৩ দিনের রিমান্ড শেষে, ফের ২ দিনের রিমান্ডে ডা. সাবরিনা

করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষা না করেই রিপোর্ট দেওয়াসহ বিভিন্ন জালিয়াতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা কামানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার জেকেজি হেলথকেয়ারের চেয়ারম্যান ডা. সাবরিনাকে ফের দুই দিনের রিমান্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। শুক্রবার ঢাকা মহানগর হাকিম মাসুদুর রহমানের আদালত এই আদেশ দেন।

এর আগে তিন দিনের রিমান্ড শেষে তাকে আদালতে হাজির করে ডিবি পুলিশ। পরে সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তেজগাঁও থানার করা প্রতারণার মামলায় তাকে ফের পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করে ডিবি পুলিশ। শুনানি শেষে আদালত এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে গত ১৩ জুলাই সাবরিনাকে আদালতে হাজির করে চারদিনের রিমান্ডে চেয়েছিল পুলিশ। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম শাহিনুর রহমান তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

জেকেজির দুর্নীতির সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করে আসা ডা. সাবরিনাকে গত ১২ জুলাই দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনারের (ডিসি) কার্যালয়ে টানা আড়াই ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

এছাড়া গ্রেপ্তার হওয়ার পর এই চিকিৎসককে সাময়িক বরখাস্ত করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। তিনি জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের কার্ডিয়াক সার্জারি বিভাগের রেজিস্ট্রার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

এদিকে, গত ২৪ জুন জেকেজির গুলশান কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী ও ডা. সাবরিনার স্বামী আরিফ চৌধুরীসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এর পর গত ১৫ জুলাই জেকেজি হেলথকেয়ারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আরিফুল হক চৌধুরী ও তার সহযোগী সাঈদ চৌধুরীর ফের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। বর্তমানে তারা রিমান্ডে আছেন। এর আগে মামলাটিতে গত ২৪ জুন এই দুই আসামিসহ বিপ্লব দাস ও মামুনুর রশীদের দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। ওই দিন এ চক্রের মূল হোতা হুমায়ুন কবির এবং তার স্ত্রী তানজীনা পাটোয়ারী আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। তারা কারাগারে আছেন। গত ২৭ জুন চার আসামিকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়।

উল্লেখ্য, জেকেজি হেলথ কেয়ার থেকে ২৭ হাজার রোগীকে করোনা টেস্টের রিপোর্ট দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১১ হাজার ৫৪০ জনের করোনার নমুনা আইইডিসিআরের মাধ্যমে সঠিক পরীক্ষা করানো হয়েছিল। বাকি ১৫ হাজার ৪৬০ জনের ভুয়া রিপোর্ট তৈরি করা হয়, যা জব্দ করা ল্যাপটপে পাওয়া গেছে।