বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেকের সঙ্গে গোপন সমঝোতা জামায়াতের

✍ ডেস্ক রিপাের্ট

লন্ডনে পলাতক সাজাপ্রাপ্ত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশেই এবার ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে কোন প্রার্থী দেয়নি জামায়াতে ইসলামী। বিএনপির নেতৃত্বাধীন বিশদলীয় জোটের অন্যতম সহযোগী জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে ঢাকার সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনী কৌশল নিয়ে কথা বলেছেন তারেক রহমান। গোপন সমঝোতা হওয়ার পরই এবার ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র বা কাউন্সিলর কোন পদেই দলীয় প্রার্থী কিংবা স্বতন্ত্র হিসেবে কোন প্রার্থী দেয়নি জামায়াতে ইসলামী। জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মী, ক্যাডার, সমর্থকদের বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী মাঠে ঝাঁপিয়ে পড়ে বিজয় ছিনিয়ে আনার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন তারেক রহমান। বিএনপির প্রার্থীরা নির্বাচনে বিজয়ী হতে পারলে প্রথমেই কারাবন্দী সাজাপ্রাপ্ত বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি করবেন এমন তথ্য পেয়েছে গোয়েন্দা সংস্থা। গোয়েন্দা সংস্থার সূত্রে এ খবর জানা গেছে। গোয়েন্দা সংস্থার সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে এবার কৌশল গ্রহণ করেছে জামায়াত-শিবির। নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে গোপন তৎপরতা শুরু করেছে বিএনপির নেতৃত্বাধীন বিশদলীয় জোটের অন্যতম এই সংগঠনটি। সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন সামনে রেখে এক ঢিলে দুই পাখি মারছে জামায়াত-শিবির। এক দিকে সরকারের রোষানল থেকে বাঁচতে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেনি এই দলটি। অপরদিকে জামায়াত-শিবিরের ভোট বিএনপির প্রার্থীর বাক্সে পড়ার সুবিধা হবে সেই কৌশল নিয়েছে বিএনপির অন্যতম মিত্র সংগঠন জামায়াত-শিবির। গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে এই ধরনের তথ্য উঠে এসেছে।

গোয়েন্দা সংস্থার সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে এবার বিশদলীয় জোটের অন্যতম সহযোগী জামায়াতে ইসলামী আনুষ্ঠানিকভাবে কোন প্রার্থী দেয়নি। প্রকাশ্যে বিএনপিকে সমর্থন না দিলেও নেতাকর্মী, সমর্থকদের গোপনে বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার কৌশল নিয়েছে দলটি। জামায়াত-শিবিরসহ ইসলামী দলগুলোর কাছে ইতোমধ্যেই নির্বাচনে সহযোগিতা চেয়েছে বিএনপি। তবে কৌশলগত কারণে বিএনপির পক্ষে প্রকাশ্যে সমর্থন দেয়া থেকে বিরত রয়েছে জামায়াত-শিবির। গোপনে কাজ করছে তারা বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে। নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে প্রকাশ্যে বিএনপিকে সমর্থন দিতেও পারে জামায়াত এমন তথ্যও রয়েছে বলে গোয়েন্দা সংস্থার দাবি।

গোয়েন্দা সংস্থার একজন কর্মকর্তা বলেন, বিশদলীয় জোটের অন্যতম সহযোগী সংগঠন জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির একাধিক নেতা। তারা বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে বিএনপির বৈঠকে, প্রার্থীর পক্ষে জনসংযোগে অংশ নিতে অনুরোধ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে। তবে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতারা কৌশলে বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে কাজ করবেন এমন আশ্বাস দিয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে। জামায়াত-শিবিরের নেতা, কর্মী, ক্যাডার, সমর্থকদের গোপনে মাঠে নামার নির্দেশ দিয়েছে সংগঠনটি। তবে ঢাকার সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন সামনে রেখে জামায়াত-শিবিরের অভিনব নীরবতা রাজনৈতিক মহলে বিস্ময়ের সৃষ্টি করেছে বলে গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যে জানা গেছে।

গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জামায়াতে ইসলামীতে এখন নতুন নেতৃত্ব। জামায়াতের আমির ও সেক্রেটারি জেনারেল নতুন করে নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই রাজনীতির মাঠে কৌশল নিতে শুরু করেছে সংগঠনটি। বিএনপি ও জামায়াত রাজনীতির মাঠে মুদ্রার এপিঠ আর ওপিঠ বলে মনে করা হয়। তারপরও বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনে অংশ না নেয়া, বিএনপিকে প্রকাশ্যে সমর্থন না দেয়া, জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মী, ক্যাডার, সমর্থকদের তৎপরতায় গোপনীয়তা এ রহস্যের জন্ম দিয়েছে রাজনৈতিক মহলে।

গোয়েন্দা সংস্থার সূত্রে জানা গেছে, জামায়াতে ইসলামী রাজনৈতিক দল হিসেবে নিজেদের প্রার্থীর নাম ঘোষণা না করা, প্রার্থী না দেয়া এমনকি স্বতন্ত্র হিসেবেও দলটির কোন প্রার্থী না থাকায় রাজনৈতিক মহলে নানা কানাঘুষা চলছে এমন তথ্য পেয়েছে গোয়েন্দা সংস্থা। জামায়াতে ইসলামী এবারের ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র কিংবা কাউন্সিলর পদে কোন প্রার্থী দেয়নি। এমনকি তাদের দলের কোন নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থীও হননি। বিএনপি যখনই কোন নির্বাচনে অংশ নিয়েছে তার সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীকেও অংশ নিতে দেখা গেছে অতীতে। এবারই ব্যতিক্রম। তবে বিএনপির প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকরা বলে বেড়াচ্ছেন নির্বাচনের মাঠে তাদের সঙ্গে আছে জামায়াত-শিবির। কিন্তু জামায়াত-শিবিরের কোন নেতাকর্মীই এই বিষয়ে মুখ খুলছেন না।

গোয়েন্দা সংস্থার সূত্রে জানানো হয়েছে, ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন নিয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে গোপন যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে জামায়াতে ইসলামী।

গোয়েন্দা সংস্থার সূত্রে জানা গেছে, বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে, স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী দিয়েছিল জামায়াতে ইসলামী। এমনকি গত ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনেও জামায়াতে ইসলামী অংশ নিয়েছে। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জামায়েতে ইসলামীর অংশগ্রহণের ফলে বিএনপির প্রার্থীদের ভরাডুবি ঘটে। এতে বিএনপির সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক টানাপোড়েনের সৃষ্টিও হয়। এবারের ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে যাতে বিএনপির নেতৃত্বাধীন বিশদলীয় জোটের অন্যতম সহযোগী জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে কোন দূরত্ব সৃষ্টি না হয় এবং নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীর বিজয়ী হওয়ার কৌশল অবলম্বনে দুই দলই সম্মত হয়ে প্রার্থী দেয়নি জামায়াতে ইসলামী।

গোয়েন্দা সংস্থার একজন কর্মকর্তা বলেন, লন্ডনে পলাতক সাজাপ্রাপ্ত তারেক রহমানের সঙ্গে বিদেশে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন এমন জামায়াতের নেতাদের সঙ্গে গোপন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে লন্ডনে। সাজাপ্রাপ্ত কারাবন্দী খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলন হিসেবে বিএনপির প্রার্থীর বিপক্ষে কোন প্রার্থী না দিয়ে বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার জন্য জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে গোপন সমঝোতা করেছেন তারেক রহমান। তারেক রহমানের সঙ্গে লন্ডনে গোপন বৈঠকে যোগ দিয়েছেন বিদেশে অবস্থানকারী একজন ব্যারিস্টার যিনি জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতা, যুদ্ধাপরাধীর একজন নিকটাত্মীয়। লন্ডনে পলাতক সাজাপ্রাপ্ত তারেক রহমানের সবুজ সঙ্কেত পাওয়ার পরই ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন থেকে জামায়াত-শিবির সটকে পড়েছে বলে গোয়েন্দা সংস্থার দাবি।

জনকণ্ঠ