ক্যাসিনোকাণ্ডে গ্রেপ্তার দুই ভাই রিমান্ডে

✍ ডেস্ক রিপাের্ট

ক্যাসিনোকাণ্ডে দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর গ্রেপ্তার গেন্ডারিয়া থানা আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা এনামুল হক এনু ও তার ভাই রূপন ভূইয়ার চার দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।

মানিলন্ডারিং আইনের পৃথক দুই মামলায় মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর হাকিম রাজেশ চৌধুরী এ রিমান্ডের আদেশ দেন।

এদিকে দুই ভাইয়ের আশ্রয়দাতা এবং ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের কর্মচারী শেখ সানি মোস্তফার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে একই আদালত।

রিমান্ডকৃত ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের শেয়ার হোল্ডার এনু গেন্ডারিয়া থানা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এবং তার ভাই রূপন ভূইয়া যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

এর আগে সোমবার সকালে আসামিদের ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি।

ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে গত বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর এনামুল হক এনু ও রূপনের বাসায় অভিযান চালায় র‌্যাব। অভিযানে এনুর বাসা থেকে নগদ ৮৮ লাখ ৩৫ হাজার ৮০০ টাকা এবং এক কোটি ২০ লাখ টাকা মূল্যমানের দুই কেজি নয়শ আট দশমিক ৯৫ গ্রাম ওজনের ১৯ প্রকার স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করা হয়।

অন্যদিকে রূপনের বাসা থেকে নগদ ১৭ লাখ ১৬ হাজার ৩০০ টাকা এবং দুই কোটি ৫০ লাখ টাকা মূল্যমানের স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করা হয়। পরে ওই ঘটনার পর এনু ও রূপনের বিরুদ্ধে সূত্রাপুর, ওয়ারী এবং গেন্ডারিয়া থানায় একটি মানিলন্ডারিং, অবৈধ সম্পদ অর্জনসহ বিভিন্ন অভিযোগে সাতটি মামলা দায়ের করা হয়।

মঙ্গলবার আসামি এনুর এবং সনি মোস্তফার গেন্ডারিয়া থানার মানিলন্ডারিং আইনের মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির ইন্সপেক্টর মেহেদী মাকসুদ দশ দিন করে রিমান্ড আবেদন করেন।

অন্যদিকে একই কর্মকর্তা সূত্রাপুর থানার মানিলন্ডারিং আইনের মামলায় আসামি রূপনের দশ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।

আসামিপক্ষে অ্যাডভোকেট শাম্মী আক্তার ও অ্যাডভোকেট ওসমান গণি রিমান্ড বাতিলপূর্বক জামিনের আবেদন করেন।

শুনানি শেষে বিচারক জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে দুই ভাইয়ের চার দিন করে এবং সনি মোস্তফার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

সিআইডি কর্মকর্তারা বলছেন, ক্যাসিনোর অন্ধকার জগৎ তাদের কাছে ধরা দেয় অনেকটা আলাদিনের চেরাগ হয়ে। পুরান ঢাকার কয়েকটি বেসরকারি ব্যাংকের শাখায় এনু ও রূপনের নামে একের পর এক হিসাব খোলা হয়। সবচেয়ে বেশি হিসাব খোলা হয় ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক ও স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকে। তাদের দৃশ্যমান কোনো আয়ের উৎস নেই। তবুও পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় এনু-রূপনের ১৯টি বাড়ি ও একাধিক প্লট রয়েছে।

এনামুল হক এনু ও রূপন ভূঁইয়ার ৩৫ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের খোঁজ পাওয়ার পর গত ২৩ অক্টোবর পৃথক দুই মামলা দায়ের করে দুদক। এনামুল হক এনুর বিরুদ্ধে ২১ কোটি ৮৯ লাখ ৪৩ হাজার টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করেন দুদকের সহকারী পরিচালক মামুনুর রশীদ চৌধুরী।

অন্যদিকে অসৎ উদ্দেশ্যে অবৈধ পন্থায় নামে-বেনামে ১৪ কোটি ১২ লাখ ৯৫ হাজার ৮৮২ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে রূপন ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে দুদকের অপর সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ নেয়ামুল আহসান গাজী মামলা করেন।