মেসি ম্যাজিকে কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা

0
95
মেসি ম্যাজিকে কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা

রাউন্ড অফ সিক্সটিনে লিওনেল মেসি ও জুলিয়ান আলভারেজের গোলে অস্ট্রেলিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়েছে আর্জেন্টিনা। দারুণ এই জয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে গেলো লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা। সেখানে তাদের প্রতিপক্ষ নেদারল্যান্ডস। 

আহমাদ আলি বিন স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরুতে খেলা তেমন একটা জমে উঠেনি। তবে ৩৫ মিনিটে জাদুকরী সেই মুহূর্তের জন্ম দেন মেসি।  নিকোলাস ওতামেন্দির পাস থেকে দারুণভাবে জালের ঠিকানা খুঁজে নেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক। প্রথমে অবশ্য ফ্রি-কিক নিয়েছিলেন। কিন্তু তা প্রতিরোধ করে অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু আর্জেন্টিনা বলের দখল নিতে সময় নেয়নি। মাক আলিস্তার বল বাড়িয়ে দেন ওতামেন্দিকে। প্রথম স্পর্শেই সেটা মেসিকে বাড়িয়ে দেন তিনি। নিচু কর্নার দিয়ে বলকে জায়গামতো পৌঁছে দেন আলবিসেলেস্তে ফরোয়ার্ড।

বিশ্বকাপ ইতিহাসে সবমিলিয়ে  আর্জেন্টিনার হয়ে এটি নবম গোল মেসির। ছাড়িয়ে গেছেন কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনাকে। ১০ গোল নিয়ে তার সামনে আছেন কেবল গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতা। তবে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এবারই প্রথম গোল করলেন এই ফরোয়ার্ড। চলতি আসরে এটি তার তৃতীয় গোল।

বিরতির পর ম্যাচের ৫২ মিনিটে গোল খেতে খেতে বেঁচে যায় আর্জেন্টিনা। নিকোলাস ওটামেন্ডি ব্যাক পাস দিয়েছিলেন গোলকিপার এমিলিয়ানো মার্টিনেজকে। মন্থর পাস। অজি স্ট্রাইকার এগিয়ে এলে কোনওরকমে পরিস্থিতি সামাল দেন আর্জেন্টিনা গোলরক্ষক।

এর ঠিক ৫ মিনিট পর এমন এক ভুলে গোল খেয়ে বসে অস্ট্রেলিয়া। গোলকিপারকে ব্যাক পাস দিয়েছিলেন অজি ডিফেন্ডার। গোলকিপার রায়ানের উচিত ছিল বল দ্রুত ক্লিয়ার করা। সেটা না করে মেসি, আলভারেজদের মধ্যে দিয়ে বলটি তিনি কী করতে চেয়েছিলেন সেটা নিজের কাছেই বোধহয় পরিষ্কার ছিলেন না। তার পা থেকে বল নিয়ে ফাঁকা গোলে ঢুকিয়ে দেন জুলিয়ান আলভারেজ।

ম্যাচের ৭৬ মিনিটে আত্মঘাতী গোল আর্জেন্টিনার। বক্সের বেশ বাইরে থেকে গোল মুখে শট নিয়েছিলেন গডউইন। এনজো ফার্নান্দেজের মুখে লেগে বল জড়িয়ে যায় জালে, আত্মঘাতী গোল। বলের গতিপথ পরিবর্তন হয়ে যাওয়ায় কেবল তাকিয়ে দেখা ছাড়া আর কিছুই করার ছিল না গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজের।

এক গোল পরিশোধের পর আরও মরিয়া হয়ে ওঠে অজিরা। ম্যাচের ৮০ মিনিটে প্রায় সমতায় ফিরেই যাচ্ছিল অস্ট্রেলিয়া। আজিজ বেহেচি শট নিয়েছিলেন গোলপোস্টে মার্টিনেজের গায়ে লেগে বল চলে যায় বাইরে।

শেষ ১০ মিনিটে আক্রমণের বন্যা বইয়ে দেয় অজিরা। ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন তারা। মার্টিনেজকে গোলপোস্টের নিচে একাই পেয়েছিলেন কুলো। শট নিয়েছিলেন সোজাসুজি। বল ঠেকিয়ে দেন মার্টিনেজ, বেঁচে যায় আর্জেন্টিনা। আর কোনো গোল না হলে ২-১ ব্যবধানের দারুণ জয় নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা। কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ নেদারল্যান্ডস।