হোম কোয়ারেন্টাইনে রুনা লায়লা

✍ বিনোদন ডেস্ক রিপোর্ট

লন্ডন থেকে দেশে ফিরে হোম কোয়ারেন্টাইনে সঙ্গীতশিল্পী রুনা লায়লা। ঢাকার আসাদ অ্যাভিনিউতে নিজ বাড়িতে স্বেচ্ছায় কোয়ারেন্টাইনে আছেন তিনি।

দেড় মাস লন্ডনে বেড়ানোর পর গত ১৬ মার্চ দুপুরে ঢাকায় ফেরেন উপমহাদেশের প্রখ্যাত এই সঙ্গীতশিল্পী। মার্চের ২৭ তারিখ এবং এপ্রিলে দুটি স্টেজ শো করার কথা ছিল রুনা লায়লার। কিন্তু করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে এসব শো বাতিল করেছেন তিনি।

এদিকে করোনাভাইরাস সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করতে ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন রুনা লায়লা। সেখানে তিনি লিখেছেন, ‘করোনাভাইরাসের কারণে পুরো পৃথিবী এখন একটা সংকটময় পরিস্থিতি পার করছে। আমাদের সবাইকে এই ভাইরাসের ভয়াবহতা উপলব্ধি করতে হবে। একে প্রতিরোধের সব পদক্ষেপ নিতে হবে। শুধু নিজেকে নয়, চারপাশের সবাইকে বিষয়টি সম্পর্ক সচেতন করতে হবে। ঘরে এবং বাইরে আমাদের সবাইকে সরকারের নির্দেশনা ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সব নিয়মকানুন মেনে চলতে হবে।’

‘সম্প্রতি যিনি বিদেশ ভ্রমণ করে ফিরেছেন, তাকে হোম কোয়ারেন্টাইনে যেতে হবে এটা নিশ্চিত করতে হবে। তাদের সংস্পর্শে এসে কেউ যেন ভাইরাসে আক্রান্ত না হয় সেটা নিশ্চিত করতে হবে। এই মুহূর্তে কোনো ধরনের জনসমাগমে যাওয়া মোটেও ঠিক হবে না। দেশ ও পৃথিবীর একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে আমার দায়িত্ব ও কর্তব্য হচ্ছে, এই ধরনের ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া, সুরক্ষার ব্যবস্থা নেওয়া।’

‘যুক্তরাজ্য থেকে ফিরে আমার নিজের শরীরে কোনো ধরনের উপসর্গ না থাকা সত্ত্বেও আমি স্বেচ্ছায় আমার পরিবার আর গৃহকর্মীদের নিয়ে ১৪ দিনের হোম কোয়ারেন্টাইনের নির্দেশ মেনে চলছি। আমার পরিবারের অন্য সদস্য এবং স্টাফরা এই নিয়ম মেনে চলছে। সবাই একবার ভাবুন। সতর্ক থাকুন এবং সবকিছু থেকে নিজেকে নিরাপদে রাখুন, অন্যদেরও নিরাপদে রাখুন। সৃষ্টিকর্তা সবার মঙ্গল করুন।’
জানা গেছে, স্বেচ্ছায় হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা রুনা লায়লা গান শুনে, বই পড়ে সময় কাটাচ্ছেন। পরিচিতজনদের সবার খোঁজ-খবরও নিচ্ছেন তিনি।

রুনা লায়লা বলেন, আমি যেহেতু দেশের বাইরে লম্বা সময় ধরে ছিলাম, তাই নিজে থেকে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। দেশে ও বিদেশের সবাইকে একটা বার্তা দেওয়ার জন্য এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

রুনা লায়লা আরো বলেন, আমাদের দেশের অনেকে এখনো করোনাভাইরাসের ভয়াবহতার বিষয়টা বুঝতে পারছে না। সারা পৃথিবীতে এই করোনাভাইরাস কতটা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে, তা আমরা কিন্তু দেখছি। আমাদের দেশেও কী হবে, তা আমরা বুঝতে পারছি না। আমাদের সবাইকে করোনাভাইরাস নিয়ে সাবধান থাকতে হবে। আমার মধ্যে কিন্তু করোনার কোনো উপসর্গ ছিল না। দেশের বাইরে ছিলাম বলে নিজে থেকে হোম কোয়ারেন্টাইন বেছে নিয়েছি। আমি চাই, মানুষ সচেতন হোক। করোনাভাইরাস প্রতিরোধে যেসব পদ্ধতি অনুসরণ করা উচিত, তা যেন সবাই মেনে চলে। সবাই যেন নিজেকে নিরাপদে রাখে, অন্যকেও নিরাপদে রাখে এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নয়তো আমরা আরও খারাপ পরিস্থিতির মুখোমুখি হব। আমাদের সবাইকে যে কোনো সমাবেশ, জনসমাগম এড়িয়ে চলতে হবে। কোনো আড্ডায় যাওয়া চলবে না।