করোনা নারায়ণগঞ্জে : ২০৮ পরিবার লকডাউনে

নারায়ণগঞ্জে আরো এক ব্যক্তি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত বলে সনাক্ত হয়েছে। তিনি ঢাকার বাসিন্দা এবং মানিকগঞ্জের তাবলীগ জামাত থেকে ফিরে শনিবার নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার লামাপাড়া এলাকায় মেয়ের বাড়িতে এসে উঠেন। পরে তিনি অসুস্থ্য হয়ে পড়লে রাতে আইডিসিআর নমুনা সংগ্রহ করে নিয়ে যায়। রোববার দুপুরে তার করোনা টেস্টের রিপোর্টে পজেটিভ সনাক্ত হয়। এ খবর পেয়ে দুপুর দুইটার দিকে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদা বারিক, জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মেহেদি ইমরান সিদ্দিকী, ফতুল্লা থানার ওসি আসলাম হোসেনসহ স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মনিরুল আলম সেন্টু ঘটনাস্থলে যান।
পরে ইউএনও নাহিদা বারিক হ্যান্ড মাইকে স্বপ্নানীড় নামের ওই বাড়ির লোকজনকে সতর্ক করে দেন। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদা বারিক বাড়ির আটটি পরিবারসহ আশপাশের আরো দুইশ’ পরিবারকে লকডাউন ঘোষণা করেন।
সদর ইউএনও নাহিদা বারিক জানান, মো: বাকী নামের করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তিকে আইডিসিআর এর তত্ত¡াবধানে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী বাড়িটিসহ মোট ২০৮ পরিবারকে লকডাউন করা হয়েছে। লকডাউনে থাকা এই পরিবারগুলোর খাবারসহ নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী উপজেলা প্রশাসন সরবরাহ করবে।
এছাড়া জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের মাধ্যমে বাড়িটির আট পরিবারের সকল সদস্যদের হোম কোয়ারেন্টাইন করা হবে। এই লকডাউন বাস্তবায়ন করতে পুলিশ ইতিমধ্যে সব রকম প্রক্রিয়া শুরু করেছে বলে জানান জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মেহেদি ইমরান সিদ্দিকী।
এর আগে শনিবার সদর উপজেলার ফতুল্লা থানার কাশীপর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সুচিন্তানগর এলাকার বাসিন্দা হোসিয়ারি ব্যবসায়ি আবু সাইদ (৬০) করোনায় আক্রান্ত হয়ে কুর্মিটোলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। পরে রাতে সদর ইউএনও ওই এলাকার ৩০০ পরিবারকে লকডাউন ঘোষণা করেন। তবে নারায়ণগঞ্জে প্রথম ৩০ মার্চ করোনা উপসর্গ নিয়ে ঢাকার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে মারা যান নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার রসুলবাগ এলাকার পুতুল বেগম (৫০) নামের এক নারী। ঘটনার দুইদিন পর ২ এপ্রিল তার নমুনা পরীক্ষায় করোনা আক্রান্তের বিষয়টি সনাক্ত হয়।