ফেসবুক দৈনিক দশ লাখ ভুয়া অ্যাকাউন্ট ডিলিট করে

ফাইল ছবি

✍ ডেস্ক রিপোর্ট
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত কড়াকড়ি করা হলে মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ণ করা হবে দাবি করেছেন ফেসবুকের প্রধান মার্ক জুকারবার্গ।

তিনি মন্তব্য করেন ফেসবুকে বিপজ্জনক অনলাইন কন্টেন্ট বন্ধ করা অথবা কোন বক্তব্য ‘আইনসম্মত ও বৈধ’ কিনা সেটি বিচার করা ফেসবুকের মত কোন প্রতিষ্ঠানের কাজ নয়। এ বিষয়টি সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রকেই ব্যবস্থা নিতে হবে বলে।
তিনি বলেছেন, ‘এটি বন্ধে বিভিন্ন রাষ্ট্রকে আরও কঠোর আইন প্রণয়ন করতে হবে।’

জার্মানির মিউনিখে নিরাপত্তা বিষয়ক এক সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

জুকারবার্গ বলেন, ‘সমাজে সমতার ভারসাম্য রক্ষার কাজটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার বদলে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান নেবে এমনটা চাইনা আমরা। তার বদলে সরকারকেই সামাজিক মাধ্যম নিয়ন্ত্রণের জন্য নতুন আইন প্রণয়ন করতে হবে।’

তিনি মনে করেন, ‘বর্তমানে প্রচলিত টেলিকম ও মিডিয়া কোম্পানি আইনের মিশেলে হতে পারে সেই আইন। সে ধরণের একটি আইন প্রণয়ন হবার আগ পর্যন্ত আমরা আমাদের সর্বোচ্চটুকু করতে থাকবো।’

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অনলাইনে মিথ্যা খবর ও গুজব ছড়ানো বন্ধের জন্য ফেসবুকের মত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ওপর চাপ বাড়ছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন বিষয়ে ফেসবুকের নীতির কারণে সংস্থাটি ব্যাপক সমালোচনার শিকার হয়েছে।

ফলে প্রতিষ্ঠানটি ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রে এবং পরের বছর সারা বিশ্বের জন্য রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন বিষয়ে নতুন নীতিমালা চালু করে।

নীতিমালার মধ্যে অন্যতম ছিল, নির্দিষ্ট ঐ প্রচারণার জন্য অর্থ প্রদানকারীর নাম-পরিচয় বিজ্ঞাপনে উল্লেখ করতে হয়, এবং ঐ বিজ্ঞাপনের একটি কপি জনসম্মুখে সার্চ করা যায় এমন ডাটাবেজে পরবর্তী সাত বছর পর্যন্ত সংরক্ষণ করা হয়।

কিন্তু এ সপ্তাহে ফেসবুক ঘোষণা দিয়েছে, সোশ্যাল মিডিয়ার তারকাদের স্পন্সর করা রাজনৈতিক পোষ্ট সংস্থাটির ডাটাবেজে আর সংরক্ষণ করা হবে না। তাছাড়া কোম্পানির নীতি অনুযায়ী রাজনীতিবিদদের পোষ্টগুলোর সত্য-মিথ্যাও সবসময় যাচাই করা হয়না। যে কারণে ঐ সম্মেলনে তিনি আইন কঠোর করার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

ফেসবুক প্রধান বলেন, ‘চলমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ৩৫ হাজার কর্মীর একটি দল রয়েছে ফেসবুকের, যাদের কাজ প্রতিটি কন্টেন্টের মূল্যায়ন এবং এর নিরাপত্তার দিকটি খতিয়ে দেখা। কৃত্রিম বুদ্ধির সাহায্যে সংস্থাটি প্রতিদিন দশ লাখের বেশি ভুয়া অ্যাকাউন্ট ডিলিট করে।’
তিনি জানান, ‘কন্টেন্ট রিভিউ করা জন্য এখন আমাদের যে বাজেট, তা ২০১২ সালে যখনপুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হই সে সময় কোম্পানির মূল আয়ের চেয়ে বেশি। সে সময় আমাদের ব্যবহারকারী ছিল একশো কোটি মানুষের মত।’সূত্র : বিবিসি বাংলা