যশোর-৬ আসনে চলছে আ.লীগের প্রচারণা, মাঠে নেই বিএনপি

✍ ডেস্ক রিপোর্ট
যশোর-৬ কেশবপুর আসনের উপ-নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীদের গণসংযোগ, মিছিল, মিটিং চলছে জোরেশোরেই। তবে তবে অন্যান্য দলের মতো কোনো রাজনৈতিক তৎপরতা নেই বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের। এমনকি নির্বাচনী এলাকায় নেই কোন প্রচারণাও।

জানা যায়, কয়েকদিনের মধ্যেই উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে। সাবেক প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেকের মৃত্যুতে আসনটি শূন্য হয়। এখন পর্যন্ত সম্ভাব্য যেসব প্রার্থীর তৎপরতা চোখে পড়ছে তাদের প্রায় সবাই আওয়ামী লীগের।

সাম্প্রতিক নির্বাচনগুলোয় বিএনপি অংশ নিলেও এ আসনের উপনির্বাচনে এখন পর্যন্ত দলটির তেমন তৎপরতা চোখে পড়েনি। সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মরহুম এ এস এইচ কে সাদেক ও তাঁর সহধর্মিণী মরহুম ইসমাত আরা সাদেকের মেয়ে প্রকৌশলী নওরিন সাদেক, বিখ্যাত চিত্রনায়িকা শাবানার স্বামী ওয়াহিদ সাদিক, যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সদর উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন চাকলাদারের তৎপরতাই বেশি দেখা যায়।

তা ছাড়া প্রার্থিতার দৌড়ে আছেন কেশবপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এস এম রুহুল আমিন, সহসভাপতি এইচ এম আমির হোসেনও। যদিও ১১ ফেব্রুয়ারি কেশবপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে এক সভায় এ আসনের উপনির্বাচনে শাহীন চাকলাদারের প্রতি সমর্থন জানানো হয়।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এস এম রুহুল আমিনের সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হলেও সেখানে সহসভাপতি এইচ এম আমির হোসেন উপস্থিত ছিলেন না।

তবে স্থানীয় আওয়ামী লীগের বেশির ভাগ নেতা-কর্মী-সমর্থক মনে করছেন, দীর্ঘদিন ধরে এ আসনটিতে এলাকার ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন করা হচ্ছে না। এলাকার নেতা-কর্মী-সমর্থকদের সুখে-দুঃখে পাশে থেকে যেসব নেতা যুগের পর যুগ রাজনীতি করে আসছেন তারা বঞ্চিত হচ্ছেন। দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মাটি ও মানুষের সঙ্গে যাদের সম্পর্ক নেই, এলাকায় থাকেন না, এমন লোকদের মনোনয়ন দেওয়া হচ্ছে এ আসনে। এর ফলে স্থানীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক অবস্থাও দুর্বল হচ্ছে ক্রমাগত। তাই স্থানীয়রা চান, এবার যেন এলাকার নেতাদের মধ্য থেকেই দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়।

জানা গেছে, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এস এম রুহুল আমিন ও সাধারণ সম্পাদক গাজী গোলাম মোস্তফা উপজেলা আওয়ামী লীগের বড় একটি অংশ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন। তারা সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী হিসেবে শাহীন চাকলাদারকে সমর্থন দিচ্ছেন।

অন্যদিকে সহসভাপতি তপন কুমার ঘোষ মন্টু ও তার অনুসারীরা সমর্থন দিচ্ছেন ইসমাত আরা সাদেকের কন্যা প্রকৌশলী নওরিন সাদেককে। দুই পক্ষই তাদের প্রার্থীদের সমর্থনে ক্রমাগত এলাকায় মিছিল, মিটিং করে চলেছেন।

অপরদিকে চিত্রনায়িকা শাবানার স্বামী ওয়াহিদ সাদিকের সঙ্গে রয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল হালিম ও তার অনুসারীরা।

এদিকে সাম্প্রতিককালে উপনির্বাচনগুলোয় বিএনপি অংশ নিলেও এ আসনে দলটির সম্ভাব্য প্রার্থীদের তেমন কোনো তৎপরতা এখনো চোখে পড়েনি। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে প্রথমে উপজেলা বিএনপি সভাপতি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আবুল হোসেন আজাদ, কেন্দ্রীয় কমিটির ধর্মবিষয়ক সহসম্পাদক অমলেন্দু দাস অপু এবং কেশবপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র আবদুস সামাদকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। পরে আবুল হোসেন আজাদকে দলের চূড়ান্ত প্রার্থী করা হয়।

দলীয় সূত্রগুলো বলছেন, এবারও এ তিনজনই দলের মনোনয়ন চাইবেন। যদিও বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যাপারে সংশয় প্রকাশ করেছেন, তার পরও বলেছেন, দল মনোনয়ন দিলে তারা এ উপনির্বাচনে অংশ নেবেন।

কেন্দ্রীয় নেতা অমলেন্দু দাস অপু সম্প্রতি স্থানীয় প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে নিজের প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছার কথা জানান। আবুল হোসেন আজাদ রাজধানীর বাসিন্দা হলেও নিয়মিত এলাকায় আসা-যাওয়া করেন। তার সঙ্গে এলাকার নেতা-কর্মীদের সম্পর্কও অনেকটা ভালো। দল মনোনয়ন দিলে তিনি সবাইকে সঙ্গে নিয়েই এ নির্বাচনে অংশ নেবেন বলে জানান।

১৯৭৯ সালে সংসদ নির্বাচনে যশোর-৬ আসনে নির্বাচিত হন বিএনপির প্রার্থী গাজী এরশাদ আলী। এরপর ১৯৮৬ সালে নির্বাচিত হন স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল হালিম।

১৯৮৮ সালের নির্বাচনে জয়ী হন জাতীয় পার্টির আবদুল কাদের। ’৯১-এর নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন জয়ী হন। ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে পরপর দুবার এ আসন থেকে আওয়ামী লীগের এ এস এইচ কে সাদেক বিজয়ী হয়েছেন।

এরপর ২০০৮ সালে আসন এলাকা পুনর্বিন্যস্ত করার কারণে এ আসনে নির্বাচিত হন অভয়নগরের আবদুল ওহাব। পরে আবার আসন পুনর্বিন্যাস হলে ২০১৪ ও ২০১৮ সালে নির্বাচনে এ আসন থেকে ইসমাত আরা সাদেক সংসদ সদস্য হন।