প্রখ্যাত আলেম রুহুল আমিন মাদানীকে ধর্মমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়ার দাবী

Add your HTML code here...

এনামুল হক, ত্রিশাল (ময়মনসিংহ)

প্রখ্যাত আলেমেদ্বীন বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবীদ আলহাজ¦ হাফেজ মাওলানা রুহুল আমিন মাদানীকে ধর্মমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার দাবী জানিয়েছেন আলেম উলামা, ত্রিশাল তথা ময়মনসিংহবাসী। রুহুল আমিন মাদানী ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল) আসন থেকে আওয়ামীলীগের দলীয় মনোনয়ন পেয়ে দুইবারের নির্বাচিত জাতীয় সংসদ সদস্য। ত্রিশালে আওয়ামীলীগের দলীয় রাজনীতিতে এক ব্যাক্তি দুইবার দলীয় মনোনয়ন পাওয়া একমাত্র সংসদ সদস্য তিনিই। ২০১৯ মালের নির্বাচনে তিনি দলীয় প্রতীক নৌকা নিয়ে প্রায় দুই লক্ষ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন বিএনপি প্রার্থীকে। সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর দলীয় সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁকে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত করেন।
সম্প্রতি ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ-এর আকস্মিক মৃত্যুতে যেমন মন্ত্রনালয়টিতে বইছে শোক অপরদিকে মন্ত্রনালয়টিও রয়েছে শূন্য। দাবী উঠেছে ধর্মমন্ত্রনালয়ের দায়িত্ব একজন ধর্মীয় ব্যক্তিত্বকে দেওয়ার। নাম উঠেছে হাফেজ মাওলানা রুহুল আমিন মাদানী এম.পির।
১৯৫২ সালের ২ফেব্রæয়ারী ত্রিশাল উপজেলার সদর ইউনিয়নের পাঁচপাড়া গ্রামের মরহুম হোসাইন আলী ও মরহুমা জহুরা খাতুনের ঘরে জন্ম গ্রহণ করেন সাংসদ মাদানী। শিক্ষাগত যোগ্যতার দিক থেকে তিনি ছোট কালেই পবিত্র কুরআনুল কারীম মুখস্ত করেন। পরবর্তিতের তিনি বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষাবোর্ডর অধীনে ফাজিল (বি.এ) শেষ করেন। উচ্চ শিক্ষার জন্য সৌদি আরবের মদিনা বিশ^বিদ্যালয় থেকে এম.এ তাফসির বিভাগে অধ্যায়ন করে ১ম বিভাগ অর্জণ করে ওই বিশ^বিদ্যালয়ে বাংলাদেশের মর্যাদা সমুন্নত রাখেন। পরে তিনি লাহোর থেকে ডাবল দাওরায়ে হাদীস (মুহাদ্দিস) শেষ করে স্বীকৃতি অর্জন করেন। বাংলা, ইংরেজী, আরবী, হিন্দী, উর্দূসহ বিভিন্ন ভাষায়ও রয়েছে সাংসদ মাদানীর পন্ডিত্ব। বাংলাদেশ ও ধর্মীয় বিষয় নিয়ে তিনি মালয়েশিয়া, গ্রেট ব্রিটেন, সৌদি আরব, মিশর, কুয়েত, আরব আমিরাত, ইরান, কাতার, ভারতসহ ১৩টি রাষ্ট্রে সফর করেন। রাজনৈতিক কর্মকান্ডে সাংসদ মাদানী ১৯৯৬ সালে নৌকা প্রতীক নিয়ে প্রথম নির্বাচনে ত্রিশাল আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তিতে তিনি আওয়ামীলীগের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মনোনীত হন। সবশেষ ২০১৯ সালের নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁকে ধর্ম মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত সংষদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি নির্বাচিত করেন।
বর্তমানে সামাজিক কর্মকান্ডের মাঝে তিনি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ^বিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য, ইসলামী আরবী বিশ^বিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য, ভালুকা-ত্রিশাল মৈত্রী ডিগ্রী কলেজের সভাপতি, ত্রিশাল মহিলা ডিগ্রী কলেজের সভাপতি, একক প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ত্রিশাল কারিগরি ও বাণিজ্যিক কলেজ, মাদানী ওয়েল ফেয়ার ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা। এছাড়াও তিনি আরো অনেক সামাজিক দায়-দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
ত্রিশালের বিশিষ্ট আলেম অধ্যক্ষ মাওলানা নজরুল ইসলাম বলেন, সাংসদ রুহুল আমিন মাদানী ধর্মমন্ত্রী করার দাবী জানাচ্ছি। কারন তিনি একজন প্রখ্যাত আলেম। একই সাথে তিনি বিভিন্ন ভাষায় পারদর্শী। তিনি দেশের বাহিরেও বিভিন্ন দেশের সাথে উনার রয়েছে ঘনিষ্ট সম্পর্ক।
বাঘাদারিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার সুপার মাওলানা সোলায়মান বলেন, আমাদের ত্রিশালের জনপ্রিয়নেতা হাফেজ রুহুল আমিন মাদানী, তিনি একজন বিশিষ্ট আলেম হিসেবেও স্বীকৃত। আমরা উনাকে ধর্মমন্ত্রী হিসাবে দেখতে চাই। আশাকরি প্রধানমন্ত্রী আমাদের আশা পূরণ করবেন।
উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক আলহাজ¦ আবুল কালাম বলেন, আমরা একজন প্রখ্যাত আলেম জনপ্রিয় শীর্ষ নেতাকে দ্বিতীয় বার রেকর্ড পরিমান ভোট দিয়ে এমপি নির্বাচিত করেছি। ১৯৯৬ সালে এলাকার ব্যাপক উন্নয়ন করে উন্নয়নের রূপকার হিসাবে ভ‚ষিত হয়েছেন মাদানী। বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশরতœ জননেত্রী শেখ হাসিনার নিকট ত্রিশাল তথা বৃহত্তর ময়মনসিংহবাসীর জোর দাবি তিনি যেন রুহুল আমীন মাদানীকে ধর্মমন্ত্রী করে সর্ব স্তরের মানুষের আশা পূরন করেন।
ত্রিশাল উপজেলা কৃষকলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সফির উদ্দিন শেখ বলেন, ত্রিশাল আসনটি নৌকার ঘাটি হিসাবে পরিচিত। এইজন্যই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার জন জরিপে জনপ্রিয়তা দেখেই মাদানীর ওপরই আস্থা রেখে নৌকার মাঝি করায় তিনি বিপুল ভোটে নির্বাচিত হন। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে এই প্রথম ত্রিশাল আসনে রুহুল আমিন মাদানী দ্বিতীয়বার এমপি নির্বাচিত হয়ে জনগনের ভালোবাসায় আসনটি বঙ্গবন্ধু কন্যাকে উপহার দিয়েছেন। এ আসনের সাধারন মানুষ মাদানীকে ধর্মমন্ত্রী হিসেবে মন্ত্রী পরিষদে দেখতে চায়।