সাহেদের মামলার তদন্তভার নিতে চায় র‍্যাব

✍ ডেস্ক রিপোর্ট করোনাভাইরাস টেস্টের নামে প্রতারণার অভিযোগে গ্রেপ্তার রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান সাহেদ করিমের মামলার তদন্তভার নিতে চায় পুলিশের এলিটফোর্স বাহিনী র‍্যাব। এ জন্য অনুমতি চেয়ে র‍্যাবের পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদনও করা হয়েছে। আবেদনটি রবিবার মন্ত্রণালয়ে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

র‍্যাব সূত্রে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত সাহেদের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা করেছে র‌্যাব। তাই সাহেদের মামলার তদন্তভার নিতে চেয়ে গত বৃহস্পতিবার পুলিশ সদরদপ্তরের মাধ্যমে ওই আবেদন করা হয়।

শনিবার দুপুরে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিক বিল্লাহ।

আশিক বিল্লাহ বলেন, ‘মামলা তদন্তের জন্য একটি আইনগত প্রক্রিয়া আছে। বিশেষ করে মামলা তদন্তের জন্য অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়। এই বাস্তবতায় আমরা মামলাটি তদন্তের জন্য পুলিশ সদরদপ্তরের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছি। সেটা সম্ভবত সদরদপ্তরে আছে। কালকে (রবিবার) অফিস খুললে হয়ত সেটা মন্ত্রণালয়ে পৌঁছাবে।’

গত ৬ জুলাই রাজধানীর উত্তরায় রিজেন্ট হাসাপাতালে অভিযান চালায় র‌্যাব। করোনার এই দুর্যোগকালীন সময়ে নমুনা সংগ্রহ করা হলেও টেস্ট না করে ফলাফল দেওয়া, হাসপাতাল পরিচালনার সনদের মেয়াদ না থাকা বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যায়। পরের দিন হাসপাতালটির উত্তরা ও মিরপুরের দুটি শাখা সিলগালা এবং সাহেদসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে র‌্যাব।

মামলার পর সাহেদ ঢাকা থেকে পালিয়ে যান। দেশের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করে সবশেষ সাতক্ষীরা সীমান্ত দিয়ে দেশত্যাগের চেষ্টা করেন। বুধবার ভোরে ভারতে পালানোর প্রস্তুতির সময় সাহেদকে অস্ত্র ও গুলিসহ গ্রেপ্তারের কথা জানায় র‌্যাব। পরে তাকে নিয়ে উত্তরায় তার অফিসে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ জাল টাকা জব্দ করা হয়। এই ঘটনায় সাহেদের বিরুদ্ধে উত্তরা পশ্চিম থানা ও সাতক্ষীরায় পৃথক মামলা হয়।

এদিকে রিজেন্ট হাসপাতালের বিরুদ্ধে করা মামলাটি উত্তরা পশ্চিম থানা থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ-ডিবিকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়। পরে সাহেদ ও রিজেন্টের এমডি মাসুদ পারভেজকে গ্রেপ্তারের পর ওই দিনই তাদেরকে ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে সাহেদ ও রিজেন্ট গ্রুপের এমডি পারভেজ ১০দিনের রিমান্ডে আছেন।

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী জানাচ্ছে, সাহেদ শুধু হাসপাতাল নিয়েই প্রতারণা করেননি। বালু, পাথর, সিমেন্ট সাপ্লাইয়ের নামে অনেকের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। লাখ টাকা আটকে মানুষকে হয়রানি করেছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, সাহেদের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগে ৫৭টির বেশি মামলা আছে। এছাড়া টঙ্গী, তুরাগ ও উত্তরাতে রিকশা-ভ্যানের লাইসেন্স দিয়ে মাসিক ও এককালীন টাকা আদায় করতেন তিনি।

র‌্যাব জানিয়েছে, সাহেদের বিভিন্ন অনিয়ম ও প্রতারণার অভিযোগ প্রতিনিয়ত আসছে। তার মাধ্যমে আরও যারা প্রতারিত হয়েছেন, তারা যাতে আমাদের তথ্য দিয়ে সহায়তা করতে পারেন সেজন্য একটি হটলাইন নম্বর খোলা হয়েছে। এছাড়া ই-মেইলের মাধ্যমেও র‌্যাবকে তথ্য দেওয়া যাবে।

র‌্যাবের ইনভেস্টিগেশন উইং, র‌্যাব সদরদপ্তর। মোবাইল- ০১৭৭৭-৭২০২১১। এছাড়া ইমেইল- [email protected]