’ ডা. মঈনকে স্যালুট মাশরাফির

করোনার বিরুদ্ধে লড়ে শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কাছে হার মানতে হলো ডা. মো. মঈন উদ্দীনকে। টানা ৯ দিন করোনার সঙ্গে যুদ্ধ করে বুধবার ভোরে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান ‘গরিবের এই চিকিৎসক’।

মঈন উদ্দীন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক। তার মৃত্যুতে গোটা দেশে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। করোনার বিপক্ষে প্রথম সারির যোদ্ধা ছিলেন তিনি।

জাতির ক্রান্তিকালে অকাতরে নিজেকে বিলিয়ে দেয়ায় ডা. মঈন উদ্দীনকে ‘বীরযোদ্ধা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন জাতীয় দলের সদ্য সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা।

দেশবাসীর মতো তার মৃত্যু ছুঁয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক এবং বর্তমান সংসদ সদস্যের (নড়াইল-২) মনন ও হৃদয়ও।

মানবসেবায় নিবেদিত প্রাণ এ চিকিৎসকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের যথার্থ ভাষা নেই ম্যাশের। নিরুপায় হয়ে শ্রদ্ধা-সম্মান জ্ঞাপনার্থে এ বীরযোদ্ধাকে স্যালুট জানিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে সবিস্তারে মাশরাফি লিখেছেন, ‘সবাইকে শোকে ভাসিয়ে চলে গেলেন এক মহৎ প্রাণ ডাক্তার! করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গতকাল সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক মানবিক ডা. মো. মঈন উদ্দীন চলে গেলেন না ফেরার দেশে! তিনি ছিলেন করোনাভাইরাস প্রতিরোধে ফ্রন্টলাইনের যোদ্ধা। তার এ মৃত্যু হৃদয় বিদীর্ণ করার মতো।

নড়াইল এক্সপ্রেস লেখেন, বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসের ছোবলে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশও আক্রান্ত। দেশের এ মহাক্রান্তিকালে ডা. মঈন উদ্দীন ছিলেন দেশের মানুষের জন্য আত্মোৎসর্গীকৃত। মৃত্যুর আগমুহূর্ত পর্যন্ত একজন মানবসেবী হিসেবে মানুষের সেবা করে গেছেন তিনি। নিজের জীবনের সর্বোচ্চ ঝুঁকি নিয়ে মানুষকে চিকিৎসাসেবা দিয়ে গেছেন। মানুষের প্রতি, দেশের প্রতি তার এ আত্মত্যাগ শব্দ-বাক্যে প্রকাশের মতো নয়। মানবতার জয়গান গাওয়া ক্রান্তিকালের এ যোদ্ধাকে নিশ্চয়ই গোটা জাতি আজীবন পরম শ্রদ্ধায় স্মরণ করবে।

মাশরাফি আরও লেখেন, আমি তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। সবশেষে আমি এ বীরযোদ্ধাকে জানাচ্ছি-স্যালুট।