বিশ্বযুদ্ধের সতর্কতা পুতিনের

✍ আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান উত্তেজনা বিশ্বযুদ্ধে রূপ নিতে পারে বলে সতর্কতা জানিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। বুধবার মস্কোতে সংসদের বার্ষিক অধিবেশনে বক্তৃতাকালে এ উদ্বেগের কথা জানান রুশ প্রেসিডেন্ট।

পুতিন বলেন, চলমান মধ্যপ্রাচ্য সঙ্কট নিরসনে এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিতে গুরুতর আলোচনা জরুরি। মানবজাতির বিকাশের প্রশ্নে এ ক্ষেত্রে বিশেষভাবে পরমাণু অস্ত্রসমৃদ্ধ ৫ দেশ- রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যকে দায়িত্ব নিতে হবে। ‘(মধ্যপ্রাচ্যের) আঞ্চলিক সংঘর্ষ দ্রুত আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে। বিশ্বের শৃঙ্খলা রক্ষা, স্থিতি ও নিরাপত্তার জন্য ব্যাপক গুরুত্ব দিয়ে আলাপ-আলোচনা করা প্রয়োজন। যুদ্ধ বাঁধাতে পারে এমন কারণ নিরসনে পরমাণু অস্ত্রসমৃদ্ধ দেশগুলোকে কাজ করতে হবে।’

এর পরপরই রাশিয়া যে কোনো ধরনের যুদ্ধপরিস্থিতি মোকাবিলায় সক্ষম উল্লেখ করে পুতিন বলেন, মস্কো বর্তমানে নিরাপদ, কারণ আমাদের আছে সর্বাধুনিক অস্ত্র, যা আর কারও নেই। যদিও আমাদের আরও উন্নত অস্ত্র প্রস্তুত করতে হবে। ‘তবে রাশিয়া কোনো দেশের জন্য হুমকি নয়। আগ্রহী যে কোনো মিত্রকে আমরা সহযোগিতা করতে চাই। জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থেই আমাদের উন্নত অস্ত্র তৈরির কাজ চালিয়ে যেতে হবে।’

অপর এক খবরে বলাহয়, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন তার ক্ষমতার মেয়াদ শেষের আগেই সংবিধানে আমুল পরিবর্তন আনার পথে হাঁটছেন। এ পরিবর্তনের জন্য দেশজুড়ে ভোটের প্রস্তাব করেছেন তিনি। দীর্ঘমেয়াদে পুতিনের ক্ষমতায় থাকার পট প্রস্তুত করতে পারে সংবিধানিক পরিবর্তনের এ পদক্ষেপ।

বিবিসি জানায়, বুধবার পুতিন এ প্রস্তাব দেওয়ার কয়েকঘন্টা পরই আকস্মিকভাবে রাশিয়ার সরকার পদত্যাগ করেছে। পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দিমিত্রি মেদভেদেভ বলেন, “প্রেসিডেন্টের এ পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে রাশিয়ায় ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় ধরনের বদল ঘটে যাবে। এতে যে কেবল সংবিধানের বিভিন্ন অনুচ্ছেদেই বদলে যাবে তাই নয় বরং নির্বাহী ক্ষমতা, আইনসভার ক্ষমতাসহ বিচারবিভাগীয় ক্ষমতার ভারসম্যেও আম‚ল পরিবর্তন ঘটবে। আর এর প্রেক্ষাপটেই বর্তমান সরকার পদত্যাগ করেছে।”

পুতিন এ ঘোষণার পর মেদভেদেভকে জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের উপপ্রধান হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন এবং ট্যাক্স সেবা প্রধান মিখাইল মিসুস্তিনকে প্রধানমন্ত্রী হিসাবে মেদভেদেভের স্থলাভিষিক্ত করেছেন। পুতিন তার ক্ষমতার মেয়াদ শেষের চারবছর আগেই সংবিধান পরিবর্তনের এ পথ বেছে নিলেন। আরটি, রয়টার্স, তাস।