিম্পিয়াধুরা, কালাপানি ও লিপুলেখকে নেপালের মানচিত্রে জুড়ে সংবিধান সংশোধন বিল পাশ করানোর ওলি সরকারের পরিকল্পনার পিছনেও সক্রিয় ছিলেন চীনা রাষ্ট্রদূতের।

সূত্র : এই সময়।