আসন্ন ঈদে সমাগম এড়ানো না গেলে সংক্রমণ উচ্চমাত্রায় যাবে: কাদের

ফাইল ছবি

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘আপনারা জানেন, সংক্রমণের লাগাম টেনে ধরা যাচ্ছে না। নমুনা পরীক্ষায় আক্রান্তের সংখ্যা একদিন কমলে, আবার পর দিন বাড়ছে। বিশেষজ্ঞগণ বলছেন, আসন্ন ঈদে সমাগম এড়ানো না গেলে সংক্রমণ উচ্চমাত্রা পৌঁছে যাবে।’

শনিবার (১৮ জুলাই) এক ভিডিও বার্তা তিনি এসব কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ঈদে সরকার গণপরিবহন চলাচল অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিন্তু স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদ যাত্রায় প্রত্যেকে নিজের সুরক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। পশুর হাট, লঞ্চ, বাস, রেলস্টেশন, শপিংমলসহ বিভিন্ন জায়গায় আমাদের সামাজিক দূরত্ব মানা সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে। মাস্ক পরিধান অবশ্যই করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘জীবনকে সুরক্ষা দেয়ার জন্য জীবিকা অর্জনে, চলাচল যেনো জীবনহানির ঝুঁকিতে না পড়ে, সেদিকে আমাদের সর্বোচ্চ খেয়াল রাখতে হবে। এবিষয়ে পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের মনে করিয়ে দিতে চাই; ঈদে গণপরিবহন বন্ধের সুপারিশ ছিল, কিন্তু শেখ হাসিনার সরকার স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার শর্তে, জনস্বার্থে গণপরিবহন চলাচলের সুযোগ দিয়েছে। এই সুযোগের সৎ ব্যবহার করবেন আপনারা এটাই আশা করি।’

বিএনপির নাম উল্লেখ না করে সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘শুরু থেকেই একটি মহল সরকারের বিরুদ্ধে বিষোদগার করাকে দেশও জনগণের প্রতি তাদের দায়িত্ব পালনের ব্রত হিসেবে বেছে নিয়েছে। দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে সরকারের চলমান অভিযানকে সমর্থন, সহযোগিতা না দিয়ে বরং অন্ধ সমালোচনায় মেতে উঠেছে।’

তিনি বলেন, ‘সরকার নাকি পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে অনিয়মকারীদের। প্রশ্রয় দিচ্ছে দুর্নীতিবাজদের। আমি জানতে চাই আপনাদের সময় তো দুর্নীতি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছিলো, ছিলো দুর্নীতিবাজদের অভায়ারণ্য। তখন কি এধরণের সাহসী উদ্যোগ নিতে পেয়েছিলেন? শাস্তি দিতে পেরেছিলেন? আপন দলের অপকর্ম কারীদের। পেরেছিলেন দলীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে কিছু করতে, পারেননি।’

চলমান অভিযান প্রসঙ্গে সড়কমন্ত্রী বলেন, ‘চলমান অভিযান অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে। দেশরত্ন শেখ হাসিনা স্বপ্রণোদিত হয়ে নিজ উদ্যোগে এসব অভিযান পরিচালনা করছেন। কোন দল বা মহল থেকে এসব অনিয়মের কথা আগে তুলে ধরা হয়নি। সরকারই উদঘাটন করেছে এবং কঠোরভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। এতে বোঝা যায় অনিয়মের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনা কঠোর অবস্থানে।’

তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনার কাছে কোনো অনিয়ম-দুর্নীতি প্রশ্রয় পাবে না। দুর্নীতিবাজদের কোন দলীয় পরিচয় নেই। শেখ হাসিনা সরকার এদেশের জন মানুষের প্রত্যাশাকে প্রাধান্য দেয়। যারা জনস্বাস্থ্যের বিরুদ্ধে ব্যক্তি স্বার্থ সুরক্ষার অপপ্রয়াস চালাবে, তারা যেই হোক, যে ক্যাম্পে অবস্থান করুক তাদের রক্ষা নেই। জনগণের কাছে তাদের জবাব দিহিতা করতে হবে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, এদেশের রাজনীতিতে সততার প্রতিক বঙ্গবন্ধুর পরিবার, তাই সরকার ও শেখ হাসিনার অর্জন গুটিকয়েক ব্যক্তির লোভের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হতে হতে পারে না।

বন্যা ক্রমশ ছড়িয়ে পড়ছে তাই অসহায় বন্যার্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে দলীয় নেতাকর্মীদেরও আহ্বান জানান সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী।