চা শ্রমিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করলেন প্রধানমন্ত্রী

0
290
চা শ্রমিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করলেন প্রধানমন্ত্রী

মৌলভীবাজারের চা শ্রমিকদের সাথে এই প্রথম সরাসরি প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে কথা বলেছেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চা শ্রমিকদের উদ্দেশ্য করে বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু আপনাদের নাগরিকত্ব দিয়েছিলেন আর আমি আপনাদের ঘর করে দিব। চা বাগান হলো দেশের সৌন্দর্য এই শিল্পকে বাচিয়ে রাখতে হবে। চা শ্রমিকদের সাথে আমাদের একটা গভীর সম্পর্ক রয়েছে। বঙ্গবন্ধু প্রথম চা শ্রমিক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছিলেন। সেই সময় তিনি চা শ্রমিক ও চা শিল্পকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য কাজ করেছেন। বঙ্গবন্ধু সংবিধানের মধ্যেমে চা শ্রমিকদের ভোটাধিকার ও নাগরিকত্ব নিশ্চিত করেন। আওয়ামী সরক্রের আমলে চা উৎপাদন বাড়ানোর জন্য পঞ্চগড়ে চা বাগান তৈরি করা হয়। তিনি আরও বলেন, চা শ্রমিকেরা মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অনেক ভূমিকা রেখেছে। চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নের কথা চিন্তা করে তাদের মজুরি বাড়ানো হয়েছে। বাংলাদেশের মানুষ যেন কষ্ট না থাকে সে জন্য আমরা অন্ন-বস্ত্র, চিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি।

শনিবার (০৩ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪ টায় কমলগঞ্জ উপজেলার পাত্রখোলা চা বাগানের দলই ভ্যালি মাঠ থেকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জেলার ৯২টি চা বাগানের শ্রমিকেরা ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হন। এ সময় জেলার অন্যান্য উপজেলার চা বাগানে তিনটি করে  প্রজেক্টরেরে মাধ্যমে পুরো ভিডিও কনফারেন্সটি দেখানো হয়। এ ছাড়া  হবিগঞ্জের চন্ডিছড়া চা বাগান, সিলেটের লাক্কাতুরা চা বাগান ও চট্টগ্রামের কর্নফুলী চা বাগানের শ্রমিকদের সাথে ভিডিও কনফারেন্সে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।
ভিডিও কনফারেন্সে শ্রমিকেরা দৈনিক মজুরি ১২০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৭০ টাকা করায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
প্রধানমন্ত্রীর সাথে আলাপ কালে চা শ্রমিক গিতা পাইনকা বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি আপনার বাবার মতো আমাদের পাশে আছেন। আপনি আমাদের মা জননী, আপনি মজুরি বৃদ্ধির জন্য যে কষ্ট করেছেন এর জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। আপনি আমাদের কষ্ট বোঝার জন্য ধন্যবাদ।
চা শ্রমিকদের সাথে এই প্রথম সরাসরি কথা বলায় মৌলভীবাজারের শ্রমিকেরা আনন্দ প্রকাশ করেছেন। তাঁরা  বলেছেন প্রধানমন্ত্রী যদি মজুরি বৃদ্ধির উদ্যোগ না নিতেন তাহলে তাদের মজুরি ৫০ টাকা বৃদ্ধি হতনা।
পাত্রখোলা চা বাগানে প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও কনফারেন্স উপস্থিত ছিলেন কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল আসনের সংসদ সদস্য উপাধ্যক্ষ ড. মো. আব্দুস শহীদ, মৌলভীবাজার সদর- রাজনগর আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি নেছার আহমেদ, মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মিসবাহুর রহমান, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাকারিয়া, কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক রফিকুর রহমান, কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিফাত উদ্দিন, বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের উপদেষ্টা রামভজন কৈরি, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নিপেন পালসহ বিভিন্ন ভ্যালীর সভাপতি- সম্পাদক, বাগানের পঞ্চায়েত নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি ও আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ ও প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, এর আগে বেতন বাড়ানোর দাবিতে টানা ১৯দিন আন্দোলন করছিলেন দেশের সকল চা বাগানের শ্রমিকেরা। চা শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে গত ২৭ আগস্ট মালিকদের সঙ্গে গণভবনে বৈঠকে বসেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৈঠকে বাগান মালিকদের সাথে আলাপ করে চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ১২০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৭০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে প্রায় ১৯ দিন পর থেকে বাগানে কাজে ফিরেন আন্দোলনরত চা শ্রমিকরা। তবে আন্দোলনের শুরু থেকেই তারা প্রধানমন্ত্রীর সাথে কথা বলার আগ্রহ প্রকাশ করে আসছেন। পরে চা শ্রমিকদের মজুরি ১৭০ টাকা নির্ধারণের পর চা শ্রমিকদের খোঁজখবর নিতে তাদের সঙ্গে বৈঠক করার কথা জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউস।