আবার ভাইরাল আত-তাহেরী, ❛ঢেলে দেন— ভালোবাসা ঢেলে দেন❜

পীর মুফতি গিয়াস উদ্দিন আত্ব-তাহেরী, ফয়েজীয়া দরবার শরীফ ব্রাহ্মণবাড়ীয়া।

মুফতি গিয়াস উদ্দিন আত-তাহেরী; আলোচিত-সমালোচিত ইসলামি বক্তা। ধর্ম বিষয়ক ওয়াজ মাহফিলে তার বক্তৃতা একদিকে যেমন তাকে আলোচনায় এনেছে, তেমনি সমালোচনার কাঠগড়ায়ও দাঁড় করিয়েছে। তার ❛ঢেলে দেই❜ উক্তি নিয়ে সারাদেশে অনেক মাতামাতি হয়েছে।

দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সরকারি নির্দেশনায় হোক কোয়ারেন্টিনে থাকার জন্যে তিনি এপ্রিলের ১ তারিখ থেকে ১৫ তারিখ পর্যন্ত ২৭টি ওয়াজ মাহফিল স্থগিত করেছেন। নিজের ফেসবুক পেজে করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে জনসচেতনতামূলক বিভিন্ন বার্তা শেয়ার দিচ্ছেন। এরবাইরে দেশ কার্যত লকডাউনে থাকার কারণে অসহায় মানুষদের পাশে ত্রাণ নিয়েও দাঁড়িয়েছেন।

জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার মাছিহাতা ইউনিয়নের চাপইর গ্রামের দিনমজুরদের সন্ধ্যার পর প্রত্যেকের ঘরে ঘরে ত্রাণ পৌঁছে দিচ্ছেন মুফতি গিয়াস উদ্দিন তাহেরী।

তিনি বলেন, প্রত্যেক সামর্থবানরা নিজ নিজ গ্রামে দান করলে আমার মনে হয় কেউ আর অনাহারে থাকবে না। আমি আমার গ্রামের দিনমজুরদের তালিকা তৈরি করেছি। সে অনুযায়ী সন্ধ্যার পরে ঘরে ঘরে ত্রাণ পৌঁছে দিয়ে আসছি।

তিনি আরও বলেন, দানের বিষয়টা আসলে বলা ঠিক না। আমি বলতে চাই, এই মহামারী এটা কতদিন থাকবে বলা যাচ্ছে না। এখনই শেষ না। আমি গত ৫ দিন ধরে পরিকল্পনা করেছি কীভাবে আমার গ্রামের মানুষদের সহায়তা করবো। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আমি ত্রাণ দিয়েছি, দিচ্ছি। সামনে আরো সময় আছে, সেভাবেই আমি এগোব।

এদিকে, মুফতি গিয়াস উদ্দিন আত-তাহেরীর এই ত্রাণ বিতরণের স্থিরচিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। মানুষের প্রতি ইসলামি এই বক্তার এই ভালোবাসায় আপ্লুত হয়েছেন অনেকেই। অনেকেই এনিয়ে অপরাপর অনেক বক্তার সঙ্গে তাহেরীর তুলনা করে তার স্বাতন্ত্র্যের প্রশংসা করেছেন।

লেখক জহিরুল হক বাপী ফেসবুকে লিখেন, এ জীবনে কোন হুজুরকে মানুষের পাশে দাঁড়াতে দেখি নাই। ঝড়, বন্যা, রাজনৈতিক গোলযোগে এদেশের মানুষ বারবার বিপদে পড়েছে। কিন্তু আমার মনে পড়ে না কোন হুজুরকে ঐ সব বিপদের দিনে মানুষের পাশে দাঁড়াতে দেখছি। মানুষকে ❛ইহকাল কিছু না পরকালই সব❜ এ বাণী দিয়ে মানুষকে পরকালমুখী করে হুজুরেরা মানুষের কাছ থেকে শুধু নিয়েছে এবং ইহকালে নিজের আরাম আয়েশের ব্যবস্থা করছে। অনেক হুজুর আছে কোটি কোটি টাকার মালিক। কিন্তু তারা নিয়মিতই দান নিয়েছে।

করোনা বিপদে এই প্রথম দেখলাম কোন হুজুর দান করছেন। মানুষের বিপদে অর্থ ও শারীরিক ভাবে এগিয়ে এসেছেন। শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা আপনার জন্য তাহেরী হুজুর। দেন ঢেলে দেন— মানুষের জন্য ভালোবাসা ঢেলে দেন। আল্লাহতায়ালা যেন আপনার উপর তার রহমত আরও ঢালেন।

শেখ আজাদ ন্যাশনালী লিখেন, তাহেরী সাহেব হোক আলেম সমাজের আলোকবর্তিকা। স্যালুট বস।

প্রগতিশীল রাজনৈতিক কর্মী বাপ্পাদিত্য বসু ফেসবুকে লিখেন, আমার প্রিয় তা‌হেরী হুজুর আছেন মানুষের পাশে। #ThankYouTaheriHujur

আব্দুর রব লিখেন, সঠিক নিয়ম মেনে মুখে মাস্ক হাতে গ্লাভস লাগিয়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ালেন মুফতি গিয়াস উদ্দিন আত-তাহেরী। ধন্যবাদ, এই সময়ে মানুষের অনেক ক্ষুধা। জামাতি প্রোডাক্ট আজহারী, আমির হামজা, তারেক মনোয়ার ওসবে নেই, গুজব ছড়াতে ব্যস্ত।

প্রগতিশীল আন্দোলনের সাবেক কর্মী সুদীপ্ত বিশ্বাস বিভু ফেসবুকে লিখেন, একজন রুবানা হকের চাইতে একজন তাহেরী অনেক বড় মনের মানুষ। তাহেরী জানেন মানুষ কাঁদলে কিভাবে মানুষের পাশে এসে দাঁড়াতে হয়, ভেসে দাঁড়াতে হয়, ভালোবেসে দাঁড়াতে হয়।

শিহাব উদ্দীন টুটুল লিখেন, যেখানে ভণ্ডরা ধর্মব্যবসা করে কোটি কোটি টাকা নিয়ে মালয়েশিয়া পালিয়ে গিয়েছে সেখানে সুন্নীয়তের পতাকাবাহী মাওলানা গিয়াস উদ্দিন তাহেরী জাতির এই ক্রান্তিলগ্নে মানবতার সেবায় এগিয়ে এসেছেন। আশাকরি ধর্ম ব্যবসায়ীদের চোখ খুলবে এবং ওয়াজের নামে মানুষকে বিভ্রান্ত না করে মানবসেবায় এগিয়ে আসবে।

আবু মুসা ভুঁইয়া স্বপন নামের একজন ফেসবুকে লিখেন, তাহেরী সাহেব ইজ রিয়েল! মালয়েশিয়া চলে যাননি তিনি। টাকার বিনিময়ে ইসলাম সেবা করার নামে সরকারের বিরুদ্ধে অসচেতন জনগণকে উসকিয়ে দিয়ে লক্ষ কোটি টাকা কামিয়ে ব্যাংকে জমা করে নিজে আত্মগোপন করেননি। হোম কোয়ারেন্টিনে বেকার হওয়া দিনমজুর, হতদরিদ্র ও খেটে খাওয়া মানুষের পাশে নিজ উদ্যোগেই এইভাবে পাশে এসে দাঁড়ালেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনাধারী একজন ওয়াজিন, মুফতি- তিনি মুফতি গিয়াস উদ্দিন আল-তাহেরী। আগে মানুষ তারপর ধর্ম- তাহেরী সাহেবই ইসলামের পক্ষে সত্যিকারের বর্ম!